| ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

 

গৌতম বুদ্ধের একটি গভীর জীবনঘনিষ্ঠ বাণী হলো—

“সে আমাকে গালি দিয়েছে, প্রহার করেছে,পরাস্ত করেছে বা লুণ্ঠন করেছে—যারা মনে এমন চিন্তা পোষণ করে, তাদের হিংসা ও বৈরিতা কখনো শেষ হয় না।”

এই বাণী শুধু ধর্মীয় উপদেশ নয়, বরং মানবমনের এক চিরন্তন সত্যের প্রকাশ। মানুষের জীবনে অপমান, অবিচার, কষ্ট কিংবা বিশ্বাসঘাতকতার অভিজ্ঞতা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই স্মৃতিগুলোকে যদি আমরা ক্রমাগত হৃদয়ে ধারণ করি, তাহলে ক্ষত শুকায় না; বরং আরও গভীর হয়। তখন অন্যের প্রতি ঘৃণা জন্মায়, আর সেই ঘৃণা শেষ পর্যন্ত নিজের মনকেই বিষাক্ত করে তোলে।

গৌতম বুদ্ধ উপলব্ধি করেছিলেন, প্রতিশোধ কখনো শান্তি এনে দেয় না। কারণ প্রতিশোধের আগুনে প্রথমে পুড়ে যায় প্রতিশোধপরায়ণ ব্যক্তির নিজের হৃদয়। যে মানুষ সারাক্ষণ অন্যের অন্যায় স্মরণ করে, সে নিজের সুখ, প্রশান্তি ও মানসিক স্বাধীনতাকেও বন্দী করে রাখে। তাই তিনি শিক্ষা দিয়েছেন—মুক্তি অন্যকে শাস্তি দেওয়ার মধ্যে নয়, বরং নিজের অন্তরকে বিদ্বেষমুক্ত করার মধ্যে।

বৌদ্ধ দর্শনে ‘মৈত্রী’ ও ‘করুণা’ মানবজীবনের সর্বোচ্চ গুণগুলোর অন্যতম। মৈত্রী শেখায় সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনা করতে, আর করুণা শেখায় অন্যের কষ্ট অনুভব করতে। এই দুই গুণের চর্চা মানুষকে প্রতিহিংসার পথ থেকে দূরে সরিয়ে শান্তির পথে পরিচালিত করে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই শিক্ষা বিশ্বের বিভিন্ন ধর্ম ও আধ্যাত্মিক ধারায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে। ইসলাম ক্ষমা ও সংযমকে মহৎ গুণ হিসেবে ঘোষণা করেছে। খ্রিস্টধর্ম ভালোবাসা ও ক্ষমার আদর্শ তুলে ধরেছে। হিন্দুধর্ম অহিংসা ও সহনশীলতাকে ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। অর্থাৎ সত্যিকারের ধর্ম মানুষকে বিভক্ত করে না; বরং হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে, মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে শেখায়।

তবে ক্ষমা মানে অন্যায়কে সমর্থন করা নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা এবং নিজের অধিকার রক্ষা করা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু সেই সংগ্রাম যদি ঘৃণা ও প্রতিহিংসার দ্বারা পরিচালিত হয়, তাহলে তা নতুন সংঘাতের জন্ম দেয়। আর যদি ন্যায়, বিবেক ও মানবিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তাহলে তা সমাজে শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে।

আজকের পৃথিবীতে মানুষ ধর্ম, জাতি, মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে একে অপরের প্রতি ক্রমশ বৈরী হয়ে উঠছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে পারিবারিক সম্পর্ক পর্যন্ত সর্বত্র ক্ষোভ ও বিদ্বেষের ছাপ স্পষ্ট। এমন সময়ে গৌতম বুদ্ধের এই বাণী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—ঘৃণাকে ঘৃণার মাধ্যমে জয় করা যায় না; ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও ক্ষমাই তার একমাত্র প্রতিষেধক।

মানুষের প্রকৃত বিজয় প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার মধ্যে নয়; বরং নিজের ক্রোধ, অহংকার ও প্রতিহিংসাকে জয় করার মধ্যে। যে হৃদয় ক্ষমা করতে পারে, সেই হৃদয়ই প্রকৃত অর্থে মুক্ত। আর যে সমাজ ক্ষমা, সহনশীলতা ও মানবিকতাকে ধারণ করে, সেই সমাজেই শান্তি ও সম্প্রীতির ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।

তাই আসুন, অতীতের ক্ষতকে আঁকড়ে না ধরে ক্ষমার আলোয় নিজেদের আলোকিত করি। কারণ হিংসা ও বৈরিতার পথ অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়, আর ক্ষমা ও মমতার পথই মানুষের সত্যিকারের মুক্তি ও শান্তির পথ।

লেখক – সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ
গণমাধ্যম ও সমাজ কর্মী
আলীকদম।

কাউখালীতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়, তিন কলেজে পাসের হার ১০ শতাংশের নিচে

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

নিজস্ব প্রতিবেদক | কাউখালী, রাঙামাটি

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৪০ জন। সে হিসাবে উপজেলার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলাফলের এমন হতাশাজনক চিত্রে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, কাউখালী সরকারি কলেজ থেকে ৩৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩৪ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ঘাগড়া কলেজ থেকে ৬৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৬ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এছাড়া শ্রীজোনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

শিক্ষার মান, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফলাফলের এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, ফলাফলের এমন বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যথায় আগামী দিনগুলোতে কাউখালী উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হতে পারে।

বিলাইছড়ি কলেজে পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ, জিপিএ- ৪ পেয়েছেন ২ জন

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি কলেজে এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ। ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৭ জন। তবে কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। অন্যদিকে, দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৪-এর বেশি নম্বর পেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা যায়। কলেজের প্রভাষক অমৃত চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে সত্য বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.৫৮ এবং মেনাংপুরী তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.২৫ অর্জন করেছেন। কলেজের সার্বিক ফলাফলে জিপিএ-৫ না থাকলেও দুই শিক্ষার্থীর এ অর্জন আশাব্যঞ্জক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের শিক্ষার্থী কোশিক চাকমার জিপিএ-৫ অর্জন, উজ্জ্বল করল মা-বাবার মুখ

হিংসার আগুনে নয়, ক্ষমার আলোয় শান্তি…

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় রাঙামাটির কর্ণফুলী সরকারি কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ (এ+) অর্জন করেছে কোশিক চাকমা। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

কোশিক চাকমার পিতা প্রয়াত মিশন চাকমা এবং মাতা ননাবি চাকমা। তার গ্রামের বাড়ি রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার জামেকছড়ি গ্রামে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সে বিলাইছড়ি উপজেলায়  পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন ( অনাথ আশ্রম) থেকে লেখাপড়া ও বেড়ে উঠেছে।

নিজের এ সাফল্যে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কোশিক জানায়, তার জীবনের এ অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক পরম শ্রদ্ধেয় ভদন্ত দেবতিষ্য ভিক্ষুর। তাঁর ভালোবাসা, আশীর্বাদ, অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

এ ছাড়া তার বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে।

কোশিক জানায়, পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন শুধু তার বেড়ে ওঠার স্থান নয়, এটি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই সে শিক্ষা, ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও সুন্দরভাবে জীবন গড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছে।

তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠান তাকে আজকের অবস্থানে আসতে সহযোগিতা করেছে, সেই পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের উন্নয়নে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখা। একই সঙ্গে তার মতো অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চায় সে।

কোশিকের ভাষায়, জিপিএ-৫ শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফল নয়; এটি তার জীবনের নতুন স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে সবার আশীর্বাদ ও দোয়া কামনা করেছে কোশিক চাকমা।

×