| ৫ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

মেঘ পাহাড়ের স্বর্গরাজ্য আলীকদমের মারাইংতং পাহাড়

মেঘ পাহাড়ের স্বর্গরাজ্য আলীকদমের মারাইংতং পাহাড়

 

‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ, ‎আলীকদম প্রতিনিধিt

‎বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা একটি উঁচু-নিচু পাহাড়ি এলাকা। যার চারপাশে শুধু পাহাড়ের সারি। একটির চেয়ে যেন আরেকটি বেশি উঁচু। যারা ট্রেকিং করতে পছন্দ করেন তাদের কাছে পাহাড় মানেই ভিন্ন আকর্ষণ। বর্তমানে পাহাড়ি সব দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে সাজেক, নীলগিরি বা নিলাচল জনপ্রিয় হলেও এখন বর্তমানে মেঘ পাহাড়ে স্বর্গরাজ্য আলীকদমের মারাইংতং পাহাড় পর্যটকদের বেশ নজর কেড়েছে।

‎বিশাল সবুজের মাঝে অবস্থিত মিরিঞ্জা রেঞ্জের একটি পাহাড়ের নাম মারাইংতং। এর উচ্চতা প্রায় ১,৬৬০ ফুট উচ্চতা। অনেকে এ পাহাড়কে মারায়ন তং বা মারায়ন ডং নামেও ডেকে থাকেন। পাহাড়ের একেবারে চূড়ায় রয়েছে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের একটি ধর্মীয় উপাসনালয় বৌদ্ধ মন্দির। এ উপাসনালয়টির চারপাশ খোলা এবং মাথার উপরে চালা দেওয়া। এ বৌদ্ধ মন্দিরে আছে বিশাল বৌদ্ধ মূর্তি। নতুন করে আরও বেশ কিছু বুদ্ধ মুর্তি স্থাপন করছে যা পর্যটকদের দৃষ্টি নন্দন করে তুলবে। ‎ ‎

সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি এ স্থানটি। দর্শনীয় স্থান হিসেবেও স্থানটি মনোরোম এবং দৃষ্টিনন্দন। মারাইংতং পাহাড় পাড়ের উপর থেকে যত দূর দৃষ্টি যায়, দেখতে পাবেন শুধু পাহাড় আর পাহাড়। আর এসব পাহাড়ের ফাঁকে রয়েছে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের ছোট ছোট ঘরবাড়ি, জুমঘর, রাস্তা, ফসলের জমি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সাজানো বাগান বাগিচা। এছাড়াও নিচে সাপের মতো এঁকে-বেঁকে বয়ে চলেছে মাতামুহুরী নদী। বৃষ্টির দিনে মনে হয় আকাশ যেন মাটির সাথে মিশে আছে এবং সবমিলিয়ে স্থানটি বেশ রোমাঞ্চকর অনুভূতি সৃষ্টি করবে।

মারাইংতংয়ে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো জুলাই শেষ হতে আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস। ‎‎পাহাড়ও দেখতে পারবেন আবার বিভিন্ন উপজাতিদের সঙ্গেও সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন মারাইংতংয়ে গেলে। প্রকৃতির অপার বিস্ময় লুকিয়ে আছে সেখানে। এ পাহাড়ের বিশেষত্ব হলো ‘এই চূড়া একেবারেই সমতল স্থানের মতো’। এ কারণেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা স্থানটি তাদের বসবাসের জন্য বেছে নিয়েছেন।

মারাইংতং পাহাড়ে বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। এদের মধ্যে মুরুং, তঞ্চঙ্গ্যাঁ, মারমা ও ত্রিপুরারা অন্যতম। পাহাড়ের ঠিক নিচের অংশে বসবাস মারমাদের। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে মুরংদের গ্রাম। তাদের সাঁজানো বাগান বাগিচা, জুম চাষের দৃশ্য, পাহাড়ের ঢালে তারা বাড়ি বানিয়ে বসবাস করেন। মাটি থেকে সামান্য ওপরে এদের টংঘর। এসব ঘরের নিচে থাকে বিভিন্ন গবাদি পশু যেমন- গরু, ছাগল, শূকর, মুরগি। কখনো গবাদি পশুর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জ্বালানি কাঠও রাখা হয় স্তূপ করে। ‎ ‎

এ পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে সময় লাগতে পারে পায়ে হেটে ২ ঘণ্টারও বেশি। বর্তমানে কোটি টাকা দিয়ে একটি কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে যাতায়াতের জন্য, তবুও প্রতিদিন আদিবাসী জনগোষ্ঠীরা প্রতিকূল এ পরিবেশে জীবনধারণ করছে। যা সত্যিই বিস্ময়কর। মারাইংতংয়ে গেলে আপনি দৈনন্দিন কাজকর্ম ও তাদের জীবনধারণ পদ্ধতি সম্পর্কেও জানতে পারবেন। আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের পাশাপাশি বাঙালিরাও তাদের নিত্যদিনের আয়-রোজগারের জন্য এই পাহাড়ের ওপর নির্ভরশীল। বাঙালিদের অনেকেই পাহাড়ে জন্মানো মুলি বাঁশ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। অনেকেই ব্যবসা, মোটরবাইক চালিয়ে জীবন জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছে। ‎

‎রোমাঞ্চকর মারাইথং পাহাড়ে যেভাবে যাবেন :- ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আলীকদম বাসস্ট্যান্ড সরাসরি বাস গাড়িযোগে আসা যায়। ভাড়া পড়বে ঢাকা থেকে ১,১০০ টাকা আর চট্টগ্রাম থেকে ৫০০ টাকা। তারপর সেখান থেকে অটো দিয়ে আবাসিকে নেমে যাবেন, ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৩০ টাকা করে। আবাসিকে নেমে ডান পাশের রাস্তা ধরে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন আলীকদমের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় মারাইংতং। সেখানে খাবার ও পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। এজন্য শুকনো খাবার ও পানি সমতল থেকেই নিতে হবে।  ‎এ ছাড়াও ঢাকা থেকে বাসে করে চকরিয়া যেতে পারবেন ৮৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে। চকরিয়া থেকে আলিকদম যাওয়ার জন্য লোকাল জিপে উঠবেন। ভাড়া পড়বে ১০০ টাকা। আলীকদম যাওয়ার আগেই আবাসিক নামক জায়গায় নেমে যাবেন। সেখান থেকে হাতের ডানের রাস্তা ধরে ৩ ঘণ্টা হাটলেই মারায়ন তং বা মেরাইথং পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে যাওয়া যাবে।

দিঘীনালায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দুই শিক্ষক দিয়ে চলছে ৫০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

মেঘ পাহাড়ের স্বর্গরাজ্য আলীকদমের মারাইংতং পাহাড়

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ি দিঘীনালা উপজেলার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক ও একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঁচটি শ্রেণির প্রায় ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠগ্রহণ, পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ছাত্র ছাত্রী ও অবিভাবকদের।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ের গেলে ষষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষার্থী অপুর্ব বড়ুয়া বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারনে আমাদের নিয়মিত লেখাপড়া হচ্ছেনা সরকারের কাছে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।

শিক্ষার্থীর অবিভাবক লিপি দেওয়ান বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করিয়েও তারা প্রত্যাশিত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন না। বিদ্যালয়ে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবী পুরন না হলে অবিভাবকদের পক্ষ থেকে ক্লাস বর্জনের আন্দোলনের যাওয়ার কথা জানান।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার দাশ বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদের সংখ্যা ২১টি হলেও বর্তমানে মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রমও চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এত কম শিক্ষক দিয়ে প্রায় ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন বলে জানান।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র শিকদার বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পড়াশোনায় উৎসাহ বাড়াতে কাপ্তাইয়ে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

মেঘ পাহাড়ের স্বর্গরাজ্য আলীকদমের মারাইংতং পাহাড়

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে স্থানীয় পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

​বুধবার (৪ নভেম্বর) স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই মানবিক ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।​ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের হাতে খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার ও জ্যামিতি বক্সসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান এবং শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ ও উৎসাহ বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা সামগ্রী বিতরণকালে ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অধিক মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং শিক্ষার সার্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন।

কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পড়াশোনার পরিবেশ সুগম করতে এই ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

​ছবির ক্যাপশন: কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে স্থানীয় পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

মহিমাগঞ্জ আলিয়া কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

মেঘ পাহাড়ের স্বর্গরাজ্য আলীকদমের মারাইংতং পাহাড়

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহি মহিমাগঞ্জ আলিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অপপ্রচার ও তাকে মাদ্রাসার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়ার দাবীতে বিক্ষোভ ও মানবন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলার মহিমাগঞ্জ আলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মাদরাসা মাঠে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা।

এসময় তাঁরা মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারের নিন্দা জানান। তারা অবিলম্বে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্বে পূণ:বহালের দাবী জানান। তারা আরও বলেন, ড. মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমানকে হাইকোট থেকে তাকে পুণঃরায় দায়িত্ব বুঝে দেয়ার নির্দেশ দিলেও মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব না দিয়ে নানা ধরণের গড়িমসি করে আসছে। তারা অবিলম্বে উপাধ্যক্ষ মুহম্মদ মোখলেছুর রহমানকে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবী জানান।

×