অনলাইন ঋণ দ্রুত অ্যাপের বিরুদ্ধে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
ছবি – প্রতিকী
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি :
রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং রাঙামাটি প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত সাংবাদিক উচ্চপ্রু মারমা (৩৪) একটি অনলাইন ঋণদানকারী অ্যাপ Druto Cash-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা, মানসিক হয়রানি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
তার দাবি, গত জুন মাসে জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে তিনি Druto Cash অ্যাপ থেকে ২ হাজার টাকা ঋণের জন্য আবেদন করেন। ঋণ গ্রহণের আগে অ্যাপে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৯০ থেকে ১৮০ দিন। সেই শর্তের ওপর আস্থা রেখেই তিনি ঋণ গ্রহণ করেন।
কিন্তু ঋণের টাকা পাওয়ার পরই তিনি বিস্মিত হন। ২ হাজার টাকা ঋণ অনুমোদন হলেও তার হিসাবে জমা হয় মাত্র ১ হাজার ৩০০ টাকা। বাকি ৭০০ টাকা বিভিন্ন চার্জ, সার্ভিস ফি বা অন্য কোনো খাতে কেটে রাখা হয়েছে বলে তার অভিযোগ।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক উচ্চপ্রু মারমা অভিযোগ করে বলেন, ঋণ নেওয়ার এক সপ্তাহও পার হয়নি, এরই মধ্যে বিভিন্ন অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে তাকে বারবার ফোন করে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া শুরু হয়। শুধু ফোনকলই নয়, হোয়াটসঅ্যাপে অশালীন ভাষায় বার্তা পাঠানো, অপমানজনক মন্তব্য এবং নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “অ্যাপে যখন ৯০ থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে ঋণ পরিশোধের কথা বলা হয়েছে, তখন এক সপ্তাহের মাথায় কেন আমাকে চাপ দেওয়া হবে—এ বিষয়টি জানতে আমি বারবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো কার্যকর সাড়া পাইনি। বরং হয়রানির মাত্রা আরও বেড়েছে।”
উচ্চপ্রু মারমার ভাষ্য অনুযায়ী, মানসিক চাপ ও হয়রানি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত তিনি ঋণ নেওয়ার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই ২ হাজার ৮০০ টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। অথচ তার হাতে এসেছিল মাত্র ১ হাজার ৩০০ টাকা। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রাপ্ত অর্থের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, অনলাইন ঋণ অ্যাপটির কার্যক্রম সাধারণ মানুষের সরলতা ও জরুরি আর্থিক প্রয়োজনকে পুঁজি করে পরিচালিত হচ্ছে। আকর্ষণীয় শর্ত দেখিয়ে ঋণ দেওয়া হলেও পরে অস্বাভাবিক অর্থ আদায়, মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তার মতো ঘটনা ঘটছে বলে তার অভিযোগ।
এ ঘটনায় তিনি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বাংলাদেশ ব্যাংক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অনলাইন ঋণদানকারী অ্যাপ থেকে ঋণ গ্রহণ না করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন ঋণ অ্যাপকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত সুদ আদায়, গোপন চার্জ, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং মানসিক হয়রানির অভিযোগ বাড়ছে। তাই এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
Druto Cash-এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

টানা বর্ষণে কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বস্তি, পাহাড় ধসে চার ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ


