| ৪ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

বিলাইছড়িতে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট সংকটে প্রায় ১৫ শত পরিবার 

বিলাইছড়িতে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট সংকটে প্রায় ১৫ শত পরিবার 

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বন্যার পরবর্তী সময়ে পয়ো-নিষ্কাশন অথবা স্যানিটারি ল্যাট্রিন বা স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানার ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক। নেই কোনো জনসংখ্যা অনুপাতে সুপেয় পানির ব্যবস্থাও। স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট বা শৌচাগারের সংকটে প্রায় ১৫ শত পরিবারের ৬ হাজার মানুষ খোলা আকাশের নীচে পায়খানা করছে। এ বিষয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই  সরকারি-বেসরকারি সংস্থার। দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। যার ফলে দেখা দিতে পারে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানি বাহিত রোগ। দেখা গেছে চর্ম রোগও।

সরেজমিনে দেখতে গিয়ে জানা গেছে, ফারুয়া ইউনিয়নে তারাছড়ি, যমুনাছড়ি, ফারুুয়া বাজার, গোয়াইনছড়ি, ওরাছড়ি, তক্তানালা উলুছড়ি, চাইন্দা, রোয়াপাড়া ছড়া, ফুঁছড়া, লতাপাহাড়, আলেচং – এলাকায় প্রায় পরিবারের টয়লেট গুলো নষ্ট হয়েছে। সামান্য গর্ত করে চার কোণে চারটি বাঁশ দিয়ে কাপড়ের ঘেরা দিয়ে কোনো রকমে ছেঁড়ে নিচ্ছে। রিং, স্লাব, টিন এবং গাছ, বাশঁ এবং কারিগর দিয়ে তৈরি করার কিছু জনের সামর্থ্য থাকলেও বেশিরভাগ জনের সামথ্য নেই। তারা জানান, একটা টয়লেট তৈরি করতে প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। সরকারের পাশাপাশি দাতাগোষ্ঠীরাও এগিয়ে আসা দরকার। নিজ উদ্যোগে করা কঠিন হয়ে দাড়িঁয়েছে। ঘর, জমি ডুবে ও তলিয়ে গেছে। কোনটা সামলাবো। তাই জঙ্গলে খোলা জায়গায় নতুবা গাছের শেখরের উপর হতে পায়খানা করা  ছাড়া কিছুই করার নাই।

স্থানীয় কার্বারী ভরত চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যা জানান, বন্যায় যা ক্ষতি হয়েছে তা  ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এতে সরকারি – বেসরকারিভাবে কিছুটা ত্রাণ সহায়তা দিলেও পয়ো- নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা বা নিরাপদ টয়লেট নির্মান করে  দেওয়ার কথা কেউই বলেনি। শুধু সাংবাদিকরা তথ্য নিয়ে এই বিষয়ে তুলে ধরেন। অথচ এই বিষয়ে দাতাগোষ্ঠী, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরাও জানে। গরীব যারা তারা হঠাৎ কিভাবে টয়লেট নির্মান করবে। তাই সবার এগিয়ে আসা দরকার।

ফরুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্থ ১৪৪৭ পরিবারের মাঝে প্রায় ৭০০ পরিবারের টয়লেট পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছে কিংবা মাটির নিচে নতুবা পলি জমে পরিত্যক্ত হয়েছে। কিছু জনে নিজের থেকে ঠিক  করলেও, অনেকে নানা সমস্যা কারণে তৈরি করার সম্ভব হচ্ছে না। নেই জনসংখ্যা অনুপাতে সুপেয় পানির ব্যবস্থাও।

এছাড়াও বিলাইছড়ি ইউনিয়নে ডাউন পাড়া, মালুম্যা, তিনকুনিয়া, সাক্রাছড়ি, ধুপশীল, মাইত কাবা ছড়া, কুতুবদিয়া, দীঘলছড়ি, দীঘলছড়ি ডেবামাথা, হাজাছড়া পাড়া, দুপ্যাচর, শালবাগান, আমতলা, রাজধন ছড়া, গাছকাটা ছড়া সহ বেশ কিছু এলাকার মানুষের টয়লেট নষ্ট হয়েছে বলে স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে। দীঘল ছড়ি ডেবামাথা হাজাছড়া পাড়ার শান্তি লাল চাকমা জানান, তার গ্রামে প্রায় ৫০ পরিবারের মধ্যে ৪৫ পরিবারের মাঝে নিরাপদ টয়লেট ব্যবস্থা নেই। তথ্য মতে, সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান জানান, ইউনিয়নে ২৫০ পরিবারেরও অধিক পরিবারের ক্ষতি বা বর্ষায় পানি জমে টায়লেটগুলো নষ্ট হয়েছে।

এছাড়াও কেংড়াছড়ি ইউনিয়নে কেরন ছড়ি, শামুক ছড়ি, বাঙ্গাল কাটা, ভালাছড়ি, কেংড়াছড়ি, নাড়াই ছড়ি, হিজাছড়ি, কেংড়াছড়ি জোন এবং পাহাড়ে বসবাস করা অনেকের নিরাপদ টয়লেট নেই  বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শান্তি বরন তালুকদার। তিনি আরও জানান, ইউনিয়নে প্রায়  ১৮০০ পরিবার রয়েছে। এতে নিরাপদ টয়লেট সু-ব্যবস্থার প্রয়োজন প্রায় ৬০০ পরিবারের। বড় থলি ইউনিয়নে তেমন ক্ষতি হয়নি বলে জানান চেয়ারম্যান জামাইয়া তঞ্চঙ্গ্যা।

সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা জানান, বন্যায় পয়ো- নিষ্কাশনের সু-ব্যবস্থা বিধ্বস্ত, এতে জরুরি টিন, স্ল্যাব, রিং দিয়ে তৈরি করা হয় অনেক সুবিধা হবে। এই বিষয়ে সবার এগিয়ে আসা দরকার। বিশেষ করে রিমোর্ট এলাকাগুলোতে।

বড়থলি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জামাইয়া তঞ্চঙ্গ্যা জানান,তাঁর ইউনিয়নে তেমন ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। এইসব বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আকাশ চন্দ্র বর্মন জানান, উপজেলায় ৪টি ডিপ টিউবওয়েল চলমান রয়েছে। আরও কয়েকটি করা হবে। এছাড়াও ২০০ পরিবারের মাঝে স্যানিটারি ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা করা হবে। বাকিগুলো চাহিদা  অনুযায়ী উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে  অনুমোদন পেলে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুরজিত দত্ত জানান, পয়ো-নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকলে তাহলে পরিবেশ নষ্ট হবে। ফলে বিভিন্ন রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.জাকির হোসেন জানান, জেলা পরিষদের লজিক প্রকল্প, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল এবং বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করবে। প্রয়োজনে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বসে পরবর্তীতে আরও পদক্ষেপ গ্রহন করবো।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালাম ফকির জানান, নির্বাচনেও তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, কিভাবে এলাকার জীবন-মন উন্নয়ন করা যায়। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে খুবই সোচ্চার। কোথায় কি প্রয়োজন, কি লাগবে  দেখেছি, শুনেছি। নেতাকর্মীরাও জানিয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিএনপি পাশে রয়েছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের, খাদ্য, যোগাযোগ ও  পয়নি:স্কাশনের সুব্যবস্থা, রিংওয়েল নতুবা ডিপটিওয়েলের কথাও জেলায় এবং এমপি মহোদয়কে অবগত করা হয়েছে, আরো করা হবে। যাহাতে দ্রুত কিভাবে সমস্যা সমাধান করা যায়।

লংগদু ইবনে সিনা (রাবেতা) হাসপাতালে তিন দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্প সম্পন্ন

বিলাইছড়িতে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট সংকটে প্রায় ১৫ শত পরিবার 

 

আবু বককর, লংগদু (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির লংগদুতে ইবনে সিনা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার (রাবেতা হাসপাতাল)-এ তিন দিনব্যাপী মেডিকেল ক্যাম্প সম্পন্ন হয়েছে। গত ২ নভেম্বর সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এ ক্যাম্প ৪ নভেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত পরিচালিত হয়।

ক্যাম্পে ঢাকা থেকে আগত অভিজ্ঞ চিকিৎসক দলের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও অস্ত্রোপচার করা হয়। মেডিকেল টিমের নেতৃত্ব দেন প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আলী, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকার সার্জারি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান। টিমে আরও ছিলেন প্রফেসর ডা. শাহ আলম, বিভাগীয় প্রধান, অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগ, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা এবং ডা. আঞ্জুমান আরা (বুলু), আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।


ইবনে সিনা লংগদু প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “গ্রামাঞ্চলের অনেক রোগী আর্থিক অসচ্ছলতা ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসা নিতে চট্টগ্রাম কিংবা ঢাকায় যেতে পারেন না। তাঁদের কথা বিবেচনা করেই আমরা এ ধরনের মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে থাকি, যাতে তাঁরা স্বল্প খরচে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও অস্ত্রোপচারের সুযোগ পান।”

তিনি আরও জানান, তিন দিনব্যাপী এ মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।


স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ লংগদু ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়া আরও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

জনসেবার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে আসতে চান তিনি, চাইলেন সর্বস্তরের মানুষের দোয়া ও আশীর্বাদ

বিলাইছড়িতে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট সংকটে প্রায় ১৫ শত পরিবার 

বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা উয়েমং মারমা

উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী প্রতিনিধি :

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার ৩ নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন উয়েমং মারমা। তিনি সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাঙ্গালহালিয়া বাজার চৌধুরী বাবু থোয়াইসুইখই মারমার সুযোগ্য পুত্র।

স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

উয়েমং মারমা বলেন, “বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন আমার জন্মভূমি, এই এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। এখানকার মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও আশীর্বাদ নিয়েই আমি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে আমি সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি, জনপ্রতিনিধি হওয়া মানে শুধু একটি পদ বা দায়িত্ব পাওয়া নয়; বরং এটি মানুষের সেবা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। নির্বাচিত হতে পারলে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব। এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় গুরুত্ব দিতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “আমার প্রত্যাশা, বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নকে একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নয়নমুখী ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা পাব। আমি কোনো বিভেদ নয়, ঐক্য ও সম্প্রীতির মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই। আপনাদের ভালোবাসা, পরামর্শ ও সহযোগিতাই হবে আমার পথচলার অনুপ্রেরণা।”

উয়েমং মারমার প্রত্যাশা, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের সব মানুষের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতিময়, উন্নয়নমুখী ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলা সম্ভব।

এ সময় তিনি বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের কাছে দোয়া, আশীর্বাদ, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ৫৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান, তাও আবার পুরোনো বই দিয়ে

বিলাইছড়িতে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট সংকটে প্রায় ১৫ শত পরিবার 

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ৪ নম্বর বড়থলি ইউনিয়নের অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সরকারি কোনো সহযোগিতা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে রাইমংছড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয়। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও একটিও বিদ্যালয় সরকারিকরণ করা হয়নি। নেই কোনো উদ্যোগ।  ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত রাইমংছড়া  এই বিদ্যালয়টি নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও স্থানীয় শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, অবকাঠামো ও সরকারি সহায়তার অভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ। এমনকি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে পুরোনো বই দিয়ে।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অন্তর বাবু তঞ্চঙ্গ্যা জানান, ২০১২ সাল থেকে তিনি এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে আসছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক ও স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরে  ৫৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টি অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। ফারুয়া ইউনিয়ন থেকে পায়ে হেঁটে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে প্রায় দুই দিন সময় লাগে। এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত সরকারি পাঠ্যবই পাওয়া যায় না। ফলে পুরোনো বই সংগ্রহ করে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন।বিদ্যালয়টির ইএমআইএস (EMIS) কোড ০০৪১৪১০০৩২২।  স্থানীয় নির্বাচনে বিদ্যালয়টি ভোটকেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এদিকে বড়থলি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বীর লাল ত্রিপুরা জানান, শিক্ষা সংকটের পাশাপাশি ইউনিয়নটির সঙ্গে উপজেলা সদরের কোনো সুগম যোগাযোগব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সুবিধাও অনুপস্থিত। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমের বিজ্ঞপ্তি এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যথাসময়ে জানতে পারে না। ফলে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি ও চাকরির সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে বড়থলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাইয়া তঞ্চঙ্গ্যা জানান, স্বাধীনতার পর থেকে পুরো ৪ নম্বর বড়থলি ইউনিয়নে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইউনিয়নের অধিকাংশ পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। জুমচাষ ছাড়া তাদের আয়ের তেমন কোনো উৎস নেই। ফলে দারিদ্র্যের কারণে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। তিনি বলেন, বর্তমানে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বেসরকারিভাবে কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। এসব বিদ্যালয় সরকারি করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মাধ্যমে চারটি বিদ্যালয়ের তালিকা উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যালয়গুলো হলো—রাইমংছড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাইগারপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়থলি ত্রিপুরাপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং প্রংজাংপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বড়থলি ইউনিয়নে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইউনিয়নের একমাত্র জুনিয়র হাইস্কুলটিও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে চলছে। রাইমংছড়া বিদ্যালয়ের জন্য সামান্য কিছু সহযোগিতা দেওয়া হলেও অন্য বিদ্যালয়গুলো এখনো অবহেলিত রয়েছে বলে তিনি জানান। বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব সরকার উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করেন এবং দুর্গম এ ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিলাইছড়ি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিরালা কান্তি চাকমা জানান, বড়থলি ইউনিয়নের রাইমংছড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি জাতীয় ও উপজেলা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু বাস্তবে বিদ্যালয়টি অত্যন্ত অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। এর ভৌত অবকাঠামো খুবই নাজুক। সেখানে কর্মরত শিক্ষকরা অনেক ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক সুবিধা ছাড়াই শুধু শ্রম ও আন্তরিকতা দিয়ে এলাকার শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পাঠদান করে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি পাঠ্যবই পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। আইপিইএমআইএস (IPEMIS) পোর্টালে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এপিএসএস (APSS) পূরণ করে বইয়ের চাহিদা পাঠাতে হয়। কিন্তু বিদ্যালয়টি দুর্গম ও নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়া কিংবা চাহিদা পাঠাতে ব্যর্থ হলে সরকারি বই পাওয়ার সুযোগ ব্যাহত হতে পারে।

এ ছাড়া বর্তমান সরকারের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাঠদানের অনুমতি গ্রহণ করবে না, সেসব প্রতিষ্ঠান সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবে না।

শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করে সরকারি সব সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা গেলে এলাকার শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। দুর্গম এ অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার বৈষম্য দূর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্গম বড়থলি ইউনিয়নের শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে রাইমংছড়াসহ ইউনিয়নের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তা, নিয়মিত পাঠ্যবই সরবরাহ এবং বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। পাশাপাশি যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

এ বিষয়ে বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভি দাশ জানান, বড়থলি ইউনিয়ন অত্যন্ত দুর্গম ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেখানে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে কোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষা উপকরণ থেকে বঞ্চিত করা হবে না। ইউনিয়নের টাইগারপাড়ায় গিয়ে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে দুজন করে শিক্ষার্থী, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, রাইমংছড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কতজন শিক্ষার্থী রয়েছে, তার শ্রেণিভিত্তিক তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্টদের উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। একইভাবে ইউনিয়নের অন্যান্য বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার্থীসংখ্যার তালিকা জমা দিতে হবে। এসব তালিকা পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বই ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে

×