| ২ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

থানচিতে সাঙ্গুর তুরুর্গু স্বংয়ে পাথরের ফাঁদ, আতঙ্কে নৌযাত্রা

থানচিতে সাঙ্গুর তুরুর্গু স্বংয়ে পাথরের ফাঁদ, আতঙ্কে নৌযাত্রা

 

চিংথোয়াই অং মার্মা,

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচিতে সাঙ্গু নদীর উজানে তুরুর্গু স্বং এখন যেন মৃত্যুর ফাঁদ। প্রবল স্রোতের ধাক্কায় নদীর পাড় ভাঙছে, তৈরি হচ্ছে ভয়ংকর স্রোত ও নদীর গতিপথ পরিবর্তন। ঝুঁকিপূর্ণ এই নৌপথেই বাধ্য হয়ে চলাচল করছেন রেমাক্রী ইউনিয়নে বড়মদুকের হাজারো মানুষ। সাম্প্রতিক সময়েও তীব্র স্রোতে সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঠেকাতে দ্রুত পাথরগুলো অপসারণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র প্রধান মাধ্যম নৌপথ। শিক্ষা, চিকিৎসা, বাজার-সদাই থেকে শুরু করে জরুরি প্রয়োজনে তাদের সাঙ্গু নদীপথ ব্যবহার করতে হয়। বর্ষা এলেই বাড়ে আতঙ্ক—নৌকাডুবি ও প্রাণহানির শঙ্কা নিয়েই প্রতিদিন সাঙ্গুর তুরুর্গু স্বংয়ের পাড়ি দিতে হচ্ছে।

জানা গেছে, গত ২০২৪ সালে বর্ষামৌসুমে ভারী বর্ষণে সাঙ্গু নদীর উজানে পাহাড় ধ্বস ও গতিপথে পরিবর্তনের বিভিন্ন স্থানের সৃষ্টি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও গভীর খাদ। তুরুর্গু স্বং এলাকায় একটি গিরিখাতের পাহাড় ধ্বসের নদীর তলদেশে বিশাল বড় পাথর স্তূপ জমে নৌযান চলাচল এখন হয়ে উঠেছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ এই নৌপথ দিয়েই প্রতিদিন প্রয়োজনের তাগিদে রেমাক্রী ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত করছেন। নদীর ভয়ংকর স্রোত ও ভাঙনের মধ্যেই কোনো ধরনের স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই নৌকা চলছে। ফলে সামান্য ভুল বা নৌকার নিয়ন্ত্রণ হারালেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ইঞ্জিন চালিত নৌকা চালক মংমংসে মারমা ও ওয়াইন মংসিং মারমাসহ অনেকেই জানান, বর্ষায় ভয়াল স্রোতে জায়গাটি হয়ে ওঠে মৃত্যুফাঁদ। বিশাল পাথরের কারণে শুষ্ক মৌসুমেও নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য ভুল বা স্রোতের টানে নিয়ন্ত্রণ হারালেই পাথরে আছড়ে পড়ে মুহূর্তেই নৌকা ডুবে ঘটতে পারে প্রাণহানি।

স্থানীয় বাসিন্দা মংমে মারমা, জিনিঅং মারমা ও চসিংমং মারমাসহ অনেকেই বলছেন, স্রোত কমলেও বিপদ কাটেনি। তুরুর্গু স্বংয়ে বুকজুড়ে বিশাল পাথর—বন্ধ নৌযান চলাচলের স্বাভাবিক পথ। পাথরের কারণে বদলে গেছে গতিপথ, ঝুঁকিতে পড়েছে সাধারণ মানুষের নৌযাত্রা। পাথরগুলো অপসারণ করা হলেই খুলতে পারে পুরোনো নৌ চলাচলের পথ। দ্রুত সংস্কার কিংবা পাথরগুলো অপসারণে জন্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও পাবর্ত্য মন্ত্রীর কাছে দাবি জানান তারা।

রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা (রনি) জানান, তুরুর্গু স্বংয়ে কয়েকটি বিশাল পাথর পড়ে থাকায় নদীর গতিপথ পরিবর্তন ঘটে। এতে নৌযান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি পার্বত্য মন্ত্রীর কাছে জানিয়ে সংস্কারের আবেদন করা হয়েছে। পাথরগুলো সরানো বা প্রয়োজনীয় সংস্কার করা গেলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে এনে পুনরায় নির্বিঘ্নে নৌযান চলাচল সম্ভব হবে।

বান্দরবান জোনের বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ রুবায়াত জামিল বলেন, ২০২৪ সালে বড়মদুক এলাকায় সাঙ্গু নদীর ভাঙনে গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। সেখানে এখন নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সম্প্রতি আমাদের টহল দলের নৌকাও এখানে ডুবে যায়। খরস্রোতে তলিয়ে যাওয়া অস্ত্রসহ সরঞ্জাম উদ্ধারে সময় লেগেছে পুরো চার দিন। তিনি আরো বলেন, ১৭ ইসিবিসহ যৌথভাবে বড় পাথরগুলো অপসারণ করে নৌযান চলাচলের স্বাভাবিক পথ ফিরিয়ে আনা হবে। আগামী জানুয়ারিতে পানি কমলে এ কার্যক্রম শুরু হবে। এতে দুর্গম এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগঝুঁকি কমবে এবং নৌ চলাচলও স্বাভাবিক হবে।

বিলাইছড়িতে পালবার লিং সেন্টারের বার্ষিক কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত

থানচিতে সাঙ্গুর তুরুর্গু স্বংয়ে পাথরের ফাঁদ, আতঙ্কে নৌযাত্রা

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় পালবার লিং সেন্টার বাংলাদেশের উদ্যোগে বার্ষিক দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি ২৯৯নং আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভদন্ত দেবানন্দ মহাথের এবং সভাপতিত্ব করেন প্রজ্ঞাবারিধি অধ্যাপক ভদন্ত সুমেধানন্দ মহাথের।

এ সময় ভিক্ষুসংঘের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত বিপস্সী মহাথের, ভদন্ত ওয়ারাসামী মহাথের, ভদন্ত ইন্দাচারা মহাথের এবং পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ দেবতিষ্য ভিক্ষুসহ বিভিন্ন বিহারের ভিক্ষুসংঘ।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী মৈত্রী দেওয়ান, বিলাইছড়ি সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. সাকিব হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভি দাশ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুস সালাম ফকির, সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক উষা কিরণ বড়ুয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো পুণ্যার্থী।

দিনব্যাপী আয়োজনে কঠিন চীবর দানের পাশাপাশি বুদ্ধপূজা, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কল্পতরু দান, পিণ্ডদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় দানানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রভাত কান্তি বড়ুয়ার লেখা বুদ্ধকীর্তন এবং তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর রচিত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন।

দীঘিনালার ছোট মেরুং বিশ্ব শান্তি মৈত্রী ভাবনাকুঠিরে ৫ তম মহান কঠিন চীবর দান উদযাপন

থানচিতে সাঙ্গুর তুরুর্গু স্বংয়ে পাথরের ফাঁদ, আতঙ্কে নৌযাত্রা

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

বিশ্বের সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ছোট মেরুং বিশ্ব শান্তি মৈত্রী ভাবনা কুঠিরে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ৫তম মহান কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার ১নভেম্বর দিনব্যাপি অনুষ্টানে সকালে বুদ্ধ মুর্তিদান, সংঘ দান, অষ্টপরিস্কার দান করা হয়।

এতে অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন নন্দবংশ মহাস্হবির ভান্তে, ছোট মেরং বিশ্ব শান্তি ভাবনা কুঠিরের অধ্যক্ষ সুগতবংশ মহাস্হবির ভান্তে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য শান্তি প্রিয় চাকমা, এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জ্ঞান জীত চাকমা উপস্তিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দেশ ও বিশ্বের সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও ধর্মীয় দেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

পাশাপাশি সকল প্রকার হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি ও অশান্তি দূর হয়ে বিশ্বজুড়ে মৈত্রী, করুণা, ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে দেশনা প্রদানকালে নন্দ বংশ মহাস্হবির ভান্তে বলেন, বুদ্ধ ধর্ম হলো শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের ধর্ম। বুদ্ধের আদর্শ অনুসরণ করে প্রত্যেক মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সবাইকে বুদ্ধের উপদেশ মেনে চলতে হবে। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি পঞ্চশীল পালনের আহ্বান জানান।

নন্দ বংশ ভান্তে আরও বলেন, পঞ্চশীল মানুষের নৈতিক ও আদর্শ জীবন গঠনের অন্যতম ভিত্তি। পঞ্চশীল পালন করলে মানুষ হিংসা, লোভ, মিথ্যা ও অন্যায় থেকে দূরে থাকতে পারে। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যেকের পঞ্চশীল পালন করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি সবাইকে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে মৈত্রী, করুণা, ভালোবাসা ও মানবতার আদর্শে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।

অনুষ্টানে দ্বিতীয় পর্ব উপস্তিত ভিক্ষু সংঘ উদ্দেশ্য কল্পতরু ও কঠিন চীবর দানের মাধ্যমে দিন ব্যাপি কঠিন চীবর দান অনুষ্টান সমাপ্ত হয়।

খাগড়াছড়ি জেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে এমপির প্রতিনিধি দায়িত্ব পেলেন অংগ্য মারমা

থানচিতে সাঙ্গুর তুরুর্গু স্বংয়ে পাথরের ফাঁদ, আতঙ্কে নৌযাত্রা

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে ৩৪ নং সংরক্ষিত সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমার পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন যুব নেতা ও সাংবাদিক অংগ্য মারমা।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদের প্যাডে সংসদ সদস্য মাধবী মারমা স্বাক্ষরিত এক পত্রে অংগ্য মারমাকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

মনোনীত অংগ্য মারমা খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার গঞ্জ পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ মারমা যুব ঐক্য পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং মানিকছড়ি উপজেলা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলার আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে এমপির প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতা ও উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।

তিনি জাতীয় দৈনিক মানবকণ্ঠ, সরেজমিন বার্তা, এই বাংলা পত্রিকার এবং স্থানীয় দৈনিক অরণ্য বার্তা ও আলোকিত পাহাড় পত্রিকার জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়াও অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিএইচটি বার্তা, আজকের প্রতিদিন ও বার্তা বাজার-এ কাজ করার সুবাদে স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখ ও নানা সমস্যার কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘কারিতাস বাংলাদেশ’ এবং সমবায় অধিদপ্তরের অন্তর্ভুক্ত দি মারমা ক্রেডিট ইউনিয়নে বিভিন্ন সামাজিক ও সমবায় সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় অংগ্য মারমা সংসদ সদস্য মাধবী মারমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডকে আরও গতিশীল করতে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে তার দায়িত্ব পালন করবেন।

এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

×