| ৮ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম:

চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি টানা বর্ষণে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা বসত বাড়ি পানিতে প্লাবিত

চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি টানা বর্ষণে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা বসত বাড়ি পানিতে প্লাবিত

 

এম এস শ্রাবণ মাহমুদ, স্টাফ রিপোর্টার :

সোমবার (৬ জুলাই)২৬ খ্রিঃ সকাল ৯ঃ০০টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিন চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

টানা অতি ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের প্রভাবে আবারও জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও সড়ক প্লাবিত হয়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে আমবাগান আবহাওয়া অফিসে একই সময়ে ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ভারী বর্ষণের কারণে আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, কাতালগঞ্জ, হালিশহর, কুয়াইশ, কাজিরহাট, আকমল আলী রোড, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, কাপাসগোলা, ফরিদার পাড়া, কাট্টলী ও ঈশান মহাজন সড়কসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ব্যবসায়িক মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দেখা দেওয়ায় কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অনেককে জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।

আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ করার পর প্রধান সড়কের উপর স্তুপকৃত মাঠিগুলো সরানো হয়নি শেখ মুজিব রোড সহ অনেক জায়গায়। ফলে সে মাঠি পুনরায় ড্রেনে ঢুকে পড়ছে পানির স্রোতের সাথে, তাছাড়া উড়াল সেতুর র‍্যাম নির্মানে রাস্তার প্রতিবন্ধকতা, কাদামাঠি ও জমাট পানিতে নাজুক অবস্থা সৃষ্ঠি হয়েছে।

চকবাজারের একজন পথচারী মাওলানা মহিউদ্দিন বলেন, যে যাই বলুক, চট্টগ্রামে মাঝারী বৃষ্ঠি হলেও নগরের অধিকাংশ এলাকার জনজিবন স্থবির হয়ে পড়ে। চকবাজার, বাকলিয়া, বহদ্দার হাট, মুরাদপুর এলাকার অলি-গলিতে দীর্ঘ সময় ধরে হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত থাকে।

এদিকে ইপিজেড এলাকার নিউমুরিং রোড, আকমল আলী রোড, বন্দর টিলায় গিয়ে দেখা যায় রাস্তা ডুবে শত শত দোকানে পানি ঢুকে গেছে। অতি ভারী বৃষ্ঠির পানির সাথে জোয়ারের পানি যুক্ত হয়ে এসব এলাকার নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্ঠি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চান্দগাঁও এলাকার বাসিন্দা ফরিদ বলেন, প্রতি বর্ষাতেই একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সকালে অফিসে বের হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে।
বাকলিয়ার গৃহিনী গোলশান বলেন, বৃষ্টির পর বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে হয়েছে। এত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী আবুল কাশেম বলেন, দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়েছে। বৃষ্টি হলেই ব্যবসায় লোকসান গুনতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সামান্য অতি ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) জানিয়েছে, অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে পানি নিষ্কাশনে কিছুটা বিলম্ব হলেও বিভিন্ন খাল, নালা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই থেকে তিন দিন চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

টানা বর্ষণে কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বস্তি, পাহাড় ধসে চার ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ

চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি টানা বর্ষণে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা বসত বাড়ি পানিতে প্লাবিত

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

​টানা তিন দিনের ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর বাড়ায় কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই বর্ষণ জনজীবনে দুর্ভোগও ডেকে এনেছে ; পাহাড় ধসের কারণে আজ সকালে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে প্রায় চার ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে ৪টি ইউনিট সচল রেখে ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, যা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ​

সহকারী প্রকৌশলী মো. তারেক আহমেদ জানান, উৎপাদিত ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে ১নং ইউনিটে ৩৫ মেগাওয়াট, ২নং ইউনিটে ৩৪ মেগাওয়াট, ৪নং ইউনিটে ২৮ মেগাওয়াট এবং ৫নং ইউনিটে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে হ্রদে পানির স্তর রয়েছে ৭৯ দশমিক ৯ ফুট এমএসএল (মিনসি লেভেল)। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ২৪০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই কেন্দ্রে পানির স্তর ১০৯ ফুট এমএসএল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে স্বস্তি ফিরলেও টানা বর্ষণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ সকালে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসে পড়ে। এতে ভোর থেকে প্রায় চার ঘণ্টা সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের বিশেষ সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

টানা বর্ষণে ফেনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, পাহাড় ধসের শঙ্কা, আতঙ্কে নদীকুলের মানুষ

চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি টানা বর্ষণে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা বসত বাড়ি পানিতে প্লাবিত

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি :

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। ফেনী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অব্যাহত বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন খাল, ছড়া ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদীকূলের মানুষ প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, রাতভর বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ফেনী নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বসতবাড়িতে প্রবেশ করতে পারে। এদিকে বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় মাটি ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর পাহাড়ের মাটি নেমে আসায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, কয়েক দিন ধরে একটানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়েছে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের পাহাড়ধসের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে রামগড় উপজেলা প্রশাসন জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে পাহাড়ধস প্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া এবং প্রয়োজন হলে নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনে নদী ও পাহাড় সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রামগড়ে ১৫টির অধিক আশ্রয়ন কেন্দ্র রয়েছে। এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া বাজার ডাক বাংলা পাড়া প্লাবিত

চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টি টানা বর্ষণে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা বসত বাড়ি পানিতে প্লাবিত

 

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ প্রতিবেদক:

বিরতিহীন ভারি বৃষ্টি ও পাহাড় থেকে বৃষ্টির পানি বাঙ্গালহালিয়া খালের হয়ে উজানে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া বাজার ও ডাকবাংলা পাড়া নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া  ইউনিয়নের অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় বসবাসকারী অন্তত প্রায় ১৫০ পরিবারের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে বেশ কিছু সড়ক। বিরতিহীন বৃষ্টির কারণে রাজস্থলী উপজেলার ১টি ইউনিয়ন গ্রামের লোকালয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় পতিত হচ্ছে।

পার্বত্য অববাহিকার বাঙ্গালহালিয়া নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ের ঢলের পানি বৃদ্ধি পেলেও আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত অতিবিপদসীমা অতিক্রম করেনি। বাজার দিন হওয়াতে সাধারণ ক্রেতা বিক্রিতারা চরম অসুবিধায় পড়েছে। তবে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ বন্যার শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এ এলাকার মানুষ। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়বেষ্টিত গ্রামীণ এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে পাহাড়ে বসবাসকারীদের।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতন করার পরও পাহাড়ে বসবাসকারীরা নিরাপদ স্থানে সরে না যাওয়ায় গতকাল থেকে যারযার বাড়ীতে অবস্থান করছে। বাজার পাশে পানি পানি নিষ্কাশন না থাকায় বৃষ্টির পানির ঢল জলাবদ্ধা পানি বেড়ে যায়।

বাঙ্গালহালিয়া  ইউনিয়নের ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্যা বাপ্পি দে দাবি করেছেন, অতি ভারি বর্ষণের কারণে ইউনিয়নের বাজার ও ডাকবাংলা পাড়া  নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এবং উজানে ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় যেকোনো সময় ভয়াবহ বন্যার দেখা দিবে বলে স্থানীয় জানান।

৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদোমং মারমা বলেন, ‘ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। উজানের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে সেজন্য আমার ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশনের স্লুইস গেটগুলির কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানা যায় ।

×