| ৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

বীর কুমার তনচংগ্যার এভারেস্টের তিন উচ্চতম পাস সাইকেলে জয়

বীর কুমার তনচংগ্যার এভারেস্টের তিন উচ্চতম পাস সাইকেলে জয়

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি উপজেলা প্রতিনিধি;

বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেল চালিয়ে নেপালের এভারেস্ট অঞ্চলের তিনটি উচ্চতম পাস জয় করে অনন্য কীর্তি গড়েছেন রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়ন এর বাসিন্দা সাইক্লিস্ট বীর কুমার তনচংগ্যা।

তিনি ‘সি টু হিমালয়াস এক্সপেডিশন ফর অ্যাওয়ারনেস’ শীর্ষক অভিযানে তিনি প্রথম বাংলাদেশি ও প্রথম আদিবাসী সাইক্লিস্ট হিসেবে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে এভারেস্ট অঞ্চলের Kongma La, Cho La ও Renjo La পাসের চূড়ায় পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

অভিযানের সর্বশেষ ধাপে গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) নেপালের স্থানীয় সময় বিকেল ৪ টা ২৬ মিনিটে ৫ হাজার ৩৬০ মিটার উচ্চতার Renjo La Pass জয় করেন বীর কুমার। এর আগে গত ১ অক্টোবর দুপুর ১২ টা ৩৩ মিনিটে ৫ হাজার ৪২০ মিটার উচ্চতার Cho La Pass এবং ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১ টা ৫৩ মিনিটে ৫ হাজার ৫৩৫ মিটার উচ্চতার Kongma La Pass জয় করেন তিনি।

এভারেস্ট অঞ্চলের দুর্গম ও উচ্চতর তিনটি পাস সাইকেলে অতিক্রমের এ অভিযানে গত ১৪ আগস্ট বীর কুমার কক্সবাজারের জিরো পয়েন্ট থেকে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে নেপালের হিমালয় অঞ্চলে পৌঁছান। দীর্ঘ পথের নানা প্রতিকূলতা, দুর্গম পাহাড়ি পথ ও উচ্চতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি একে একে তিনটি পাসের চূড়ায় সাইকেল নিয়ে পৌঁছান।

এর আগে বীর কুমার তনচংগ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

অভিযান শেষে আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বীর কুমার তনচংগ্যা এই গণমাধ্যমকে জানান, “এই অর্জন শুধু আমার একার নয়—এটি আমার পাশে থাকা প্রত্যেক মানুষের। আপনাদের ভালোবাসা, সহযোগিতা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণাই আমার পথচলার শক্তি।”

তিনি জানান, “কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেল চালিয়ে হিমালয়ের উচ্চতায় পৌঁছানো এবং এভারেস্ট অঞ্চলের তিনটি উচ্চতম পাস জয় করা আমার জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। পথটি সহজ ছিল না। তবে বাংলাদেশের পতাকা ও নিজের এলাকার মানুষের ভালোবাসা আমাকে প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে সাহস জুগিয়েছে।

বীর কুমার তাঁর অভিযানে সহযোগিতার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ও রাঙামাটি হতে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দীপেন দেওয়ান স্যারের সার্বিক সহযোগিতা ও তাঁর কল্যাণে ভিসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এই এক্সপেডিশনে অংশ নিতে পেরেছি। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যারা আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাঁদের সবার প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”

বীর কুমার আরও জানান, “আমার এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য শুধু রেকর্ড সৃষ্টি নয়; সাইক্লিং, পরিবেশ সচেতনতা ও মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া। ‘Sea to Himalayas—Expedition for Awareness’ সেই লক্ষ্যেই আমার একটি প্রচেষ্টা। বীর কুমারের এই সাফল্য দেশের তরুণদের সাইক্লিং ও অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক কার্যক্রমে আরও বেশি উৎসাহিত করে তলবে।

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

বীর কুমার তনচংগ্যার এভারেস্টের তিন উচ্চতম পাস সাইকেলে জয়

 

সিএইচটি বার্তা ডেক্স রিপোর্ট :

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন মাসব্যাপী ‘জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে ছাত্রী হলে বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দুপুর ৩:৩০ ঘটিকায় ছাত্রী হল প্রাঙ্গণে উক্ত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও এগ্রিকালচারাল এন্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জুনাইদ কবির।

ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী বলেন, “পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি— শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ, বহু মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন এবং অনেকের জীবনে নেমে আসছে ভয়াবহ বিপর্যয়। ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্ত থাকতে সারা দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই ছাত্রী হলে আমাদের এই কর্মসূচি।” তিনি ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব চলাকালে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং নিজ নিজ চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি রাতে ও দিনে ঘুমানোর সময় বাধ্যতামূলকভাবে মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এডিস মশার বংশবৃদ্ধি হতে পারে এমন সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক ‘ডেঙ্গু মশক নিধন’ কর্মসূচির আওতায় রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩ (তিন) মাসব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ছাত্র ও ছাত্রী হলে ফগার মেশিনের সাহায্যে ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে।

আজকের এ কর্মসূচীতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন, প্রক্টর ড. মোঃ ফখরুদ্দিন, ছাত্রী হলের প্রভোস্ট জনাব সপ্তর্ষি চাকমা, সহকারী প্রভোস্ট ধ্বনিতা ত্রিপুরা, ছাত্র হলের প্রভোস্ট জি এম সাখাওয়াত হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিম মাহমুদ, ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ মতিউর রহমান চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, উপ-রেজিস্ট্রার টিংকেল খীসা, এস্টেট দপ্তরের উপ-রেজিস্ট্রার সেতু চাকমাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

লংগদুতে অবৈধ পাহাড় কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

বীর কুমার তনচংগ্যার এভারেস্টের তিন উচ্চতম পাস সাইকেলে জয়

 

লংগদু প্রতিনিধি :

রাঙামাটির লংগদুতে অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটার দায়ে মো. মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের কালু মাঝির টিলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, কালু মাঝির টিলা এলাকায় অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটার অভিযোগে মো. মিজানুর রহমানকে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা এবং তৈয়ব আলী মুন্সির ছেলে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অনুমতি ছাড়া পাহাড় বা টিলা কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে ভূমিধসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জনস্বার্থে পাহাড় কাটার মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

কাপ্তাইয়ে চাঞ্চল্যকর হাসিনা বেগম হত্যা মামলা: প্রধান আসামির ফাঁসির আদেশ

বীর কুমার তনচংগ্যার এভারেস্টের তিন উচ্চতম পাস সাইকেলে জয়

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে চাঞ্চল্যকর হাসিনা বেগম ওরফে সুমি হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ মাহিবুর কামাল প্রকাশ মোহিবুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় মৃত্যুদণ্ডের রায়।

​মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২২ সালের ১১ মার্চ সন্ধ্যায় রাঙ্গুনিয়ার দোভাষী বাজারের ভাড়া বাসা থেকে কাপ্তাই নতুন বাজারে যান হাসিনা বেগম।

পরদিন (১২ মার্চ) কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা-কাপ্তাই ইউনিয়নের বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে তার ক্ষতবিক্ষত ও আগুনে পোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনার পরদিন ১৩ মার্চ নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে কাপ্তাই থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও বাদীর নারাজিতে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। পরবর্তীতে পিবিআইয়ের দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি একই আসামির বিরুদ্ধে ফের অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

​মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং অকাট্য তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে। আসামিপক্ষ কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করতে না পারলেও আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন।মামলা পরিচালনাকারী পিপি সিনিয়র অ্যাডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা গেল যে, অপরাধ করে কেউ পার পায় না।”

অন্যদিকে, রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাসুম রহিম জানান, আসামির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুতই উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। আইনানুযায়ী এই রায়ের বিরুদ্ধে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। রাঙামাটি বিচারিক ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল এই রায় সমাজে অপরাধপ্রবণতা হ্রাসে একটি বড় বার্তা বয়ে আনবে বলে মনে করছেন আই বিশ্লেষকরা।

×