| ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

কাপ্তাই সীতা পাহার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের অবাধ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি বন বিভাগের

কাপ্তাই সীতা পাহার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের অবাধ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি বন বিভাগের

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির কাপ্তাই সীতা পাহার  সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পর্যটকদের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে গেছে বন বিভাগ। বনাঞ্চলের ভেতরে পর্যটকদের অবাধ যাতায়াত ও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সম্প্রতি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সতর্কতামূলক বিলবোর্ড স্থাপন করেছে কাপ্তাই রেঞ্জ কর্তৃপক্ষ।

​বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শীত মৌসুমসহ বিভিন্ন সময়ে কাপ্তাইয়ের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ট্র্যাকিং বা ঘোরার নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রবেশ করছেন একশ্রেণির পর্যটক। এর ফলে প্রায়শই পর্যটকদের পথ হারিয়ে ফেলার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।

​সর্বশেষ গত ২৯ আগস্ট কাপ্তাইয়ের সীতার পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে ট্র্যাকিংয়ের সময় সন্ধ্যার মুখে পথ হারিয়ে পড়েন কয়েকজন পর্যটক। পাহাড়ি ট্রেইলে নামার সময় এক পর্যটক গুরুতর আহতও হন। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ও সংবাদকর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসে। এ ধরনের ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা ও বনের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষার্থেই এই রক্ষণাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

​কাপ্তাই বন রেঞ্জের রামপাহাড় বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিঠু তালুকদার জানান,কাপ্তাই  সীতা পাহার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ভ্রমণকালীন ঝুঁকি এড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বনের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টানানো বিলবোর্ডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সাধারণ পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বন বিভাগের আশা, সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চললে একদিকে যেমন বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা পাবে, অন্যদিকে পর্যটকরাও বড় ধরনের বিপদের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।

রুমার বেথেল পাড়ায় পানির সংকট নিরসনে ১ লাখ লিটারের ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ

কাপ্তাই সীতা পাহার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের অবাধ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি বন বিভাগের

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি :

বান্দরবানের রুমা উপজেলার বেথেল পাড়ায় দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে ১ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার একটি ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোন। এতে পাড়ার ছয় শতাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের পানির দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হয়েছে।

বেথেল পাড়াবাসীর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানির সংকট ছিল অন্যতম বড় সমস্যা। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করত। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার দূরের পাহাড়ি ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করে দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে বাড়িতে ফিরতে হতো। আবার শুষ্ক মৌসুমে ঝিরির পানি শুকিয়ে গেলে দেখা দিত তীব্র পানির সংকট।

পাড়াবাসীর এ দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পানির সংকটের স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এলাকা পরিদর্শনকালে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান সেনা রিজিয়নের দিকনির্দেশনায় রুমা জোনের উদ্যোগে ১ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।

সেনাসদস্য ও পাড়াবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও তত্ত্বাবধানে দ্রুততম সময়ে নির্মাণকাজ শেষ হয়। বর্তমানে নির্মিত রিজার্ভার থেকে পাড়াবাসী ছাড়াও পথচারীরা সহজেই পানি সংগ্রহ করতে পারছেন।

স্থানীয় কয়েকজন নারী জানান, আগে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ মিটার দূরের পাহাড়ি ঝিরি থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করে উঁচু পাহাড় বেয়ে বাড়িতে ফিরতে হতো। এতে তাদের অনেক কষ্ট হতো। শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি শুকিয়ে গেলে পানির সংকট আরও বেড়ে যেত। ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণের ফলে তাদের সেই দুর্ভোগ অনেকটাই দূর হয়েছে।

বেথেল পাড়ার বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য লাল লুঙ থাং বম বলেন, আমাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা সেনাবাহিনীকে পাশে পাই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আমাদের কাছে আস্থার প্রতীক। ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণের ফলে পাড়াবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিনের পানি সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা সেনাবাহিনীর কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

রুমা উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম পাড়ায় পানির সংকট নিরসনেও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আর্থাপাড়ায় ওয়াটার পাম্প ও জেনারেটর প্রদান, হ্যাপিহিল পাড়ায় ২ হাজার লিটার, চায়ড়াগ্র পাড়ায় ৫ হাজার লিটার এবং সালেম পাড়ায় ১ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক প্রদান এবং বিভিন্ন পাড়ায় ওয়াটার পয়েন্ট নির্মাণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন রুমা জোনের জোন কমান্ডার। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিগোষ্ঠীর মানুষই বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিভেদ ও বিবাদের চক্রান্ত রুখে দিয়ে সম্প্রীতি সুনিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

পাড়াবাসীর ভাষ্য, নতুন ওয়াটার রিজার্ভার নির্মাণের ফলে দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সুপেয় পানির জন্য দূরের পাহাড়ি ঝিরির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে বলে আশা করছেন তারা।

কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন সম্পন্ন

কাপ্তাই সীতা পাহার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের অবাধ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি বন বিভাগের

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

​পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাপ্তাই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও কাপ্তাই ১১ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন (১১ আর ই)-এর ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনসাধারণের জন্য দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। ​

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী চলা এই মেডিকেল কার্যক্রমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ​১১ আর ই ব্যাটালিয়নের অভিজ্ঞ মেডিকেল অফিসার এবং একদল দক্ষ চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এই ক্যাম্প পরিচালিত হয়। ক্যাম্পে আগত রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং ওষুধ প্রদান করা হয়।

এছাড়া বর্তমান সময়ের বিভিন্ন সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টির চাহিদা এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে স্থানীয়দের বিশেষ সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়। ​সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগের ফলে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত পাহাড়ের সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা ও পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পেলেন।

স্থানীয় সুবিধাভোগী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেনাবাহিনীর এই জনকল্যাণমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এমন উদ্যোগ পাহাড়ে সম্প্রীতি ও আস্থার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং সামগ্রিক কল্যাণে রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ​

 

ছবির ক্যাপশন: কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনে স্থানীয় জনসাধারণকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন চিকিৎসকরা।

জনগণের প্রত্যাশা ও উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরবে স্থানীয় গণমাধ্যম

কাপ্তাই সীতা পাহার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের অবাধ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি বন বিভাগের

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও ঘাটতির চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় গণমাধ্যম মাঠপর্যায়ের মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করতে পারে।

২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) খাগড়াছড়ির গুইমারায় ‘সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গুইমারা উপজেলা প্রশাসন ও রামগড় তথ্য অফিস যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা বাপ্পী চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিসকাতুল তামান্না। সভা সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিসের তথ্য কর্মকর্তা জি এম সাইফুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন, রামগড় তথ্য অফিসের তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম।

সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপ্পী চক্রবর্তী। তিনি নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের করণীয় এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে সাংবাদিক শ্যামল রুদ্র, নিজাম উদ্দিন লাভলু, মোশাররফ হোসেন, জসিম উদ্দিন জয়নাল, আবদুল আলী, মীর বাবলু, সাইফুল ইসলাম ও মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ।]

এসময় সাংবাদিক নেতারা বলেন, স্থানীয় সাংবাদিকেরা নিয়মিত মাঠে কাজ করেন। ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা, মানুষের ভোগান্তি ও প্রত্যাশা তাঁদের প্রতিবেদনে সহজে উঠে আসে। এসব তথ্য নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছালে ইশতেহার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়। বক্তারা আরো বলেন, সরকারি দপ্তর ও গণমাধ্যমের মধ্যে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

মতবিনিময় সভায় রামগড়, গুইমারা ও মাটিরাঙ্গা উপজেলার সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

×