সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম:

সাজেক এতিমখানায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১১ পিএম
0 বার পড়া হয়েছে
সাজেক এতিমখানায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ

 

মোঃ আক্তার হোসেন, খাগড়াছড়িঃ

রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬নং সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট বাজার এলাকায় হুসাইনিয়া এতিমখানায় গরিব দুস্থ শিক্ষার্থী’দের জন্য খাদ্যদ্রব্য প্রদান করেছে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের বাঘাইহাট সেনা জোন।

আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) সাজেক ইউনিয়ন এর বাঘাইহাট বাজার এলাকায় অবস্থিত হুসাইনিয়া এতিমখানায় গরিব দুস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য সামগ্রী বিতরন করা হয়।

এতিমখানার শিক্ষক ও গরিব দুস্থ শিক্ষার্থীরা বাঘাইহাট জোনের এ অবদানে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাঘাইহাট জোনের সেনা কর্মকর্তা সহ অন্যান্য সেনা সদস্যরা।

ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করে বাঘাইহাট সেনা জোন।

কাল থেকে ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসব : প্রস্তুতি থেকে রিলংপোয়েঃ পর্যন্ত আনন্দে মুখর পাহাড়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
সাজেক এতিমখানায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ

 

সিএইচটি বার্তা ডেস্ক :

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব ‘সাংগ্রাই’ শুরু হচ্ছে কাল থেকে। ১৪, ১৫ ও ১৬—এই তিনদিনব্যাপী চলবে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব। ইতোমধ্যে উৎসবকে ঘিরে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পাইংছোয়াই (ফুল সংগ্রহ), সাংগ্রাই জিহ (সাংগ্রাই বাজার) থেকে শুরু করে প্রধান সাংগ্রাই, বুদ্ধ স্নান, ধর্মদেশনা, মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং শেষদিনের প্রাণবন্ত “রিলংপোয়েঃ” (জলকেলি উৎসব)—সব মিলিয়ে উৎসবকে ঘিরে বইছে আনন্দের বন্যা।

 

সাংগ্রাইয়ের সূচনা হয় পূর্ব প্রস্তুতির মাধ্যমে। এ সময় প্রত্যেক ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, পুরনো জিনিসপত্র গোছানো এবং নতুন বছরকে বরণ করার মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। পাহাড়ের প্রতিটি পরিবারে শুরু হয় নতুন দিনের প্রত্যাশা আর পুরনো বছরের গ্লানি ভুলে যাওয়ার আয়োজন। অনেক পরিবারে চলে ঘর সাজানো, অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির আয়োজন।

এরপর আসে পাইংছোয়াই বা ফুল সংগ্রহের দিন। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে পাহাড় ও বনাঞ্চলে গিয়ে নানা রঙের ফুল সংগ্রহ করে। সংগৃহীত এসব ফুল দিয়ে সাজানো হয় ঘরবাড়ি, উঠান এবং বৌদ্ধ বিহার। ফুলের এই আয়োজন শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়; এটি পবিত্রতা, শান্তি ও নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। প্রবীণদের মতে, “ফুলের মতো নির্মল হোক মানুষের মন—এই প্রত্যাশাই পাইংছোয়াইয়ের মূল বার্তা।”

সাংগ্রাই জিহ বা সাংগ্রাই বাজার উৎসবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। উৎসবের আগে বাজারগুলোতে জমে ওঠে কোলাহল। নতুন পোশাক, ঐতিহ্যবাহী খাবারের উপকরণ, মিষ্টান্ন, ফলমূল এবং নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাবেচায় ব্যস্ত হয়ে ওঠেন মানুষজন। অস্থায়ী দোকানপাট বসে, বাড়ে ক্রেতাদের ভিড়। বাজার ঘিরে তৈরি হয় প্রাণবন্ত পরিবেশ, যেখানে মিলিত হয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ, যা সম্প্রীতির এক অনন্য চিত্র তুলে ধরে।

প্রধান সাংগ্রাইয়ের দিনটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এদিন সকাল থেকেই সবাই নতুন পোশাকে সজ্জিত হয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। ঘরে ঘরে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষই অংশ নেয় এই আনন্দঘন আয়োজনে।

বিকেল দিকে বুদ্ধ স্নান ও ধর্মদেশনা সাংগ্রাইয়ের অন্যতম পবিত্র অংশ। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বুদ্ধ মূর্তিতে পবিত্র পানি ঢেলে স্নান করান, যা আত্মশুদ্ধি ও পাপমোচনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। পাশাপাশি বৌদ্ধ ভিক্ষুরা ধর্মদেশনা প্রদান করেন, যেখানে মানবতা, সহমর্মিতা, শান্তি ও নৈতিকতার শিক্ষা তুলে ধরা হয়। এই ধর্মীয় অনুশীলন উৎসবকে আধ্যাত্মিক গভীরতা প্রদান করে।

সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও আবেগঘন ও পবিত্র। বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে জ্বলে ওঠা অসংখ্য মোমবাতির আলো যেন অন্ধকার দূর করে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক হয়ে ওঠে। এ সময় অনেকেই প্রার্থনায় অংশ নেন এবং নিজের ও সমাজের মঙ্গল কামনা করেন।

সবশেষে আসে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব “রিলংপোয়েঃ” বা জলকেলি উৎসব। এদিন তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। হাসি-আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। এটি মূলত পুরনো বছরের দুঃখ-কষ্ট ধুয়ে ফেলে নতুন বছরকে বরণ করার প্রতীকী আয়োজন। জলকেলির এই উৎসব পাহাড়ি সংস্কৃতির প্রাণচাঞ্চল্য, ঐক্য ও পারস্পরিক ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

স্থানীয়দের মতে, সাংগ্রাই শুধু একটি উৎসব নয়—এটি তাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এই উৎসবের মাধ্যমে মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ এই উৎসবকে করে তোলে আরও বৈচিত্র্যময় ও প্রাণবন্ত।

 

বক্তারা জানান, “সাংগ্রাই আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের সময়। পূর্ব প্রস্তুতি থেকে শুরু করে রিলংপোয়ে : পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ আমাদের সংস্কৃতির অংশ। আমরা বিশ্বাস করি, এই উৎসব আমাদের জীবনের সব দুঃখ-গ্লানি দূর করে নতুন আশার আলো নিয়ে আসে। সকলের মাঝে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক—এই প্রত্যাশাই আমাদের।”

উৎসবের এই ধারাবাহিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি জনপদ এখন এক আনন্দমুখর পরিবেশে রূপ নিয়েছে। ১৪, ১৫ ও ১৬ এপ্রিল তিনদিনব্যাপী এই সাংগ্রাই উৎসবকে ঘিরে তাই সবার মাঝে বিরাজ করছে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও অনাবিল আনন্দ।

দীঘিনালায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাবসায়ীদের অর্থ সহায়তা দিলো খাগড়াছড়ি রিজিয়ন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫১ এএম
সাজেক এতিমখানায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ

 

মোঃ আক্তার হোসেন, খাগড়াছড়িঃ

খাগড়াছড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়ন।

আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে দীঘিনালা জোনের আয়োজনে নতুন বোয়ালখালী বাজারে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৮ জন ব্যাবসায়ীদের মধ্যে  খাগড়াছড়ি রিজিয়নের পক্ষ হতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৩৪ জন ব্যাবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা করে এবং ১৪ জন ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদেরকে ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়।

উক্ত সহায়তা প্রদান করেন দীঘিনালা জোন উপ-অধিনায়ক মেজর শিহাবুন সাকিব রুশাদ। এসময উপস্থিত ছিলেন, ক্যাপ্টেন আবদুল্লা আল আজমী, ক্যাপ্টেন শেখ সাব্বির আহমাদ,সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন, বোয়ালখালী বাজার কমিটির সভাপতি সুভাষ সাহা, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন প্রমুখ।

উল্লেখ্য যে, গত ২৭ মার্চ রাতে নতুন বোয়ালখালী বাজারে অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই হয় ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান।

হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে কাপ্তাই চিৎমরমে মংখ্যাচিং মারমা মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৬ পিএম
সাজেক এতিমখানায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি :

রাঙ্গামাটি কাপ্তাই উপজেলায় বন্যহাতির আক্রমণে মংখ্যাইচিং মারমা (৫৭) নামের এক ব্যাক্তি নিহত হয়েছেন। রবিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার ৩নং চিৎমরম ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের দুর্গম চাকুয়া পাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মংখ্যাইচিং মারমা (যিনি এলাকায় মাস্টার নামে পরিচিত ছিলেন) চিৎমরম বড় পাড়া এলাকার মৃত সাথোয়াই প্রু মারমার ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়েশ্লিমং চৌধুরী জানান, রবিবার সন্ধ্যায় মংখ্যাইচিং মারমা চাকুয়া পাড়া সংলগ্ন গভীর জঙ্গলে নিজের গরু খুঁজতে গিয়েছিলেন। এসময় তিনি আকস্মিকভাবে একদল বন্যহাতির সামনে পড়ে যান। বন্যহাতিটি তাকে শুঁড় দিয়ে সজোরে আছাড় দিলে এবং আক্রমণ করলে তিনি গুরুতর জখম হন। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় তাৎক্ষণিক সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শাকের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি তদারকি করছে। ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে এবং তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে কিছুটা সময় লাগলেও আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কাপ্তাই রেঞ্জ অফিসার ওমর ফারুক স্বাধীন গভীর শোক প্রকাশ করে জানান,

​”বন্যহাতির আক্রমণে মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বন বিভাগের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পাহাড়ে খাদ্যাভাবের কারণে বন্যহাতিরা প্রায়ই লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসছে। সাধারণ মানুষকে পাহাড়ি পথে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি হাতি দেখা গেলে নিজ হাতে আইন তুলে না নিয়ে দ্রুত বন বিভাগকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।

​এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন সড়ক ও পাহাড়ি জনপদে বন্যহাতির উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর লোকালয়ে হাতির আনাগোনা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে জানমাল রক্ষায় এবং হাতির করিডোরগুলোতে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।নিহত মংখ্যাইচিং মারমার অকাল প্রয়াণে চিৎমরম এলাকায় বর্তমানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

×