রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :
রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সনাতন ঋষি আশ্রম ও অনাথালয়ের বিরুদ্ধে সম্প্রতি উত্থাপিত ধর্মান্তরের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে আশ্রম কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আশ্রমের সুনাম ক্ষুন্ন করতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীশ্রী সনাতন ঋষি মহারাজ স্বাক্ষরিত এক লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি করা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রায় চার দশক আগে প্রতিষ্ঠিত সনাতন ঋষি আশ্রম ও অনাথালয় মানবকল্যাণ, সমাজসেবা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিষ্ঠানটি অসহায়, অনাথ, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। 
আশ্রম কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটিতে অনাথ শিশুদের লালন-পালন, শিক্ষা প্রদান, চিকিৎসা সহায়তা, খাদ্য ও বস্ত্র সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত ও অসহায় বৃদ্ধদের আশ্রয় ও সহযোগিতাও দেওয়া হয়। প্রতি বছর বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আশ্রমটি সম্পূর্ণ সেবামূলক ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। কোনো রাজনৈতিক সংগঠন, ধর্মীয় গোষ্ঠী কিংবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং সরকারি অনুমোদনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
আশ্রম সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাঙ্গালহালিয়া, আর্মি ক্যাম্প, আর্মি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প এবং আমতলী পুলিশ ক্যাম্পসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে। সমাজের অসহায় মানুষের কল্যাণে পরিচালিত এসব উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে বলে দাবি করা হয়। সম্প্রতি কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও এলাকার এক নারী ভক্ত আশ্রমে অবস্থান নেওয়ার পর একটি মহল তাকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে বলে প্রচার শুরু করে।
আশ্রম কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। আশ্রমের দাবি, সংশ্লিষ্ট নারী স্বেচ্ছায় আশ্রমে অবস্থান করছিলেন এবং তাকে কোনো ধরনের ধর্মীয় চাপ, প্রলোভন বা ধর্মান্তরের প্রক্রিয়ার মধ্যে নেওয়া হয়নি। অথচ কিছু ব্যক্তি আশ্রমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মহলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অপপ্রচারকারীরা শুধু আশ্রমের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে না, বরং এলাকায় দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের পরিবেশও সৃষ্টি করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে সামাজিক অস্থিরতা ও ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হলে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আশ্রম কর্তৃপক্ষ।

সনাতন ঋষি আশ্রম ও অনাথালয়ের অধ্যক্ষ শ্রীশ্রী সনাতন ঋষি মহারাজ বলেন, আমাদের আশ্রমের মূল উদ্দেশ্য মানবসেবা, ধর্মীয় অনুশীলন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কাউকে ধর্মান্তরিত করা বা এ ধরনের কোনো কার্যক্রম পরিচালনার প্রশ্নই আসে না। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি আরও বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আশ্রমের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হোক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বহু জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মিলনভূমি। এখানে সম্প্রীতি বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার যেন কোনোভাবেই সামাজিক শান্তি নষ্ট করতে না পারে।। আশ্রম কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সত্যতা থাকলে তারা আইনি প্রক্রিয়া মেনে জবাবদিহিতা করতে প্রস্তুত। তবে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে একটি দীর্ঘদিনের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সবশেষে আশ্রম কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং এলাকায় বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।