| ২ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

“প্রজ্ঞা ও তারুণ্যের মিলনে আগামীর পথচলা”

“প্রজ্ঞা ও তারুণ্যের মিলনে আগামীর পথচলা”

 

‎লেখক : ‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ ……

‎একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার নবীন প্রজন্মের স্বপ্ন, সাহস ও সৃজনশীলতার ওপর। তারুণ্য হলো পরিবর্তনের অগ্রদূত, নতুন সম্ভাবনার নির্মাতা এবং আগামী দিনের পথপ্রদর্শক। অন্যদিকে প্রবীণরা সমাজের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার, প্রজ্ঞার আলোকবর্তিকা এবং নৈতিক মূল্যবোধের ধারক। এই দুই শক্তির সমন্বয়েই গড়ে ওঠে একটি সুস্থ, গতিশীল ও সমৃদ্ধ সমাজ। নবীনদের উদ্যম এবং প্রবীণদের প্রজ্ঞার মধ্যে যখন আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয়, তখনই সমাজ এগিয়ে যায় উন্নতি ও কল্যাণের পথে।
‎
‎বৌদ্ধ ধর্ম এই পারস্পরিক আস্থা ও মানবিক সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। কারণ বুদ্ধের শিক্ষা কেবল আত্মিক মুক্তির পথই নির্দেশ করে না, বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলারও দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
‎
‎বৌদ্ধ ধর্মে তারুণ্যের মূল্য ও সম্ভাবনা :
‎
‎গৌতম বুদ্ধের জীবন ও কর্ম আমাদের শেখায় যে মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারিত হয় তার বয়স দ্বারা নয়, বরং তার চরিত্র, সাধনা, জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে। বুদ্ধের অনেক প্রধান শিষ্য তরুণ বয়সেই সংঘে প্রবেশ করেছিলেন এবং অধ্যবসায়, আত্মনিয়োগ ও প্রজ্ঞার বলে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে ছিলেন।
‎
‎বুদ্ধ বিশ্বাস করতেন, প্রতিটি মানুষের অন্তরে জাগরণের অসীম সম্ভাবনা নিহিত রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে বিকশিত করার জন্য প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা,   অনুকূল পরিবেশ এবং আস্থাপূর্ণ সম্পর্ক। তাই তরুণদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা মানে কেবল তাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা নয়; বরং তাদের অন্তর্নিহিত শক্তি ও সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়া।
‎
‎আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব, জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান শক্তি। তাদের প্রতি আস্থা রাখা মানে ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা রাখা।
‎
‎মৈত্রী, করুণা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার শিক্ষা :
‎
‎বৌদ্ধ ধর্মের চার ব্রহ্মবিহার—মৈত্রী (মেত্তা), করুণা, মুদিতা এবং উপেক্ষা—মানবিক সম্পর্কের সর্বোচ্চ আদর্শ হিসেবে বিবেচিত। মৈত্রী আমাদের শেখায় সকল প্রাণীর কল্যাণ কামনা করতে, করুণা শেখায় অন্যের দুঃখ উপলব্ধি করতে, মুদিতা শেখায় অন্যের সাফল্যে আনন্দিত হতে এবং উপেক্ষা শেখায় ভারসাম্যপূর্ণ ও উদার মানসিকতা ধারণ করতে।
‎
‎যখন প্রবীণরা নবীনদের প্রতি আস্থা রাখেন, তাদের চিন্তা-ভাবনাকে গুরুত্ব দেন এবং ভুল করার সুযোগসহ শেখার পরিবেশ তৈরি করেন, তখন তারা প্রকৃত অর্থেই মৈত্রী ও করুণার চর্চা করেন। একইভাবে, যখন নবীনরা প্রবীণদের অভিজ্ঞতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করে এবং তাদের পরামর্শ থেকে শিক্ষা নেয়, তখন সমাজে গড়ে ওঠে পারস্পরিক সম্মান ও বিশ্বাসের সংস্কৃতি। আস্থা ও শ্রদ্ধার এই বন্ধনই প্রজন্মের ব্যবধান দূর করে এবং সমাজকে সংঘাতের পরিবর্তে সম্প্রীতির পথে পরিচালিত করে।
‎
‎আস্থা: বিকাশের প্রথম শর্ত :
‎
‎বর্তমান সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই তরুণদের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। তাদের অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতাকে সামনে এনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা নেতৃত্বের সুযোগ থেকে দূরে রাখা হয়। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—প্রতিটি সফল মানুষই একসময় ছিল অনভিজ্ঞ, আর প্রতিটি বড় অর্জনের পেছনে ছিল শেখার দীর্ঘ পথচলা।
‎
‎বুদ্ধের শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে ভুল মানুষের স্বাভাবিক শিক্ষক। ভুলের ভয় নয়, বরং ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণই উন্নতির পথকে সুগম করে। তাই নবীনদের প্রতি অবিশ্বাস নয়, বরং সহানুভূতি, দিকনির্দেশনা এবং উৎসাহ প্রদানই হওয়া উচিত সমাজের দায়িত্ব।
‎
‎যে সমাজ তার তরুণদের ওপর আস্থা রাখতে পারে না, সে সমাজ নিজের ভবিষ্যতের ওপরও আস্থা রাখতে পারে না। কারণ আস্থাহীন পরিবেশ প্রতিভাকে সংকুচিত করে, আর আস্থাপূর্ণ পরিবেশ সম্ভাবনাকে বিকশিত করে।
‎
‎পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের করণীয় :
‎
‎একটি প্রজন্মকে গড়ে তোলার দায়িত্ব কেবল পরিবারের নয়; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে।পরিবারে সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং ভালোবাসা ও বিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে, প্রশ্ন করতে এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ করতে পারে। সমাজে তরুণদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদান করতে হবে। রাষ্ট্রের পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা, নীতিনির্ধারণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিভিন্ন স্তরে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং কর্মশক্তি জাতীয় উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
‎
‎ইতিহাসের আলোকবর্তিকা :
‎
‎মানব সভ্যতার ইতিহাসে যত বড় পরিবর্তন, নবজাগরণ ও অগ্রগতি ঘটেছে, তার পেছনে তরুণদের অবদান অনস্বীকার্য। সমাজ যখন নবীনদের ওপর আস্থা রেখেছে, তখনই নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। আবার সেই পরিবর্তনকে সুসংহত ও স্থায়ী রূপ দিয়েছেন প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা। অতএব, উন্নয়নের প্রকৃত শক্তি কোনো একক প্রজন্মের হাতে নয়; বরং নবীনদের কর্মশক্তি এবং প্রবীণদের জীবনবোধের সম্মিলিত প্রয়াসেই নিহিত।
‎
‎উপসংহার :
‎
‎বৌদ্ধ ধর্মের আলোকে নবীনদের প্রতি আস্থা রাখা কেবল একটি সামাজিক কর্তব্য নয়; এটি মানবিকতা, মৈত্রী, করুণা এবং প্রজ্ঞার এক অনন্য প্রকাশ। তরুণদের সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়া মানে ভবিষ্যতের প্রতি আশা জাগানো, আর তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা মানে একটি উন্নত সমাজের ভিত্তি নির্মাণ করা।
‎
‎আসুন, আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি যেখানে প্রবীণদের প্রজ্ঞা হবে দিকনির্দেশনার আলো, আর নবীনদের শক্তি হবে অগ্রযাত্রার প্রেরণা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়েই নির্মিত হবে একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক, প্রগতিশীল এবং আলোকিত ভবিষ্যৎ।
‎
‎লেখক- সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ
‎গগণমাধ্যম ও সমাজ কর্মী
‎আলীকদম।

বিলাইছড়িতে পালবার লিং সেন্টারের বার্ষিক কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত

“প্রজ্ঞা ও তারুণ্যের মিলনে আগামীর পথচলা”

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় পালবার লিং সেন্টার বাংলাদেশের উদ্যোগে বার্ষিক দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি ২৯৯নং আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভদন্ত দেবানন্দ মহাথের এবং সভাপতিত্ব করেন প্রজ্ঞাবারিধি অধ্যাপক ভদন্ত সুমেধানন্দ মহাথের।

এ সময় ভিক্ষুসংঘের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত বিপস্সী মহাথের, ভদন্ত ওয়ারাসামী মহাথের, ভদন্ত ইন্দাচারা মহাথের এবং পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ দেবতিষ্য ভিক্ষুসহ বিভিন্ন বিহারের ভিক্ষুসংঘ।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী মৈত্রী দেওয়ান, বিলাইছড়ি সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. সাকিব হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভি দাশ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুস সালাম ফকির, সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক উষা কিরণ বড়ুয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো পুণ্যার্থী।

দিনব্যাপী আয়োজনে কঠিন চীবর দানের পাশাপাশি বুদ্ধপূজা, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কল্পতরু দান, পিণ্ডদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় দানানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রভাত কান্তি বড়ুয়ার লেখা বুদ্ধকীর্তন এবং তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর রচিত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন।

দীঘিনালার ছোট মেরুং বিশ্ব শান্তি মৈত্রী ভাবনাকুঠিরে ৫ তম মহান কঠিন চীবর দান উদযাপন

“প্রজ্ঞা ও তারুণ্যের মিলনে আগামীর পথচলা”

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

বিশ্বের সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ছোট মেরুং বিশ্ব শান্তি মৈত্রী ভাবনা কুঠিরে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ৫তম মহান কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার ১নভেম্বর দিনব্যাপি অনুষ্টানে সকালে বুদ্ধ মুর্তিদান, সংঘ দান, অষ্টপরিস্কার দান করা হয়।

এতে অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন নন্দবংশ মহাস্হবির ভান্তে, ছোট মেরং বিশ্ব শান্তি ভাবনা কুঠিরের অধ্যক্ষ সুগতবংশ মহাস্হবির ভান্তে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য শান্তি প্রিয় চাকমা, এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জ্ঞান জীত চাকমা উপস্তিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দেশ ও বিশ্বের সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও ধর্মীয় দেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

পাশাপাশি সকল প্রকার হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি ও অশান্তি দূর হয়ে বিশ্বজুড়ে মৈত্রী, করুণা, ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে দেশনা প্রদানকালে নন্দ বংশ মহাস্হবির ভান্তে বলেন, বুদ্ধ ধর্ম হলো শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের ধর্ম। বুদ্ধের আদর্শ অনুসরণ করে প্রত্যেক মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সবাইকে বুদ্ধের উপদেশ মেনে চলতে হবে। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি পঞ্চশীল পালনের আহ্বান জানান।

নন্দ বংশ ভান্তে আরও বলেন, পঞ্চশীল মানুষের নৈতিক ও আদর্শ জীবন গঠনের অন্যতম ভিত্তি। পঞ্চশীল পালন করলে মানুষ হিংসা, লোভ, মিথ্যা ও অন্যায় থেকে দূরে থাকতে পারে। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যেকের পঞ্চশীল পালন করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি সবাইকে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে মৈত্রী, করুণা, ভালোবাসা ও মানবতার আদর্শে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।

অনুষ্টানে দ্বিতীয় পর্ব উপস্তিত ভিক্ষু সংঘ উদ্দেশ্য কল্পতরু ও কঠিন চীবর দানের মাধ্যমে দিন ব্যাপি কঠিন চীবর দান অনুষ্টান সমাপ্ত হয়।

খাগড়াছড়ি জেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে এমপির প্রতিনিধি দায়িত্ব পেলেন অংগ্য মারমা

“প্রজ্ঞা ও তারুণ্যের মিলনে আগামীর পথচলা”

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে ৩৪ নং সংরক্ষিত সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমার পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন যুব নেতা ও সাংবাদিক অংগ্য মারমা।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদের প্যাডে সংসদ সদস্য মাধবী মারমা স্বাক্ষরিত এক পত্রে অংগ্য মারমাকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

মনোনীত অংগ্য মারমা খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার গঞ্জ পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ মারমা যুব ঐক্য পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং মানিকছড়ি উপজেলা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলার আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে এমপির প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতা ও উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।

তিনি জাতীয় দৈনিক মানবকণ্ঠ, সরেজমিন বার্তা, এই বাংলা পত্রিকার এবং স্থানীয় দৈনিক অরণ্য বার্তা ও আলোকিত পাহাড় পত্রিকার জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়াও অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিএইচটি বার্তা, আজকের প্রতিদিন ও বার্তা বাজার-এ কাজ করার সুবাদে স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখ ও নানা সমস্যার কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘কারিতাস বাংলাদেশ’ এবং সমবায় অধিদপ্তরের অন্তর্ভুক্ত দি মারমা ক্রেডিট ইউনিয়নে বিভিন্ন সামাজিক ও সমবায় সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় অংগ্য মারমা সংসদ সদস্য মাধবী মারমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডকে আরও গতিশীল করতে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে তার দায়িত্ব পালন করবেন।

এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

×