| ৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা – প্রস্তুত ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা – প্রস্তুত ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র

 

সিএইচটি বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :

জেলা প্রশাসন- রাঙ্গামাটি পৌরসভা সহ ফায়ার সার্ভিস এর যৌথভাবে মাইকিং করে পাহাড়ধস প্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান জেলা প্রশাসন।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের- প্রভাবে টানা মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটি’তে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে সোমবার সকাল থেকে মাইকিং করে এলাকায় -এলাকায় সতর্ক মূলক বার্তা দেয়া হয়।

ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, অচল জীবন: কাপ্তাইয়ে ঝিরির ঢল ও পাহাড় ধসের আতঙ্ক

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা – প্রস্তুত ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে রাঙ্গামাটি কাপ্তাই উপজেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকি চরমে পৌঁছেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো পাহাড় ধস, গাছ উপড়ে পড়া ও বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী পরিবারগুলো চরম আতঙ্ক ও নির্ঘুম রাত পার করছেন। উপজেলার বড়ইছড়ি মারমা পাড়ায় পাহাড় ধসে সুইচিং উ মারমার বসতঘরের একাংশের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে পরিবারটি।

সুইচিং উ মারমা জানান, পরিবারের সবাই চরম আতঙ্কে আছেন। পাহাড়ের আরও বড় অংশ ধসের আশঙ্কায় দ্রুত প্রশাসনের সহায়তা কামনা করেছেন তিনি। অন্যদিকে, ব্যাঙছড়ি মুসলিম পাড়ায় মো. নুরুল আলমের পরিবারসহ আরও অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। টানা চার দিনের বৃষ্টিতে বাড়ির পাশে প্রবহমান প্রাকৃতিক ঝিরিটি ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। ঝিরির প্রবল তোড়ে নুরুল আলমের রান্নাঘর ও টয়লেটের মাটি ধসে যাচ্ছে এবং ঝিরির পাড়ের খুটি বা পিলারগুলো ভেঙে পড়ছে।

এছাড়াও তার বাড়ির উপরে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং পাশে থাকা ৪০-৫০ বছরের পুরনো বিশাল একটি গাছ যেকোনো সময় ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তার পরিবার নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। টানা বৃষ্টির ফলে রাইখালী, চন্দ্রঘোনা, ওয়াগ্গা ও চিৎমরমসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। গতকাল কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কের বালুচর এলাকায় পাহাড় ধস ও গাছ পড়ে ৭ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আজ একই এলাকায় পুনরায় গাছ পড়ে সড়ক বাধাগ্রস্ত হলে নৌবাহিনী ও বন বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টায় তা অপসারণ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনুর রহমান। ​দুর্যোগ মোকাবিলায় কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যারা এখনো ঝুকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করছেন, তাদের জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত প্রশাসনের নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি দ্রুত প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

টানা বৃষ্টিতে কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসের আতঙ্ক: প্রাণহানি এড়াতে খোলা হলো ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা – প্রস্তুত ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​টানা চার দিনের অবিরাম ভারী বর্ষণে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলায় পাহাড় ধসের তীব্র ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে ছোট-বড় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রাণহানি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

​উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অব্যাহত বৃষ্টিপাতে কাপ্তাই ইউনিয়নের ঢাকাইয়া কলোনি, ব্যাঙছড়ি মুসলিম পাড়া, বরইছড়ি মারমা পাড়াসহ চন্দ্রঘোনা ও ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় পাহাড় ধসের খবর পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার কর্ণফুলী কলেজ এলাকায় পাহাড় ধসে ফরহাদ ইসলাম ছোটন (৫) ও আরিয়ান ইসলাম জোহান (১০) নামের দুই শিশু আহত হয়েছে। একইদিন বালুচর এলাকায় পাহাড় ধসে কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে প্রায় সাত ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

​২০১৭ সালের ১৩ জুন কাপ্তাইয়ে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১৭ জনের মৃত্যুর ঘটনাটি এখনো জনমনে আতঙ্ক হিসেবে রয়ে গেছে। সেই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসন এবার কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। এ লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য উপজেলায় মোট ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক পরিবার এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া শুরু করেছে।

কর্ণফুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কর্ণফুলী স্টেডিয়াম, কাপ্তাই উচ্চ বিদ্যালয়, মিতিঙ্গাছড়ি পাড়া কেন্দ্র, চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, খ্রিষ্টিয়ান মিশন হসপিটাল ক্লাব, ডলুছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নারানগিরি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাইখালী রিফিউজি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কারিগরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছংড়াছড়ি আবাসিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ, চিৎমরম চাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিৎমরম উচ্চ বিদ্যালয়, কাপ্তাই বিএফআইডিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওয়াগ্গা মুরালীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ওয়াগ্গা সড়ক ও জনপদ অফিসার রেস্ট হাউস এবং ওয়াগ্গা শীলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

​এদিকে, দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে পাহাড়ের ওপরের ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো দ্রুত টেন্ডারের মাধ্যমে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, “আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। ২০১৭ সালের মতো কোনো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা চাই না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুত আছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের প্রতি অনুরোধ—প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসুন। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণের বিষয়টিও আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি।”​দুর্যোগকালীন যেকোনো প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

টানা বর্ষণে ফারুয়া ইউনিয়ন প্লাবিত 

বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিতে রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা – প্রস্তুত ৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র

 

​সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

বিলাইছড়িতে টানা ভারী বর্ষণের ফারুয়া ইউনিয়নে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে জানান উপজেলা বিএনপির সহ – সভাপতি শামসু তঞ্চঙ্গ্যা। বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে তিনি  বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন । তিনি আরও জানান, এলাকা গুলো হলো – তক্তানালা, ওড়াছড়ি, যমুনা ছড়ি,যামু ছড়া, শুক্কর ছড়ি, চাইন্দা,আলেচং, রোয়াপড়া ছড়া, এগুজ্যাছড়ি, ঝাংবিল, ফারুয়া বাজার, উলুছড়ি, তাড়াছড়ি, চাইন্দা পাড়া, গোয়াইনছড়ি পাড়া সহ বেশকিছু এলাকা। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এছাড়াও যমুনা ছড়ির রবার্ট বম জানান, তাদের গীর্জায় বানের পানি ডুকেছে পড়েছে। এবং ঘরবাড়িতেও। অনেক ক্ষতি হয়েছে।

 

নির্ভরযোগ্য সূত্রে আরও জানা গেছে, অনেক ঘরবাড়ি, মদজিদ, গীর্জা এবং পাড়াকেন্দ্রে পানি ডুকে পড়েছে। দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ, কাজে বের হতে পারছেনা নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশুদ্ধ পানির সংকট হয়ে পড়েছে এলাকা গুলো, পানিবাহিত রোগ দেখা দিতে পারে। প্রবল স্রোত হওয়ায় যাতায়াত ও যোগাযোগে চরম অসুবিধা হচ্ছে। ক্ষয়-ক্ষতি পরিমাণ এখন নিরুপন করা সম্ভব হয়। আরো কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত হলে তলিয়ে যাবে ঐ এলাকাগুলো। সুদৃষ্টির প্রয়োজন প্রশাসন ও মন্ত্রণায়ের।

×