| ৫ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম:

হাজার হাজার আদিবাসীদের উৎসবে পোশাকে রঙিন পতাকা, প্ল্যাকার্ড এবং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ঘাগড়ায় বৈসাবি’র শোভাযাত্রা

হাজার হাজার আদিবাসীদের উৎসবে পোশাকে রঙিন পতাকা, প্ল্যাকার্ড এবং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ঘাগড়ায় বৈসাবি’র শোভাযাত্রা

বৌদ্ধ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও রাতব্যাপি সাংস্কৃতিক অনুষ্টান

 

সিএইচটি বার্তা ডেস্ক :

হাজার হাজার মানুষ উৎসবের পোশাকে রঙিন পতাকা, প্ল্যাকার্ড এবং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে পথে নেমেছে। সবার মুখে আনন্দের হাসি। ​ ছবিতে আদিবাসী নারীরা নীল, লাল এবং সবুজ রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরছেন। পুরুষরা গায়ে ধুতি এবং মাথায় পাগড়ি বেঁধেছেন। সবার গায়েই অলঙ্কার দেখা যাচ্ছে। ​র‌্যালিতে নানা ধরণের বাদ্যযন্ত্র বাজানো হচ্ছে।

কেউ গানে গানে কেউবা নেচে গেয়ে, আর কেউবা বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মেতেছেন অসংখ্য তরুন-তরুনী, কিশোর-কিশোরীরা। যেমন: মন্দিরা, ঝাঝঁ, ঢাক ইত্যাদি। অনেকে বাদ্যের তালে তালে নৃত্য করছেন। ​প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার: ছবিটির মাঝখানে বড় বড় প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যাচ্ছে। সেখানে লেখা আছে- ​”বিজু উৎসবের শুভেচ্ছা” ​”ফুল বিজু, মূল বিজু, গোজ্যেপজ্যে- সবাইকে জানাই ভালোবাসা” ​”১২ তারিখ ফুল বিজু, ১৩ তারিখ মূল বিজু, ১৪ গোজ্যেপজ্যে” ​”বিজু র‌্যালি – ২০২৬ ​ পুরো রাস্তা মানুষে ভরে গেছে।

বৈসাবির শোভাযাত্রায় অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দীপেন তালুকদার দিপু, কাউখালী ইউএনও কাজী আতিকুর রহমান, বিএনপি নেতা অর্জুন মনি চাকমা, বৌদ্ধ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি পূর্ণ্যধন চাকমা, ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চন্দ্রা দেওয়ান, বিএনপি নেতা বিমল চাকমা সহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ সহ ঘাগড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা।

রাস্তার দু’পাশে বাড়ির ছাদ এবং বারান্দা থেকেও মানুষ র‌্যালি দেখছে। উৎসবের আনন্দ পুরো পরিবেশকে মুগ্ধ করেছে। ​প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: ছবিটির ব্যাকগ্রাউন্ডে দেখা যাচ্ছে সুন্দর পাহাড় এবং নদী। বিজু উৎসবের সময় প্রকৃতির রূপ আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। ​ সবার মুখে উজ্জ্বল হাসি এবং চোখে আনন্দের উচ্ছ্বাস। এই ছবিটি দেখলে বিজু উৎসবের আনন্দ এবং ঐতিহ্য মনে গেঁথে যাবে। ​ছবিটি তৈরি করতে আধুনিক ছবি তৈরির সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। বিভিন্ন উৎসবের ছবি এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ছবিগুলি একসাথে করে এই সুন্দর ছবিটি তৈরি হয়েছে।

​বিজু উৎসব মূলত তিনদিনের উৎসব। প্রথমদিন হলো ‘ফুল বিজু’। এই দিনে মানুষ ঘর-বাড়ি সাজায় এবং ফুল দিয়ে পূজো করে। দ্বিতীয় দিন হলো ‘মূল বিজু’। এই দিনে বড় ধরণের উৎসব এবং র‌্যালি হয়। তৃতীয় দিন হলো ‘গোজ্যেপজ্যে’। এই দিনে মানুষ বন্ধুদের বাড়িতে বেড়াতে যায় এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করে।  এভাবে বিজু উৎসবের আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নেন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরা। অসেকে বন্ধু-বান্ধবদের সবাইকে অগ্রীম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আজ ১০ এপ্রিল শুক্রবার রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার বৌদ্ধ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে এবং ঘাগড়া এলাকাবাসীদের সহযোগিতায় আদিবাসীদের সার্বজনীন ভাবে দিনব্যাপী ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হলো বৈসাবি উৎসব উপলক্ষে বৈসাবির শোভাযাত্রা। এ উপলক্ষে সকালে বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গন থেকে একটি শোভাযাত্র বের করে ঘাগড়া এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বিদ্যালয় মাঠে এসে সমাপ্তি ঘটে। এ লক্ষে দিনব্যাপী পাহাড়িদের সামাজিক রীতিনীতিতে ঘিলা খেলা, দৌড়, রশি টানাটানি, বলি খেলা সহ নানাধরনের খেলা আয়োজন করা হয়। এরপর বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় শিল্পী ও অতিথি শিল্পীদের একটি নাচ, গানের ডিসপ্লে প্রদর্শনী করা হয়। পরে বৈসাবি শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বৈসাবির পাহাড়িদের পাজন পরিবেশন করা হয়। এবং বিকেলে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং সন্ধ্যা থেকে রাতব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্টান আয়োজন করা হয়েছে।

টানা বর্ষণে নাইক্যছড়ায় ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে ৪০ পরিবারের বসতভিটা — জরুরি ভিত্তিতে গ্রেটওয়াল নির্মাণের দাবি

হাজার হাজার আদিবাসীদের উৎসবে পোশাকে রঙিন পতাকা, প্ল্যাকার্ড এবং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ঘাগড়ায় বৈসাবি’র শোভাযাত্রা

 

রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাইক্যছড়া পাড়ায় টানা ভারী বর্ষণের কারণে ছড়ার তীব্র স্রোতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ছড়ার দুই পাশের পাহাড়, চাষযোগ্য জমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ ভাঙনের কারণে বর্তমানে ওই এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহব্যাপী অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে নাইক্যছড়া পাড়ার পাশ দিয়ে প্রবাহিত পানির ছড়ায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পায়। মাত্র প্রায় ৫ ফুট প্রস্থের ছোট এই ছড়ায় প্রবল স্রোত সৃষ্টি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে দুই তীর ভাঙতে শুরু করে। পানির স্রোতে ছড়ার পাড়ের মাটি সরে গিয়ে আশপাশের পাহাড়ি ভূমি, কৃষিজমি এবং বসতভিটার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, ছড়ার পানি ইতোমধ্যে পাড়ার ভেতরে প্রবেশ করছে। বর্ষার পানি আরও বৃদ্ধি পেলে ছড়ার পাড় ধসে পড়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক পরিবার প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। রাতের বেলায় ভারী বৃষ্টি হলে তাদের মধ্যে ভাঙনের ভয় আরও বেড়ে যায়।

নাইক্যছড়া পাড়ার বাসিন্দারা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করে আসছি। কিন্তু এবারের বর্ষায় ছড়ার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি ও জায়গাজমি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত গ্রেটওয়াল নির্মাণ করে আমাদের বসতভিটা রক্ষা করা হোক।”

 

এলাকাবাসীর দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৮০ ফুট দীর্ঘ গ্রেটওয়াল (Retaining Wall) নির্মাণ করা প্রয়োজন। এর মধ্যে ছড়ার এক পাশে প্রায় ৫০ ফুট এবং অপর পাশে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হলে পানির স্রোতের চাপ কমবে এবং ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।

স্থানীয়দের মতে, ছড়ার দুই পাশে বসবাসকারী প্রায় ৪০টি পরিবারের মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক মানুষ রয়েছেন। যেকোনো বড় ধরনের ভাঙন হলে এসব পরিবারের জানমাল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার অপেক্ষা না করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এখনই গ্রেটওয়াল নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি থেকে নাইক্যছড়া পাড়ার মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি ছড়া ও নদীগুলোতে বর্ষাকালে পানির প্রবল স্রোতে প্রতিবছরই ভাঙনের ঘটনা ঘটে। তবে নাইক্যছড়া পাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নাইক্যছড়া পাড়াবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং গ্রেটওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে তাদের বসতভিটা ও জীবন-জীবিকা নিরাপদ করবেন।

বিলাইছড়িতে আশিকা কর্তৃক আরও ২০৭ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

হাজার হাজার আদিবাসীদের উৎসবে পোশাকে রঙিন পতাকা, প্ল্যাকার্ড এবং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ঘাগড়ায় বৈসাবি’র শোভাযাত্রা

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকা ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েট বিলাইছড়ি উপজেলায় আরও ২০৭ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছে। গতকাল সহ দুই দিনে ছয়শত পরিবারের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম শেষ করল।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৯ টা হতে আশিকার ইউনিয়ন ফোকাল পারসন সুজন তঞ্চঙ্গ্যার নেতৃত্বে  ফারুয়া ইউনিয়নে তক্তানালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে এইসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড মেম্বার উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা (হেডম্যান), ভরত চন্দ্র কার্বারী এবং সংস্থা’র অন্যান্য মাঠ কর্মীরা।

ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে চাল ৪০ কেজি, তেল ৩ লিটার, চিনি ১ কেজি, ডাল ২ কেজি, লবণ ১ কেজি, আলু ১ কেজি, পেঁয়াজ ১ কেজি, রসুন ৫০০ গ্রাম, নাপ্পি ১ কেজি, বালতি ২০ লিটার ১টি, লাইফ বয় সাবান ২টি, প্লাস্টিক মগ ১টি, ওরস্যালাইন ১০টি, গামছা ১টি, ডিটারজেন্ট পাউডার ১ কেজি, বদনা ১টি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ১০টি।

বিলাইছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে বীজ ধান বিতরণ

হাজার হাজার আদিবাসীদের উৎসবে পোশাকে রঙিন পতাকা, প্ল্যাকার্ড এবং বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ঘাগড়ায় বৈসাবি’র শোভাযাত্রা

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

বিলাইছড়ি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে কৃষি অফিস কর্তৃক ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০ টায় উপজেলা ঘাট হতে এইসব বীজ ধান বিতরণ করা হয়। মোট ধানের বীজ- ৩৫৫ জনের মধ্যে ফারুয়া ইউনিয়নে ২৫৫, সদর ৭০, কেংড়াছড়ি ৩০ জনকে ৫ কেজি করে দেওয়া হয়েছে

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি শামসু তঞ্চঙ্গ্যা, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রাজেশ প্রসাদ রায়, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ওমর ফারুক, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমনগুপ্ত, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনুময় চাকমা, বদিউল আলম, সুকান্ত কুমার মোদক, রুবেল বড়ুয়া প্রমূখ।

×