শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম:

অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বান্দরবান পৌরসভা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম
2 বার পড়া হয়েছে
অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বান্দরবান পৌরসভা।

মো আলম; বান্দরবান সংবাদদাতা:

অতিবৃষ্টির কারণে বান্দরবান পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশনের ময়লা-আবর্জনা উপচে পড়ে সংলগ্ন জমি ও ফসল নষ্ট হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন পৌরসভার প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হক।

বুধবার দুপুরে ডাম্পিং স্টেশন এলাকা পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও জমির মালিকদের হাতে এই সহায়তা তুলে দেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য পানির সাথে ভেসে আশপাশের আবাদি জমিতে পড়ে। এতে বেশ কিছু জমির ফসল নষ্ট হয় এবং জমির উর্বরতা ক্ষতির মুখে পড়ে।

এসময় প্রশাসক জনাব এস. এম. মনজুরুল হক ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন,”প্রাকৃতিক দুর্যোগে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের কষ্ট লাঘব করাই আমাদের প্রথম দায়িত্ব। পৌরসভা সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য ডাম্পিং স্টেশনের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

ক্ষতিগ্রস্তরা এই মানবিক সহায়তার জন্য পৌর প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান।এ ধরনের দ্রুত পদক্ষেপকে স্থানীয়রা খুবই ভালো উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

বান্দরবান রোয়াংছড়িতে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট আছে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নেই।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বান্দরবান পৌরসভা।

বান্দরবান সংবাদদাতা:

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ২নং তারাছা ইউনিয়নের ছাংইঙ্গা দানেশ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ছমদ আলী। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি সেক্টর-১ এর অধীনে ভারতে ট্রেনিং নিয়ে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেছেন। তার হাতে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রত্যায়ন পত্র, যেখানে ১৫৩নং গ্রুপ কমান্ডার জলিল বর্কসু স্বাক্ষর করে তার বীরত্বের সাক্ষ্য দিয়েছেন।

কিন্তু এত বছর পরেও সেই সার্টিফিকেটই এখন তার পরিবারের জন্য একমাত্র সম্বল। রাষ্ট্রের স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাননি এই মুক্তিযোদ্ধা।

প্রত্যায়ন পত্রে উল্লেখ আছে, নাম: ছমদ আলী, পিতা: রবত আলী, গ্রাম: ছাংইঙ্গা দানেশ পাড়া, ইউনিয়ন: ২নং তারাছা, থানা: রোয়াংছড়ি, জেলা বান্দরবান সেক্টর ১, এফএফ নং ০২৪।

স্থানীয়রা জানান, দেশ স্বাধীন করতে যিনি জীবন বাজি রেখেছিলেন, বার্ধক্যে এসে তিনি এখন চিকিৎসা, ভাতা, বাসস্থানসহ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত কোনো সহায়তাই পাচ্ছেন না। কাগজপত্র থাকার পরও নানা জটিলতা ও অবহেলার কারণে ফাইল আটকে আছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

ছমদ আলীর পরিবারের দাবি, “বাবা যুদ্ধ করেছেন দেশের জন্য। আজ আমরা শুধু চাই রাষ্ট্র যেন তার প্রাপ্য সম্মান ও অধিকারটুকু দেয়। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, স্বাস্থ্যসেবা আর একটি নিরাপদ বাসস্থান।

বিষয়টি রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বান্দরবান জেলা প্রশাসক এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জরুরি নজরে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যদি অবহেলিত থাকেন, তাহলে প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার ইতিহাস কী বার্তা দেবে?

দেশের জন্য যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের শেষ বয়সটা যেন সম্মানের সাথে কাটে। এটাই এখন তারাছা ইউনিয়নবাসীর প্রত্যাশা।

রুমায় বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৭ পিএম
অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বান্দরবান পৌরসভা।

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ (বিটিকেএস) রুমা উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ, অভিষেক, শপথ গ্রহণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে রুমা সদরস্থ ত্রিপুরা কমিউনিটি সেন্টারে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ রুমা উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত সভাপতি গর্ডেন ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত ত্রিপুরা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি কলেজের প্রভাষক এবং বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ বান্দরবান জেলা শাখার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নোহ ত্রিপুরা, সাবেক ইউপি সদস্য সাথিরাং ত্রিপুরা, ত্রিপুরা যুব কল্যাণ সংসদ রুমা উপজেলা শাখার সভাপতি ইটেন ত্রিপুরা, মেম্বার জনমণি ত্রিপুরা, লাল বাহাদুর ত্রিপুরা, চিংলকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাভে ত্রিপুরা প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন পাড়ার কারবারি, ছাত্র প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে তিন বছর মেয়াদের জন্য দায়িত্ব ও ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এ সময় তাঁদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এবং শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে সংগঠনের ঐক্য সুদৃঢ় করা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে নবনির্বাচিত কমিটির কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ রুমা উপজেলা শাখার নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মেম্বার আন্তনি ত্রিপুরা ।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ রুমা উপজেলা শাখার নির্বাচন প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিজয়ী সদস্যদের নিয়েই তিন বছর মেয়াদি নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

থানচিতে লাইন আছে, বিদ্যুৎ নেই— অন্ধকারে তিন্দুবাসী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম
অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বান্দরবান পৌরসভা।

 

চিংথোয়াই অং মার্মা,
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের থানচিতে দুর্গম তিন্দু ইউনিয়নে বিদ্যুতের খুঁটি, সঞ্চালন লাইন, ট্রান্সফরমার মিটার স্থাপন করা হলেও এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের অপেক্ষায় থাকা সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শতাধিক পরিবারের চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

তারা আরো জানান, বিদ্যুতের সব ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়নি। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেখানে বিদ্যুৎ চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

জানা গেছে, কয়েক বছর আগে সরকারি বিদ্যুতায়ন প্রকল্পের আওতায় তিন্দু ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়। বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন, লাইন টানা, ট্রান্সফরমার মিটার বসানো পরও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, তিন্দু ইউনিয়নের সড়কজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে বিদ্যুতের খুঁটি, টানানো হয়েছে সঞ্চালন লাইন, বসানো হয়েছে ট্রান্সফরমার মিটার। কিন্তু সব প্রস্তুতি থাকার পরও কোনো ঘরেই জ্বলেনি বিদ্যুতের আলো।

স্থানীয় বাসিন্দা লেপাম খুমী, উথোয়াই ওয়াং মারমাসহ অনেকেই জানান, বিদ্যুৎ লাইনের কারেন্ট সংযোগ না করায় দীর্ঘদিন ধরে তারা এখনো অন্ধকারেই বসবাস করছেন। বিদ্যুৎ উন্নয়নের দৃশ্যমান অবকাঠামো থাকলেও বাস্তব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর দাবি জানান তারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজ, কম্পিউটার, ফটোকপি মেশিনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। পর্যটন সম্ভাবনাময় তিন্দু ইউনিয়নে বিদ্যুৎ না থাকায় পর্যটকদের জন্যও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে বংড পাথর শিক্ষা আলো অনাথ আশ্রমের পরিচালক চিংথুইপ্রু মারমা বলেন, তিন্দু ইউনিয়নের বিদ্যুতের অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত, নেই শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে এখনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বৌদ্ধ বিহার, বিজিবি ক্যাম্প ও শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তিন্দু গ্রুপিংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উচচিং মারমা এবং তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পুচিংমং মারমা বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন স্থাপন হলেও এখনো সংযোগ দেওয়া হয়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় বর্ষাকাল ও তীব্র গরমে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা অভাবে আধুনিক শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহারও সম্ভব হচ্ছে না।

অন্যদিকে তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অংক্যসিং মারমা জানান, তিন্দু ইউনিয়নের বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকায় বাধ্য হয়ে উপজেলা সদরে বাসা ভাড়া নিয়ে সেখান থেকে ইউনিয়নবাসীকে অনলাইন ও অফলাইন সরকারি সেবা দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলে জনগণ নিজ এলাকাতেই সহজে এসব সেবা পাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিদ্যুৎ সরবরাহ কর্মকর্তা সবুজ ঘোষ জানান, তিন্দু লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন প্রকল্প অনুমোদন পেলেই এ এলাকাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনা হবে।

×