| ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

বন্যাকবলিত আলীকদমে ১৮৭ পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী

বন্যাকবলিত আলীকদমে ১৮৭ পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী

‎
‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :
‎
‎বান্দরবানের আলীকদমে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮৭টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (৩১ বীর) আলীকদম সেনা জোন।
‎
‎মঙ্গলবার (তারিখ প্রযোজ্য) আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে পরিচালিত এ ত্রাণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক, এসপিপি,পিএসসি। বিরূপ আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতা উপেক্ষা করে তিনি নৌকাযোগে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর হাতে নিজেই ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।
‎
‎সেনা সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে এবং বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে আলীকদম সেনা জোন।
‎
‎প্রথম ধাপে রোয়াম্ব পাড়ার ৪০টি, আব্বাস কারবারি পাড়ার ৯৭টি, খুল্লামিয়া পাড়ার ২০টি এবং মংচা পাড়ার ৩০টি পরিবারসহ মোট ১৮৭টি পরিবার এ সহায়তা পেয়েছে। সেনা জোন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
‎
‎ত্রাণ বিতরণকালে জোন কমান্ডার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্বের অংশ। দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী জনগণের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
‎
‎ত্রাণপ্রাপ্ত পরিবারগুলো সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের প্রশংসা করে জানায়, দুর্যোগের এই সময়ে দ্রুত খাদ্যসহায়তা তাদের সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
‎
‎আলীকদম সেনা জোন জানিয়েছে, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চলমান থাকবে।

আলীকদমে কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান

বন্যাকবলিত আলীকদমে ১৮৭ পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী

 

‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, ‎

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি: ‎

‎বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় অবৈধ মাদক-কিশোর গ্যাং বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে থানা পুলিশ। অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে আড্ডারত,অহেতুক ঘোরাঘুরি ও ক্যারাম খেলাসহ বিভিন্ন কারণে ১৯ কিশোরকে আটক করা হয়। পরে তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ভবিষ্যতে সদাচরণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ‎

‎রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত উপজেলার চম্পটপাড়া, প্রভাত কারবারি পাড়া, হাফিজের দোকান, আলীর বাজার, চিনারী বাজার এলাকা,আবাসিক, রেফারপাড়া বাজার, চৈক্ষ্যং রাস্তার মাথাসহ বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। ‎ ‎

আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহেদ পারভেজের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পুলিশ পরিদর্শক মো. আমজাদ হোসেন, এসআই উপেন বড়ুয়া, এসআই নিশাত বড়ুয়া, এসআই আবু সাইদ, এসআই জহিরুল ইসলাম, এসআই মিয়েল চাকমা, এএসআই রাজিব, এএসআই মফিজ, এ এস আই মাহফুজসহ পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন। ‎ ‎

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, ঘোরাঘুরি ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নজরদারি চালানো হয়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করা ও বিভিন্ন অভিযোগে ১৯ কিশোরকে সতর্কতামূলক ভাবে আটক করা হয়। পরে আটক কিশোরদের অভিভাবকদের থানায় ডেকে নেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতৃবৃন্দও থানায় উপস্থিত ছিলেন।

থানায় অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন, ওসি মো. শাহেদ পারভেজ। তিনি কিশোরদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, মাদক থেকে দূরে থাকা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করেন। ‎অভিভাবকদের উদ্দেশে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, কিশোরদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল ভাবে নজর রাখতে হবে। একই সঙ্গে কিশোরদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে পরিবার ও সমাজকে সম্মিলিত ভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। ‎ ‎

এ বিষয়ে উপস্থিত অভিভাবকেরা পুলিশের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁরা কিশোরদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। ‎ ‎

আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহেদ পারভেজ বলেন, “কিশোরদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তাদের মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই এ ধরনের অভিযানের মূল লক্ষ্য। অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।” ‎ ‎তিনি আরও বলেন, “কিশোরদের প্রতি আইনগত ও সামাজিক দায়িত্বের বিষয়টি বিবেচনা করে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা যাতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে তাদের ও অভিভাবকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” ‎ ‎

পুলিশ জানায়, আটক কিশোরদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে সদাচরণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে তাদের নিজ নিজ অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ‎অভিযান চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী এ ধরনের বিশেষ অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিহার উন্নয়নে বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পাওয়ার টিলার প্রদান দীঘিনালা জোনের

বন্যাকবলিত আলীকদমে ১৮৭ পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও স্থানীয় জনগণের সুবিধার্থে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে উপজেলার দীঘিনালা ইউনিয়নের কার্বারীটিলা দাম্মাচারিয়া বুদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ করূনা বংশ বৌদ্ধ ভিক্ষুকে পাওয়ার টিলা মেশিন প্রদান করা হযছে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জোন সদরে সম্প্রতি দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে বিহার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে ব্যবহারের জন্য বৌদ্ধ ভিক্ষুর হাতে মেশিনটি তুলে দেন দীঘিনালা জোনের মেজর তৌকির আহমেদ এস ইউপি পিএসসি। এ সময় দীঘিনালা জোনের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাওয়ার টিলার মেশিনটি বিহারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা হবে। মেশিনটি পেয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষু দীঘিনালা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের সহযোগিতা বিহারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও সহজ ও গতিশীল করবে। স্থানীয়রা জানান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এ ধরনের সহযোগিতা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহযোগিতার পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।

দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন ; ২১ জনকে নারীকে সনদ বিতরণ

বন্যাকবলিত আলীকদমে ১৮৭ পরিবারের পাশে সেনাবাহিনী

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ি দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে ৩ সপ্তাহ ব্যাপি গর্ভকালীন স্বাস্থ্য, পরিচর্যা, সন্তান প্রসব, শিশু স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক উপর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন। প্রশিক্ষণার্থী ২১ জন নারীকে সনদ বিতরন করেন মেডিকেল অফিসার আরএমও শায়খ উদ্দিন ক্যাপ্টেন সাকলাইন।

সোমবার (২৭ সেপ্টম্বর) সকালে দীঘিনালা জোন সদরে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীঘিনালা জোনের তত্ত্বাবধানে এবং দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সহযোগিতার গর্ভকালীন স্বাস্থ্য, পরিচর্যা, প্রসব, শিশু স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক ৩ (তিন) সপ্তাহের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন শেষে ২১ প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে যোগ্যতার সনদ প্রদান করা হয়েছে।

প্রশিক্ষনার্থী তিলক্ষ চাকমা ও বিউটি মুৎসুদ্দি বলেন, আমরা প্রশিক্ষন নিয়েছি এখন আমরা গর্ভকালীন স্বাস্থ্য, পরিচর্যা, প্রসব, শিশু স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানে পরামর্শ ও সহযোগীতা করতে পারব।

×