টানা বর্ষণে ফেনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, পাহাড় ধসের শঙ্কা, আতঙ্কে নদীকুলের মানুষ
সাইফুল ইসলাম, রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি :
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। ফেনী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অব্যাহত বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন খাল, ছড়া ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদীকূলের মানুষ প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, রাতভর বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ফেনী নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বসতবাড়িতে প্রবেশ করতে পারে। এদিকে বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় মাটি ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর পাহাড়ের মাটি নেমে আসায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, কয়েক দিন ধরে একটানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়েছে। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের পাহাড়ধসের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে রামগড় উপজেলা প্রশাসন জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে পাহাড়ধস প্রবণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া এবং প্রয়োজন হলে নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনে নদী ও পাহাড় সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রামগড়ে ১৫টির অধিক আশ্রয়ন কেন্দ্র রয়েছে। এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

টানা বর্ষণে কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বস্তি, পাহাড় ধসে চার ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ




