বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম:

আড়াই লাখ টাকার প্রকল্প পাঁচ হাজার টাকার কাজ ! রুমায় কাবিটা প্রকল্প নিয়ে তোলপাড়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬, ৬:৩৮ পিএম
1 বার পড়া হয়েছে
আড়াই লাখ টাকার প্রকল্প পাঁচ হাজার টাকার কাজ ! রুমায় কাবিটা প্রকল্প নিয়ে তোলপাড়

 

রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমায় আড়াই লাখ টাকার কাবিটা-কাবিখা প্রকল্পে মাত্র পাঁচ হাজার টাকার কাজ দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পাড়া থেকে বাজার ও অফিসপাড়া পর্যন্ত এ নিয়ে চলছে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

জানা গেছে, গত ২৩ জুন তিন পার্বত্য জেলার জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘পার্বত্যনিউজ ডটকম’-এ “বান্দরবানে রুমা কাবিটা-কাবিখা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় এবং এলাকাজুড়ে শুরু হয় আলোচনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক চাপের মুখে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য অংখ্যাইসা মার্মা ২৪ জুন সকালে রুমা বাজার থেকে পাঁচজন শ্রমিক নিয়ে প্রকল্প এলাকায় যান। শ্রমিকরা সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যালয় মাঠের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘এলিম-ছাংদালা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংস্কার’ প্রকল্পের জন্য আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও মাঠ সংস্কারের দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। পাঁচজন শ্রমিক দিয়ে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করানোর বাইরে আর কোনো কাজ হবে কি না, সে বিষয়েও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা কিছু জানাননি।

পাড়াবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অংখ্যাইসা মার্মা জানিয়েছেন, রুমা বাজার থেকে আনা পাঁচজন শ্রমিককে দৈনিক এক হাজার টাকা হারে মোট পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। তবে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পের আওতায় আরও কোনো কাজ করা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।

এদিকে, অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তবে অভিযুক্ত মেম্বার ও তার অনুসারীদের রোষানলে পড়ার আশঙ্কায় তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

স্থানীয় পাড়াবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০০ আসনের সংসদ সদস্যের অনুকূলে কাবিটা-কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ১নং পাইন্দু ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে ‘এলিম-ছাংদালা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংস্কার’ প্রকল্পের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে প্রকল্পের মোট বরাদ্দের অর্ধেক অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলিম-ছাংদালা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মংক্যউ মার্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খেলার মাঠ সংস্কারের জন্য আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কিংবা পাড়াবাসীকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য অংখ্যাইসা মার্মা বলেন, পাড়াবাসীর পরামর্শে প্রথমে বৌদ্ধবিহার এলাকায় মাঠ সংস্কারের কাজ করা হয়েছিল। পরে পাড়ার একটি অংশ আপত্তি জানালে বিদ্যালয়ের সামনে মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়। তবে আড়াই লাখ টাকার প্রকল্পে মাত্র পাঁচ হাজার টাকার কাজ করার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. কাউছার বলেন, প্রকল্পের অর্ধেক অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছিল। কাজ সম্পন্ন না হলে কোনোভাবেই চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হবে না।

বর্ষায় আরও ভয়াবহ রুইফ পাড়ার রাস্তা, দ্রুত সংস্কার চায় স্থানীয়রা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬, ৫:০৪ পিএম
আড়াই লাখ টাকার প্রকল্প পাঁচ হাজার টাকার কাজ ! রুমায় কাবিটা প্রকল্প নিয়ে তোলপাড়

 

মথি ত্রিপুরা , রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলার ৪ নং গালেংঙ্গ্যা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের রুইফ পাড়ার একমাত্র সংযোগ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

থানচি- প্রধান সড়ক থেকে রুইফ পাড়া পর্যন্ত প্রায় ১০০ থেকে ২০০ ফুট দীর্ঘ এই সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি সম্ভবত ২০০২ সালে পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সড়কটির কোনো সংস্কার বা উন্নয়ন কাজ হয়নি।

পরিদর্শন কালে স্থানীয় ইউপি সদস্য ঙাংরাও ম্রো জানান, অতীতেও তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় সড়কটির সংস্কার সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে আমরা নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছি। আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

রুইফ পাড়ার বাসিন্দারা জানান, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে তাদের কৃষিপণ্য, জুমের ফসল ও বাগানের ফলমূল প্রধান সড়কে নিয়ে যেতে চরম কষ্ট করতে হয়। যানবাহন পাড়ার নিচ পর্যন্ত যেতে না পারায় মাথায় বা কাঁধে করে মালামাল বহন করতে হয়।এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটি সংস্কার করা হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ম্রো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী “চাংক্রান পয় মেলা” রুইফ পাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বান্দরবানের সাতটি উপজেলা ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা জাতি, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ মেলায় অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়কের কারণে দর্শনার্থীদের চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। অনেক সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটে।

এদিকে, একই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে এলাকার শিক্ষার্থীরা। এক ছাত্রী জানায়, বর্ষাকালে সড়কটি অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে যায়। ফলে স্কুলে যেতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রুইফ পাড়ার বাসিন্দারা। তাদের আশা, সড়কটির উন্নয়ন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

দীঘিনালায় ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬, ৪:২৯ পিএম
আড়াই লাখ টাকার প্রকল্প পাঁচ হাজার টাকার কাজ ! রুমায় কাবিটা প্রকল্প নিয়ে তোলপাড়

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের মুরাঘোরা এলাকায় সুজন চাকমা (২৭) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের কর্মী বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে বাবুছড়া এলাকার মুরাঘোরা এলাকায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। নিহত সুজন চাকমা দীঘিনালা উপজেলার ৩ নম্বর কবাখালী ইউনিয়নের তারাবনিয়া এলাকার বিন্দু মোহন চাকমার ছেলে।

ইউপিডিএফ (প্রসীত) সূত্র দাবি করেছে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জেএসএসের একটি গ্রুপ জড়িত। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেএসএস সন্তুু লারমার দলের পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।”

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

থানচিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬, ৩:৪৯ পিএম
আড়াই লাখ টাকার প্রকল্প পাঁচ হাজার টাকার কাজ ! রুমায় কাবিটা প্রকল্প নিয়ে তোলপাড়

 

চিংথোয়াই অং মার্মা, থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

“ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবানের থানচিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে বায়োডাইভারসিটি ইকোসিস্টেম রেস্টোরেশন ফর কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স ইন সিএইচটি (BERCR) প্রকল্পের উদ্যোগে উপজেলা সদরের চাইয়াং পাড়া, ওয়াক চাকু পাড়া, ওয়াক পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং শান্তিরাজ মিশন স্কুল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

ইউএনডিপি-সিএইচটি’র সহযোগিতায় এবং বান্দরবান জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে উপজেলা সমন্বয়কারী পাইথুই প্রু খিয়াং অন্তর জানান, থানচি সদর থেকে তুমা-তুঙ্গী পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, ওয়াক পাড়া সরকারি প্রাথমিক স্কুলের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক এল রবার্ট ম্রো:, শান্তিরাজ মিশন স্কুলের প্রধান শিক্ষক লিনা মান্ডি, উপজেলা সমন্বয়কারী পাইথুই প্রু খিয়াং অন্তর প্রমূখ। এবং কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় পাড়াবাসী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তারা।

×