বাঘাইছড়িতে আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রত্নবোধি নামে এক বৌদ্ধ ভিক্ষু
রুপম চাকমা, দিঘীনালা (খাগড়াছড়ি) :
রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের সুরুংনালা গ্রামে এক বৃদ্ধার বসত ঘর গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোর সকালে এক দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় নারগী চাকমার বসতঘর।
আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে পরিবারটি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। ঘরের আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী—সবই মুহূর্তের মধ্যে ভস্মীভূত হয়।
এমন দুর্দিনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন বঙ্গলতলি ইউনিয়নের জারুল বন বিহারের রত্নবোধি নামেএক বৌদ্ধ ভিক্ষু।
মানবিক উদ্যোগ নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরেন এবং আর্থিক সহায়তার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। তার এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে অনেকেই সাড়া দিতে শুরু করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আগুনের ভয়াবহতায় ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।
প্রতিবেশীরা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি নাগরী চাকমার বসত ঘর।

জারুল বন বিহারের অধ্যক্ষ রত্নবোধি ভান্তে বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা সবাই যদি সামান্য সহায়তার হাত বাড়াই, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।” তিনি আরও জানান, সংগৃহীত অর্থ দিয়ে নতুন করে বসতঘর নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তারা মনে করেন, এমন মানবিক পদক্ষেপ সমাজে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত নারগী চাকমা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের সহায়তা পেলে আমরা আবার নতুন করে শুরু করতে পারবো।”
সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।








