| ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

“যে জিয়া মিশে আছে জনতার স্পন্দনে, মৃত্যুর সাধ্য নেই তারে বাঁধে মরণের বন্ধনে”

“যে জিয়া মিশে আছে জনতার স্পন্দনে, মৃত্যুর সাধ্য নেই তারে বাঁধে মরণের বন্ধনে”

 

(মোঃ বাশার আজাম) আহ্বায়ক, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা, ছাত্রদল।

​ক্যালেন্ডারের পাতা ঘুরে আবারও সেই রক্তঝরা ৩০ মে। এই দিনটি এলেই যেন বাংলার আকাশ ভারী হয়ে ওঠে, থমকে যায় প্রতিটি দেশপ্রেমিকের হৃদস্পন্দন। ৪১ বছর বয়সের এক টগবগে রাষ্ট্রনায়ককে সেদিন ঘাতকের বুলেট শুধু কেড়ে নেয়নি, বিদ্ধ করেছিল এক সদ্য স্বাধীন জাতির আত্মাকে।

হে কালজয়ী মহানায়ক, আমরা সেই প্রজন্ম, যাদের আপনাকে নিজ চোখে দেখার সৌভাগ্য হইনি। কিন্তু আমরা শুনেছি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ভেসে আসা আপনার সেই বজ্রকণ্ঠের গল্প, যে কণ্ঠ একদিন দিশেহারা জাতিকে দিয়েছিল মুক্তির মন্ত্র। ধ্বংসস্তূপ থেকে পরম মমতায় আপনি গড়ে তুলেছিলেন এক নতুন বাংলাদেশ।

ঘাতকেরা ভেবেছিল আপনাকে মুছে দেবে। কিন্তু তারা জানতো না, বাংলার ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতিটি ধূলিকণায়, প্রতিটি মেহনতি মানুষের ঘামে আর কোটি তরুণের শিরায় শিরায় আপনি মিশে আছেন এক অবিনাশী আদর্শ হয়ে। আজ আপনার শূন্যতা আমাদের কেবল কাঁদায় না, আমাদের বুকের ভেতর জ্বালিয়ে দেয় প্রতিবাদের এক অদম্য বারুদ।

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্বপ্নদ্রষ্টা-শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে একবুক হাহাকার আর অশ্রুসিক্ত বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

​আপনি ঘুমাচ্ছেন প্রিয় নেতা, কিন্তু আপনার রেখে যাওয়া সবুজ পতাকাটি আজও আমরা বুক দিয়ে আগলে রেখেছি। যতোদিন এই বাংলায় একটি নদী বইবে, একটি পাখি উড়বে, ততোদিন আপনি বেঁচে থাকবেন আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায়।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহদাত বার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মোঃ বাশার আজাম আহ্বায়ক, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা ছাত্রদল।

তথ্য সংগ্রহেঃ এম এস শ্রাবণ মাহমুদ স্টাফ রিপোর্টার

কাউখালীতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়, তিন কলেজে পাসের হার ১০ শতাংশের নিচে

“যে জিয়া মিশে আছে জনতার স্পন্দনে, মৃত্যুর সাধ্য নেই তারে বাঁধে মরণের বন্ধনে”

নিজস্ব প্রতিবেদক | কাউখালী, রাঙামাটি

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৪০ জন। সে হিসাবে উপজেলার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলাফলের এমন হতাশাজনক চিত্রে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, কাউখালী সরকারি কলেজ থেকে ৩৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩৪ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ঘাগড়া কলেজ থেকে ৬৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৬ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এছাড়া শ্রীজোনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

শিক্ষার মান, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফলাফলের এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, ফলাফলের এমন বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যথায় আগামী দিনগুলোতে কাউখালী উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হতে পারে।

বিলাইছড়ি কলেজে পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ, জিপিএ- ৪ পেয়েছেন ২ জন

“যে জিয়া মিশে আছে জনতার স্পন্দনে, মৃত্যুর সাধ্য নেই তারে বাঁধে মরণের বন্ধনে”

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি কলেজে এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ। ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৭ জন। তবে কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। অন্যদিকে, দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৪-এর বেশি নম্বর পেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা যায়। কলেজের প্রভাষক অমৃত চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে সত্য বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.৫৮ এবং মেনাংপুরী তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.২৫ অর্জন করেছেন। কলেজের সার্বিক ফলাফলে জিপিএ-৫ না থাকলেও দুই শিক্ষার্থীর এ অর্জন আশাব্যঞ্জক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের শিক্ষার্থী কোশিক চাকমার জিপিএ-৫ অর্জন, উজ্জ্বল করল মা-বাবার মুখ

“যে জিয়া মিশে আছে জনতার স্পন্দনে, মৃত্যুর সাধ্য নেই তারে বাঁধে মরণের বন্ধনে”

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় রাঙামাটির কর্ণফুলী সরকারি কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ (এ+) অর্জন করেছে কোশিক চাকমা। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

কোশিক চাকমার পিতা প্রয়াত মিশন চাকমা এবং মাতা ননাবি চাকমা। তার গ্রামের বাড়ি রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার জামেকছড়ি গ্রামে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সে বিলাইছড়ি উপজেলায়  পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন ( অনাথ আশ্রম) থেকে লেখাপড়া ও বেড়ে উঠেছে।

নিজের এ সাফল্যে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কোশিক জানায়, তার জীবনের এ অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক পরম শ্রদ্ধেয় ভদন্ত দেবতিষ্য ভিক্ষুর। তাঁর ভালোবাসা, আশীর্বাদ, অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

এ ছাড়া তার বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে।

কোশিক জানায়, পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন শুধু তার বেড়ে ওঠার স্থান নয়, এটি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই সে শিক্ষা, ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও সুন্দরভাবে জীবন গড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছে।

তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠান তাকে আজকের অবস্থানে আসতে সহযোগিতা করেছে, সেই পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের উন্নয়নে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখা। একই সঙ্গে তার মতো অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চায় সে।

কোশিকের ভাষায়, জিপিএ-৫ শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফল নয়; এটি তার জীবনের নতুন স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে সবার আশীর্বাদ ও দোয়া কামনা করেছে কোশিক চাকমা।

×