দীঘিনালায় রাতের আঁধারে কাটা হচ্ছে পাহাড় ; হুমকিতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য
রুপম চাকমা, দীঘিনালা প্রতিনিধি :
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় রাতের আঁধারে একের পর এক পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নজরদারির মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় এস্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে কাটা হচ্ছে বড় বড় পাহাড়।
স্থানীয়দের দাবি, চলতি মাসেই দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০টি পাহাড় কাটার ঘটনা ঘটেছে। দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও চলছে পাহাড় কাটার কাজ। বিশেষ করে রাত নামলেই এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে পাহাড় কাটার তৎপরতা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় কাটার কারণে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ধ্বংস হচ্ছে পাহাড়ি এলাকার জীববৈচিত্র্য। নির্বিচারে পাহাড় কাটার ফলে বৃষ্টির সময় মাটি ধস, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাহাড় কাটা নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোন পদক্ষেপ গ্রহন করতে দেখা যায়নি। তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে দিনের বেলাতেও একটি এলাকায় পাহাড় কাটার ঘটনা ঘটেছে। তখনও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। বর্তমানে আবার রাতের আঁধারে পাহাড় কাটার কাজ চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় কাটার বিষয়ে প্রশাসনের কাছে তথ্য থাকলেও কার্যকর অভিযান বা ব্যবস্থা না নেওয়ায় পাহাড়খেকো চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এতে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড়ের পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবেশ সচেতন মহল বলছেন, পাহাড় একটি এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পরিবেশের ওপর এর বিরূপ প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এবং পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

| ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬













