| ৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

বাজার চৌধুরীদের ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

বাজার চৌধুরীদের ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

 

রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন এলাকার বাজার চৌধুরীদের নিয়ে ‘বাজার চৌধুরী সম্মেলন–২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাজার চৌধুরীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ঐক্য, সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাঙামাটিতে বাজার চৌধুরী এসোসিয়েশন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন এলাকার বাজার চৌধুরীরা অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান দীপু তালুকদার। এ সময় জেলার বিভিন্ন এলাকার বাজার চৌধুরী, এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাজারকেন্দ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাজার চৌধুরীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে প্রশাসন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়েও তারা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ফলে বাজার চৌধুরীদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপু তালুকদার বলেন, “পার্বত্য এলাকার বাজারগুলো শুধু কেনাবেচার স্থান নয়, এগুলো স্থানীয় মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। বাজার চৌধুরীরা দীর্ঘদিন ধরে এসব বাজারের শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব করা সম্ভব। এজন্য বাজার চৌধুরীদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।”

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বাজার চৌধুরীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, দায়িত্ব পালনকালে সম্মুখীন হওয়া নানা প্রতিবন্ধকতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার বাজারগুলোকে আরও আধুনিক ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার বিষয়ে মতবিনিময় করেন তারা।

আয়োজকরা জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকার বাজার চৌধুরীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যেই এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মেলনে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে বাজার চৌধুরীদের মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত

বাজার চৌধুরীদের ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

 

সিএইচটি বার্তা ডেক্স রিপোর্ট :

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন মাসব্যাপী ‘জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে ছাত্রী হলে বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) দুপুর ৩:৩০ ঘটিকায় ছাত্রী হল প্রাঙ্গণে উক্ত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও এগ্রিকালচারাল এন্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জুনাইদ কবির।

ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী বলেন, “পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি— শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ, বহু মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন এবং অনেকের জীবনে নেমে আসছে ভয়াবহ বিপর্যয়। ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে মুক্ত থাকতে সারা দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই ছাত্রী হলে আমাদের এই কর্মসূচি।” তিনি ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব চলাকালে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং নিজ নিজ চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি রাতে ও দিনে ঘুমানোর সময় বাধ্যতামূলকভাবে মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এডিস মশার বংশবৃদ্ধি হতে পারে এমন সম্ভাব্য স্থানগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক ‘ডেঙ্গু মশক নিধন’ কর্মসূচির আওতায় রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩ (তিন) মাসব্যাপী মশক নিধন কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উক্ত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ছাত্র ও ছাত্রী হলে ফগার মেশিনের সাহায্যে ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে।

আজকের এ কর্মসূচীতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন, প্রক্টর ড. মোঃ ফখরুদ্দিন, ছাত্রী হলের প্রভোস্ট জনাব সপ্তর্ষি চাকমা, সহকারী প্রভোস্ট ধ্বনিতা ত্রিপুরা, ছাত্র হলের প্রভোস্ট জি এম সাখাওয়াত হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিম মাহমুদ, ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ মতিউর রহমান চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, উপ-রেজিস্ট্রার টিংকেল খীসা, এস্টেট দপ্তরের উপ-রেজিস্ট্রার সেতু চাকমাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

কাপ্তাইয়ে চাঞ্চল্যকর হাসিনা বেগম হত্যা মামলা: প্রধান আসামির ফাঁসির আদেশ

বাজার চৌধুরীদের ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

​রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে চাঞ্চল্যকর হাসিনা বেগম ওরফে সুমি হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মোহাম্মদ মাহিবুর কামাল প্রকাশ মোহিবুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় মৃত্যুদণ্ডের রায়।

​মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২২ সালের ১১ মার্চ সন্ধ্যায় রাঙ্গুনিয়ার দোভাষী বাজারের ভাড়া বাসা থেকে কাপ্তাই নতুন বাজারে যান হাসিনা বেগম।

পরদিন (১২ মার্চ) কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা-কাপ্তাই ইউনিয়নের বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে তার ক্ষতবিক্ষত ও আগুনে পোড়ানো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনার পরদিন ১৩ মার্চ নিহতের মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে কাপ্তাই থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও বাদীর নারাজিতে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। পরবর্তীতে পিবিআইয়ের দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি একই আসামির বিরুদ্ধে ফের অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

​মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং অকাট্য তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে। আসামিপক্ষ কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করতে না পারলেও আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন।মামলা পরিচালনাকারী পিপি সিনিয়র অ্যাডভোকেট প্রতিম রায় পাম্পু রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা গেল যে, অপরাধ করে কেউ পার পায় না।”

অন্যদিকে, রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাসুম রহিম জানান, আসামির সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে দ্রুতই উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। আইনানুযায়ী এই রায়ের বিরুদ্ধে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। রাঙামাটি বিচারিক ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল এই রায় সমাজে অপরাধপ্রবণতা হ্রাসে একটি বড় বার্তা বয়ে আনবে বলে মনে করছেন আই বিশ্লেষকরা।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ, সিভিল সার্জনের কাছে সুবিচারের দাবি

বাজার চৌধুরীদের ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

 

সিএইচটি বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রসূতি রোগীর চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও নবজাতকের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত চিকিৎসাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বিকেলেই বাচ্চার মাথা বের হয়ে আসার পরও দীর্ঘ সময় সিজারিয়ান অপারেশনের দোহাই দিয়ে ফেলে রাখা এবং বহিরাগত ক্লিনিকে রেফার করার চেষ্টার পর অবশেষে রাতে স্বাভাবিক প্রসবে প্রসূতির সন্তান জন্ম নিলেও ততক্ষণে নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক সুবিচার ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রাঙামাটির সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

অভিযোগ সূত্র থেকে জানা যায়, রাঙামাটির বরকল উপজেলার ঠেগা খুব্বাং গ্রামের সুজন চাকমার ২০ বছর বয়সী স্ত্রী নীতিশা চাকমাকে সন্তান প্রসবের জন্য গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন শনিবার বিকেলে প্রসব বেদনা বাড়লে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে হাসপাতালের লেবার রুমে নেওয়া হয়। বেলা ৫টার দিকে গর্ভস্থ বাচ্চার মাথা আংশিক বের হয়ে আসলেও ডিউটিতে থাকা নার্স ত্রিসোনা চাকমা জানান, সিজারিয়ান অপারেশন ছাড়া স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব নয়। এ সময় তিনি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার না করে রোগীকে শহরের হাসপাতাল রোড এলাকার ‘এবিসি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’ নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

রোগীর দরিদ্র পরিবার এতে অপরাগতা প্রকাশ করলে এবং পরবর্তীতে স্বজন জ্ঞান বিকাশ চাকমা হাসপাতালে পৌঁছে সিভিল সার্জন ও কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রশাসনিক যোগাযোগ শুরু করলে রাতে পরিস্থিতি বদলায়। অবশেষে অমলা চাকমা নামের এক সিনিয়র নার্সের হস্তক্ষেপে রাত সাড়ে ৮টায় প্রসূতির স্বাভাবিক (নরমাল) ডেলিভারি করানো হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটি প্রসব নালীতে আটকে থাকায় এবং যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় জন্ম নেওয়া নবজাতকটির শারীরিক পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটে।

পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় এবং মা নীতিশা চাকমাকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালেই চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও গাইনি চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও ছুটির দিনের অজুহাতে চিকিৎসা না দিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানোর অপচেষ্টা এবং দীর্ঘ বিলম্বের কারণে নবজাতকের জীবন হুমকির মুখে ফেলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন শিশুটির নানা জ্ঞান বিকাশ চাকমা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জ্ঞান বিকাশ চাকমা বলেন, গতকাল শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে ফেরত পাঠানো হয়। শিশুটির মাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

×