| ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

“প্রজ্ঞা ও তারুণ্যের মিলনে আগামীর পথচলা”

“প্রজ্ঞা ও তারুণ্যের মিলনে আগামীর পথচলা”

 

‎লেখক : ‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ ……

‎একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার নবীন প্রজন্মের স্বপ্ন, সাহস ও সৃজনশীলতার ওপর। তারুণ্য হলো পরিবর্তনের অগ্রদূত, নতুন সম্ভাবনার নির্মাতা এবং আগামী দিনের পথপ্রদর্শক। অন্যদিকে প্রবীণরা সমাজের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার, প্রজ্ঞার আলোকবর্তিকা এবং নৈতিক মূল্যবোধের ধারক। এই দুই শক্তির সমন্বয়েই গড়ে ওঠে একটি সুস্থ, গতিশীল ও সমৃদ্ধ সমাজ। নবীনদের উদ্যম এবং প্রবীণদের প্রজ্ঞার মধ্যে যখন আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয়, তখনই সমাজ এগিয়ে যায় উন্নতি ও কল্যাণের পথে।
‎
‎বৌদ্ধ ধর্ম এই পারস্পরিক আস্থা ও মানবিক সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। কারণ বুদ্ধের শিক্ষা কেবল আত্মিক মুক্তির পথই নির্দেশ করে না, বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলারও দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
‎
‎বৌদ্ধ ধর্মে তারুণ্যের মূল্য ও সম্ভাবনা :
‎
‎গৌতম বুদ্ধের জীবন ও কর্ম আমাদের শেখায় যে মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারিত হয় তার বয়স দ্বারা নয়, বরং তার চরিত্র, সাধনা, জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে। বুদ্ধের অনেক প্রধান শিষ্য তরুণ বয়সেই সংঘে প্রবেশ করেছিলেন এবং অধ্যবসায়, আত্মনিয়োগ ও প্রজ্ঞার বলে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে ছিলেন।
‎
‎বুদ্ধ বিশ্বাস করতেন, প্রতিটি মানুষের অন্তরে জাগরণের অসীম সম্ভাবনা নিহিত রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে বিকশিত করার জন্য প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা,   অনুকূল পরিবেশ এবং আস্থাপূর্ণ সম্পর্ক। তাই তরুণদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা মানে কেবল তাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা নয়; বরং তাদের অন্তর্নিহিত শক্তি ও সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়া।
‎
‎আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব, জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান শক্তি। তাদের প্রতি আস্থা রাখা মানে ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা রাখা।
‎
‎মৈত্রী, করুণা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার শিক্ষা :
‎
‎বৌদ্ধ ধর্মের চার ব্রহ্মবিহার—মৈত্রী (মেত্তা), করুণা, মুদিতা এবং উপেক্ষা—মানবিক সম্পর্কের সর্বোচ্চ আদর্শ হিসেবে বিবেচিত। মৈত্রী আমাদের শেখায় সকল প্রাণীর কল্যাণ কামনা করতে, করুণা শেখায় অন্যের দুঃখ উপলব্ধি করতে, মুদিতা শেখায় অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হতে এবং উপেক্ষা শেখায় ভারসাম্যপূর্ণ ও উদার মানসিকতা ধারণ করতে।
‎
‎যখন প্রবীণরা নবীনদের প্রতি আস্থা রাখেন, তাদের চিন্তা-ভাবনাকে গুরুত্ব দেন এবং ভুল করার সুযোগসহ শেখার পরিবেশ তৈরি করেন, তখন তারা প্রকৃত অর্থেই মৈত্রী ও করুণার চর্চা করেন। একইভাবে, যখন নবীনরা প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করে এবং তাদের পরামর্শ থেকে শিক্ষা নেয়, তখন সমাজে গড়ে ওঠে পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাসের সংস্কৃতি। আস্থা ও শ্রদ্ধার এই বন্ধনই প্রজন্মের ব্যবধান দূর করে এবং সমাজকে সংঘাতের পরিবর্তে সম্প্রীতির পথে পরিচালিত করে।
‎
‎আস্থা: বিকাশের প্রথম শর্ত :
‎
‎বর্তমান সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই তরুণদের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। তাদের অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা নেতৃত্বের সুযোগ থেকে দূরে রাখা হয়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—প্রতিটি সফল মানুষই একসময় ছিল অনভিজ্ঞ, আর প্রতিটি বড় অর্জনের পেছনে ছিল শেখার দীর্ঘ পথচলা।
‎
‎বুদ্ধের শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে ভুল মানুষের স্বাভাবিক শিক্ষক। ভুলের ভয় নয়, বরং ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণই উন্নতির পথকে সুগম করে। তাই নবীনদের প্রতি অবিশ্বাস নয়, বরং সহানুভূতি, দিকনির্দেশনা এবং উৎসাহ প্রদানই হওয়া উচিত সমাজের দায়িত্ব।
‎
‎যে সমাজ তার তরুণদের ওপর আস্থা রাখতে পারে না, সে সমাজ নিজের ভবিষ্যতের ওপরও আস্থা রাখতে পারে না। কারণ আস্থাহীন পরিবেশ প্রতিভাকে সংকুচিত করে, আর আস্থাপূর্ণ পরিবেশ সম্ভাবনাকে বিকশিত করে।
‎
‎পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের করণীয় :
‎
‎একটি প্রজন্মকে গড়ে তোলার দায়িত্ব কেবল পরিবারের নয়; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে।পরিবারে সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং ভালোবাসা ও বিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে, প্রশ্ন করতে এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ করতে পারে। সমাজে তরুণদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদান করতে হবে। রাষ্ট্রের পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা, নীতিনির্ধারণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন স্তরে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং কর্মশক্তি জাতীয় উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
‎
‎ইতিহাসের আলোকবর্তিকা :
‎
‎মানব সভ্যতার ইতিহাসে যত বড় পরিবর্তন, নবজাগরণ ও অগ্রগতি ঘটেছে, তার পেছনে তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য। সমাজ যখন নবীনদের ওপর আস্থা রেখেছে, তখনই নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। আবার সেই পরিবর্তনকে সুসংহত ও স্থায়ী রূপ দিয়েছেন প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা। অতএব, উন্নয়নের প্রকৃত শক্তি কোনো একক প্রজন্মের হাতে নয়; বরং নবীনদের কর্মশক্তি এবং প্রবীণদের জীবনবোধের সম্মিলিত প্রয়াসেই নিহিত।
‎
‎উপসংহার :
‎
‎বৌদ্ধ ধর্মের আলোকে নবীনদের প্রতি আস্থা রাখা কেবল একটি সামাজিক কর্তব্য নয়; এটি মানবিকতা, মৈত্রী, করুণা এবং প্রজ্ঞার এক অনন্য প্রকাশ। তরুণদের সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে ভবিষ্যতের প্রতি আশা জাগানো, আর তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা মানে একটি উন্নত সমাজের ভিত্তি নির্মাণ করা।
‎
‎আসুন, আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি যেখানে প্রবীণদের প্রজ্ঞা হবে দিকনির্দেশনার আলো, আর নবীনদের শক্তি হবে অগ্রযাত্রার প্রেরণা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়েই নির্মিত হবে একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক, প্রগতিশীল এবং আলোকিত ভবিষ্যৎ।
‎
‎লেখক- সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ
‎গগণমাধ্যম ও সমাজ কর্মী
‎আলীকদম।

কাউখালীতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়, তিন কলেজে পাসের হার ১০ শতাংশের নিচে

“প্রজ্ঞা ও তারুণ্যের মিলনে আগামীর পথচলা”

নিজস্ব প্রতিবেদক | কাউখালী, রাঙামাটি

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৪০ জন। সে হিসাবে উপজেলার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলাফলের এমন হতাশাজনক চিত্রে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, কাউখালী সরকারি কলেজ থেকে ৩৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩৪ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ঘাগড়া কলেজ থেকে ৬৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৬ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এছাড়া শ্রীজোনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

শিক্ষার মান, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফলাফলের এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, ফলাফলের এমন বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যথায় আগামী দিনগুলোতে কাউখালী উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হতে পারে।

বিলাইছড়ি কলেজে পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ, জিপিএ- ৪ পেয়েছেন ২ জন

“প্রজ্ঞা ও তারুণ্যের মিলনে আগামীর পথচলা”

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি কলেজে এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ। ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৭ জন। তবে কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। অন্যদিকে, দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৪-এর বেশি নম্বর পেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা যায়। কলেজের প্রভাষক অমৃত চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে সত্য বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.৫৮ এবং মেনাংপুরী তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.২৫ অর্জন করেছেন। কলেজের সার্বিক ফলাফলে জিপিএ-৫ না থাকলেও দুই শিক্ষার্থীর এ অর্জন আশাব্যঞ্জক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের শিক্ষার্থী কোশিক চাকমার জিপিএ-৫ অর্জন, উজ্জ্বল করল মা-বাবার মুখ

“প্রজ্ঞা ও তারুণ্যের মিলনে আগামীর পথচলা”

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় রাঙামাটির কর্ণফুলী সরকারি কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ (এ+) অর্জন করেছে কোশিক চাকমা। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

কোশিক চাকমার পিতা প্রয়াত মিশন চাকমা এবং মাতা ননাবি চাকমা। তার গ্রামের বাড়ি রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার জামেকছড়ি গ্রামে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সে বিলাইছড়ি উপজেলায়  পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন ( অনাথ আশ্রম) থেকে লেখাপড়া ও বেড়ে উঠেছে।

নিজের এ সাফল্যে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কোশিক জানায়, তার জীবনের এ অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক পরম শ্রদ্ধেয় ভদন্ত দেবতিষ্য ভিক্ষুর। তাঁর ভালোবাসা, আশীর্বাদ, অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

এ ছাড়া তার বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে।

কোশিক জানায়, পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন শুধু তার বেড়ে ওঠার স্থান নয়, এটি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই সে শিক্ষা, ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও সুন্দরভাবে জীবন গড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছে।

তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠান তাকে আজকের অবস্থানে আসতে সহযোগিতা করেছে, সেই পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের উন্নয়নে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখা। একই সঙ্গে তার মতো অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চায় সে।

কোশিকের ভাষায়, জিপিএ-৫ শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফল নয়; এটি তার জীবনের নতুন স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে সবার আশীর্বাদ ও দোয়া কামনা করেছে কোশিক চাকমা।

×