| ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ; ২১ জনকে নারীকে সনদ বিতরণ

দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ; ২১ জনকে নারীকে সনদ বিতরণ

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ি দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে ৩ সপ্তাহ ব্যাপি গর্ভকালীন স্বাস্থ্য, পরিচর্যা, সন্তান প্রসব, শিশু স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক উপর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন। প্রশিক্ষণার্থী ২১ জন নারীকে সনদ বিতরন করেন মেডিকেল অফিসার আরএমও শায়খ উদ্দিন ক্যাপ্টেন সাকলাইন।

সোমবার (২৭ সেপ্টম্বর) সকালে দীঘিনালা জোন সদরে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীঘিনালা জোনের তত্ত্বাবধানে এবং দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সহযোগিতার গর্ভকালীন স্বাস্থ্য, পরিচর্যা, প্রসব, শিশু স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক ৩ (তিন) সপ্তাহের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন শেষে ২১ প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে যোগ্যতার সনদ প্রদান করা হয়েছে।

প্রশিক্ষনার্থী তিলক্ষ চাকমা ও বিউটি মুৎসুদ্দি বলেন, আমরা প্রশিক্ষন নিয়েছি এখন আমরা গর্ভকালীন স্বাস্থ্য, পরিচর্যা, প্রসব, শিশু স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানে পরামর্শ ও সহযোগীতা করতে পারব।

কাপ্তাইয়ে কুখ্যাত মাদক কারবারি হোছনা আরা ও তার সহযোগীর গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ; ২১ জনকে নারীকে সনদ বিতরণ

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রিতিনিধ :

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ২নং রাইখালী ইউনিয়নের ঘনিয়াখোলা গ্রামের গ্রামে অবস্থানরত কুখ্যাত মাদক সম্রাটী হোছনা আরা বেগম এবং তার প্রধান সহকারী নুরুল আমিন ওরফে রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে ফুসে উঠেছে সাধারণ মানুষ। এলাকার যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং অপরাধের সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে কুখ্যাত মাদক সম্রাটী হোছনা আরা বেগম ও তার প্রধান সহযোগী নুরুল আমিন ওরফে রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘনিয়াখোলা মূল ফটকে সর্বস্তরের জনসাধারণের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি পালিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে স্থানীয় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ অংশ নেন।

মাদকের বিস্তার ও ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এলাকায় অবাধে মাদকের বিস্তার ঘটিয়ে তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, কক্সবাজার ও বান্দরবান হয়ে কাপ্তাইয়ের রাইখালী ও ঘনিয়াখোলায় মাদক নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে শুঁটকির সাথে ইয়াবা, গাঁজা ও মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়। এই অবৈধ ব্যবসার কারণে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটার আশংকা করছে

এলাকার সচেতন মহল। উক্ত ব্যক্তিদের মাদক সরবরাহ চলতে থাকায়  সাধারণ মানুষ সবসময় উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন, তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন মো. জয়নাল আবেদীন, শাহানাস বেগম এবং মো. ইয়াকুব হোসেন মাসুম প্রমুখ।

বক্তারা অবিলম্বে মাদক সম্রাটী হোছনা আরা বেগম ও নুরুল আমিন ওরফে রোহিঙ্গাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় এলাকার যুবসমাজ ও সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে মাদক বেচাকেনা বন্ধে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দেন তারা।

বিলাইছড়িতে ৫৪ বস্তা ইউরিয়া সারসহ একজন আটক

দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ; ২১ জনকে নারীকে সনদ বিতরণ

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

২৯ বীর বিলাইছড়ি সেনা জোনের অধীনে ফারুয়া আর্মি ক্যাম্পের টহল দলের অভিযানে ৫৪ বস্তা ইউরিয়া সারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিলাইছড়ি থানা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আটক ব্যক্তিকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিলাইছড়ি থানাধীন ফারুয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি ইঞ্জিনচালিত বোটে অভিযান চালায় ২৯ বীর বিলাইছড়ি জোনের ফারুয়া আর্মি ক্যাম্পের টহল দল। এ সময় চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে স্থানান্তরের সময় ৫৪ বস্তা ইউরিয়া সারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তির নাম কার্তিক তঞ্চঙ্গ্যা (২৬)। পিতা: অন্দ লার তঞ্চঙ্গ্যা, মাতা: সূর্যো দেবী তঞ্চঙ্গ্যা,স্ত্রী ঃ অঞ্জন চনা তঞ্চঙ্গ্যা,সাং- তিনি রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার দুমদুমিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বগাখালী বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন সাইচল রাস্তা এলাকার বাসিন্দা।দুর্গম এলাকা এবং নেটওয়ার্ক সংযোগ না থাকায় এ বিষয়ে আটক ব্যক্তি, তার পরিবারের সদস্য কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

থানচিতে মিষ্টি কুমড়া চাষের ঝুঁকছে চাষিরা

দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ; ২১ জনকে নারীকে সনদ বিতরণ

 

চিংথোয়াই অং মার্মা,
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচিতে জুমচাষের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। পাহাড়ের ঢালু জমি, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির উর্বরতাকে কাজে লাগিয়ে জুমের ধানের পাশাপাশি চিট্টা জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষও করছেন তারা। কম খরচে তুলনামূলক ভালো ফলন পাওয়ায় দিন দিন এ সবজির চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, জুমের জমিতে ধান, মরিচ, হলুদ, সাদা কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল একসঙ্গে চাষ করা হয়। এর মধ্যে মিষ্টি কুমড়া চাষে বাড়তি শ্রম ও বিনিয়োগ তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই এটিকে বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কম খরচে লাভবান হওয়ায় মিষ্টি কুমড়া চাষের ঝুঁকছে চাষিরাও।

জানা গেছে, পাথুরে-বালুময় পাহাড়ি জমি, যেখানে চাষাবাদই ছিল কঠিন—সেখানেই এখন ফলছে মিষ্টি কুমড়া। উঁচু-নিচু ও অনুর্বর জমিতে বিভিন্ন জাতের মিষ্টি কুমড়ার চাষ করা হয়। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও ভালো ফলন ও বাজারদরে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়া চাষে তৈরি হচ্ছে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছরে ১৩৯ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে চিট্টা জাতের মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন মিষ্টি কুমড়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। উঁচু-নিচু ও ঢালু পাহাড়ের জমিতে এ আবাদ ছড়িয়ে পড়ায় মিষ্টি কুমড়ার উৎপাদন ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন্দু সড়ক, তুমা-তুঙ্গী সড়ক ও থানচি-বলীপাড়া সড়ক এবং ডিম পাহাড় এলাকায় আশপাশে পাহাড়ের উঁচু-নিচু জমিতে এখন চাষ হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। চিট্টাসহ বিভিন্ন জাতের কুমড়া চাষ করছেন কৃষকেরা। এসব জমিতে কোথাও ফলন ভালো, আবার কোথাও মিলছে কম ফলন।

এদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি মণের মিষ্টি কুমড়া সাড়ে ৮শত থেকে ৯শত টাকা দরে কিনছেন। কিন্তু পাহাড়ি দুর্গম সড়কে পরিবহন খরচই হয়ে উঠছে বড় বোঝা। কুমড়া সংগ্রহের পর বাজারে পৌঁছাতে বাড়তি ব্যয় গুনতে হচ্ছে তাদের। গ্রামীন সড়ক যোগাযোগ ভালো হলে পরিবহন খরচ কমবে, লাভবান হবে চাষিরাও।

স্থানীয় চাষির রাইলং ম্রো, চাইসিংউ মারমা ও ষ্টিফেন ত্রিপুরাসহ অনেকেই জানান, মিষ্টি কুমড়া চাষের আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে চাষীদের। স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়ার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। অনেক সময় ক্ষুদ্র চাষিদের উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।

তারা আরো বলেন, মানসম্মত বীজ, কৃষি উপকরণ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উৎপাদিত কুমড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে পাহাড়ি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। জুমের পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়ার চাষ বাড়িয়ে পরিবারের আয় আরও বাড়াতে চান তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: ওয়ালিদ হোসেন জানান, কম খরচে বেশি লাভ—মিষ্টি কুমড়া চাষে এটাই কৃষকদের প্রধান আকর্ষণ। সম্ভাবনাময় এ ফসলের উৎপাদন বাড়াতে উন্নত বীজ, আধুনিক চাষপদ্ধতি ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। পাহাড়ে উঁচুনিচু ও ঢালু জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষের সুযোগ থাকায় প্রতিবছর এ আবাদ বাড়ছে।

×