| ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

প্রকল্পের বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগে থুইসাইঅং মারমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জনপ্রতিনিধি ঙাংরাও ম্রো

প্রকল্পের বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগে থুইসাইঅং মারমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জনপ্রতিনিধি ঙাংরাও ম্রো

 

রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার ৪ নম্বর গালেংগ্যা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রুইফ পাড়ায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের একটি সিসি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের কোনো কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য (চাল) বরাদ্দের বিপরীতে বর্তমান ইউপি সদস্য ঙাংরাও ম্রোর নামে “রুইফ পাড়া হতে ঝিড়ি যাওয়ার রাস্তা সিসি রাস্তা নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির জন্য মোট ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গত ২৪ জুন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় কোনো ধরনের নির্মাণকাজের অস্তিত্ব নেই। সেখানে দীর্ঘদিনের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি গাছের সাঁকো এবং কাঁচা পাহাড়ি রাস্তা ছাড়া উন্নয়নকাজের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, ফলে স্থানীয়দের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, পাড়ার মানুষ এই পথ ব্যবহার করে ঝিড়ি থেকে পানি সংগ্রহ করেন। ঝিড়িতে পৌঁছানোর আগে একটি ছোট গাছের সাঁকো পার হতে হয়, যা বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায় এটি এখন “মরণফাঁদে” পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে ওই সাঁকো থেকে পড়ে কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে। এছাড়া পানি আনতে যাওয়া বৃদ্ধ নারীরাও প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, এখন সমাজের নেতা থেকে শুরু করে অনেক জনপ্রতিনিধির ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে। প্রকল্পের নামে সরকারি অফিসে কাগজপত্র দেখিয়ে বরাদ্দ নেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে কাজ হয় না। অনেক সময় প্রকল্পের বরাদ্দের সুবিধাও সাধারণ মানুষ জানতে পারে না।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য ঙাংরাও ম্রো বলেন, আমার নামে প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে শুনে আমি রুমা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের (পিআইও) সহকারী জিপঙ্করের সঙ্গে কথা বলি। তিনি আমাকে থুইসাইঅং মারমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

তিনি আরও বলেন, থুইসাইঅং মারমার সঙ্গে দেখা হলে তিনি জানান, প্রকল্পের টাকা আমাকে দেওয়া হবে না। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে সংসদ সদস্যের রুমা সফর এবং সাংগ্রাই উৎসবে অনেক ব্যয় হয়েছে। এসব কারণে প্রকল্পের অর্থ দেওয়া সম্ভব হবে না।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঙাংরাও ম্রো বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে তর্ক করেছি। আমি সংসদ সদস্যকেও বিষয়টি জানাবো। কারণ এমপি মহোদয় তো মনে করবেন আমি প্রকল্পটি পেয়েছি। তিনি কাজ দেখতে এলে আমি কী জবাব দেব?

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য থুইসাইঅং মারমার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার সহকর্মী বিপ্লব মারমা বলেন, ২৫ জুন কাজ শুরু করা হবে বলে কথা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় মেম্বার ঙাংরাও ম্রো জানান, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আজ কেউ কাজ শুরু করতে আসেননি।

এ বিষয়ে রুমা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাউছার আলী বলেন, প্রকল্পটির জন্য মোট ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২ মেট্রিক টন চাল ছাড় করা হয়েছে, যাতে কাজ শুরু করা যায়। কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সমাপ্তির ছবি ও প্রতিবেদন জমা দিলে সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাকি ২ মেট্রিক টন চাল ছাড় করা হবে। নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন না হলে অবশিষ্ট বরাদ্দ প্রদান করা হবে না এবং তা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হলে রুইফ পাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং নিরাপদে চলাচল ও পানি সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

কাউখালীতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়, তিন কলেজে পাসের হার ১০ শতাংশের নিচে

প্রকল্পের বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগে থুইসাইঅং মারমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জনপ্রতিনিধি ঙাংরাও ম্রো

নিজস্ব প্রতিবেদক | কাউখালী, রাঙামাটি

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৪০ জন। সে হিসাবে উপজেলার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলাফলের এমন হতাশাজনক চিত্রে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, কাউখালী সরকারি কলেজ থেকে ৩৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩৪ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ঘাগড়া কলেজ থেকে ৬৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৬ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এছাড়া শ্রীজোনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

শিক্ষার মান, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফলাফলের এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, ফলাফলের এমন বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যথায় আগামী দিনগুলোতে কাউখালী উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হতে পারে।

বিলাইছড়ি কলেজে পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ, জিপিএ- ৪ পেয়েছেন ২ জন

প্রকল্পের বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগে থুইসাইঅং মারমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জনপ্রতিনিধি ঙাংরাও ম্রো

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি কলেজে এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ। ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৭ জন। তবে কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। অন্যদিকে, দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৪-এর বেশি নম্বর পেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা যায়। কলেজের প্রভাষক অমৃত চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে সত্য বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.৫৮ এবং মেনাংপুরী তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.২৫ অর্জন করেছেন। কলেজের সার্বিক ফলাফলে জিপিএ-৫ না থাকলেও দুই শিক্ষার্থীর এ অর্জন আশাব্যঞ্জক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের শিক্ষার্থী কোশিক চাকমার জিপিএ-৫ অর্জন, উজ্জ্বল করল মা-বাবার মুখ

প্রকল্পের বরাদ্দ না পাওয়ার অভিযোগে থুইসাইঅং মারমার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জনপ্রতিনিধি ঙাংরাও ম্রো

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় রাঙামাটির কর্ণফুলী সরকারি কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ (এ+) অর্জন করেছে কোশিক চাকমা। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

কোশিক চাকমার পিতা প্রয়াত মিশন চাকমা এবং মাতা ননাবি চাকমা। তার গ্রামের বাড়ি রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার জামেকছড়ি গ্রামে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সে বিলাইছড়ি উপজেলায়  পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন ( অনাথ আশ্রম) থেকে লেখাপড়া ও বেড়ে উঠেছে।

নিজের এ সাফল্যে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কোশিক জানায়, তার জীবনের এ অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক পরম শ্রদ্ধেয় ভদন্ত দেবতিষ্য ভিক্ষুর। তাঁর ভালোবাসা, আশীর্বাদ, অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

এ ছাড়া তার বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে।

কোশিক জানায়, পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন শুধু তার বেড়ে ওঠার স্থান নয়, এটি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই সে শিক্ষা, ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও সুন্দরভাবে জীবন গড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছে।

তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠান তাকে আজকের অবস্থানে আসতে সহযোগিতা করেছে, সেই পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের উন্নয়নে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখা। একই সঙ্গে তার মতো অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চায় সে।

কোশিকের ভাষায়, জিপিএ-৫ শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফল নয়; এটি তার জীবনের নতুন স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে সবার আশীর্বাদ ও দোয়া কামনা করেছে কোশিক চাকমা।

×