রুইফু পাড়ায় নতুন স্কুল ভবন উদ্বোধন, শিক্ষার মান বাড়ানোর আহ্বান
মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের রুমা উপজেলার ৪নং গালেংগ্যা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের রুইফু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য ও বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু জেরী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা বীথি আক্তার, বান্দরবান পার্বত্য জেলার সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ত্রিরতন চাকমা, গালেংগ্যা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ঙানরাও ম্রো এবং এলজিইডি রুমার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার শ্রী বিদ্যুৎ চরণ ধর।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রুইফু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও রুইফু পাড়ার কারবারি মেনপ্রে ম্রো। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আমীর ফারুকী এবং সার্বিক উপস্থাপনায় ছিলেন সহকারী শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রুমা উপজেলার ৪ নম্বর গালেংগ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো, বাংলাদেশ বিএনপি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা-কর্মী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, কারবারি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে এলজিইডি রুমার উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার শ্রী বিদ্যুৎ চরণ ধর বলেন, রুমা উপজেলার দুর্গম গ্রামের মধ্যে এত সুন্দর একটি বিদ্যালয় ভবন পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। নিজের স্কুলজীবনে এ ধরনের সুন্দর ভবনে বসে পড়াশোনা করার সুযোগ তাঁর হয়নি বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকার জনগোষ্ঠীর ছেলে-মেয়েদের কথা বিবেচনা করে সরকার বিদ্যালয় ভবনটি সুন্দরভাবে নির্মাণ করেছে। ভবনটি নির্মাণে সরকারের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। আগামী প্রায় ৫০ বছর ধরে ভবনটি ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান। তবে শুধু সুন্দর ভবন হলেই হবে না, এর পাশাপাশি শিক্ষার মানও বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে কর্মরত শিক্ষকদের বিশেষ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিদ্যালয় থেকে যেন ভবিষ্যতে ভালো ও সুশিক্ষিত মানুষ বের হয়ে আসে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আমীর ফারুকী বলেন, নতুন ভবন পেলেও বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ এখনো তৈরি হয়নি। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি খেলার মাঠ অত্যন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় টয়লেটও নির্মাণ করা হয়নি। এসব সমস্যা সমাধানে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান তিনি। এ ছাড়া এলাকার বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধান শিক্ষক।
গালেংগ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেনরত ম্রো বিদ্যালয়ের যাবতীয় সমস্যার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি এসব সমস্যা সমাধানে যথাসাধ্য ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে এলাকার অভিভাবকদের সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান চেয়ারম্যান। ছেলে-মেয়েরা যাতে পড়াশোনায় আরও ভালো করতে পারে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সহযোগিতা ও নজরদারি বাড়ানোর অনুরোধ করেন তিনি।
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী তাঁর বক্তব্যে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও ওয়াশরুম/টয়লেটের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বাংলা ভাষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা শেখার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইংরেজি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা। ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে ইংরেজি শিক্ষায় জোর দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বিদ্যালয়ের সম্পদ ও সরঞ্জামের যত্ন নেওয়ার জন্যও শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। বিদ্যালয়ের কোনো জিনিস যাতে হারিয়ে না যায়, বিশেষ করে বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক ফ্যানসহ অন্যান্য সামগ্রী যাতে চুরি না হয়, সেদিকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

এ সময় হাম রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষায় টিকা দেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য। শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও গুরুত্ব ও সচেতনতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেন তিনি। নতুন বিদ্যালয় ভবন পেয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও রুইফু পাড়ার কারবারি মেনপ্রে ম্রোসহ স্থানীয়রা আনন্দ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ ও বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তারা।
পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে খেলাধুলা, নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি, ১০০ মিটার দৌড়সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে রুইফু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান-২০২৬ এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

| ৪ নভেম্বর ২০২৬














