| ২৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

দিঘীনালা দশবন বৌদ্ধ রাজ বিহারে কঠিন চীবর দান উদযাপন

দিঘীনালা দশবন বৌদ্ধ রাজ বিহারে কঠিন চীবর দান উদযাপন

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলার দশবন বৌদ্ধ রাজ বিহারে নানা ধর্মীয় আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার ২৬ অক্টোবর এ উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সকালে বুদ্ধপূজা, বুদ্ধমুর্তি দান, সংঘদান,অষ্টপরিস্কার দান, পিণ্ডদান ও ধর্মীয় দেশনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টানে প্রধান ধর্মালোচক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন ভদন্ত বিমল জ্যোতি মহাথের, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন তনহংকর মহাথের সাধারন সম্পাদক বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভা ধর্মীয় শিক্ষা পরিষদ, ভদন্ত লোক প্রিয় ভিক্ষু পার্বত্য সংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, ভদন্ত শ্রদ্ধা লংকার মহাথের পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শান্তি লুচন চাকমা।

অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘ, দায়ক-দায়িকা, পুণ্যার্থী ও বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

দিনব্যাপী আয়োজনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বুদ্ধের আদর্শ অনুসরণ, মানবকল্যাণ, মৈত্রী, করুণা ও অহিংসার চর্চার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে কল্পতরু ও কঠিন চীবরসহ বিভিন্ন দানীয় সামগ্রী প্রদান করেন পুণ্যার্থীরা।
কঠিন চীবর দান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধর্মীয় উৎসব। বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষুসংঘকে চীবর দানের মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপন করা হয়। এ আয়োজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।

উৎসবকে ঘিরে বিহার প্রাঙ্গণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন।

রামগড়ে অসহাদের মাঝে ৪৩ বিজিবির মানবিক সহায়তা বিতরণ

দিঘীনালা দশবন বৌদ্ধ রাজ বিহারে কঠিন চীবর দান উদযাপন

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ঢেউটিন, আর্থিক অনুদান, শিক্ষা উপকরণ ও চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করেছে রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রামগড় জোন সদরে জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম, বিজিওএম, পিএসসি-উপস্থিত থেকে এ সহায়তা বিতরণ করেন, এসময় উপস্থিত ছিলেন ৪৩ বিজিবি,র সহকারী পরিচালক)(এডি) শামছুল আলম সহ, বিজিবি,র পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, এ কার্যক্রমের আওতায় রামগড় উপজেলার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত দরিদ্র ও অসহায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি পরিবারের মধ্যে বসতঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও বৌদ্ধবিহারে আর্থিক অনুদান এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

রামগড় ৪৩ বিজিবি, র জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ আহসান উল ইসলাম বলেন সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৪৩ বিজিবি। এবং এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রামগড়ে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

দিঘীনালা দশবন বৌদ্ধ রাজ বিহারে কঠিন চীবর দান উদযাপন

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি ও অবাঙালি সকল জাতিসত্তার সমান মর্যাদা, স্বীকৃতি, পারস্পরিক আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যয়ে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) উদযাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির উদ্যোগে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেটে দিনটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. শাহ আলম, সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি ও খাগড়াছড়ি জেলা প্রধান সমন্বয়ক মো. নিজাম উদ্দিন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. শাহীন আলম এবং রামগড় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ অন্যান্য অতিথিরা।

প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সকল সদস্য, শুভানুধ্যায়ী এবং শান্তি ও সম্প্রীতিকামী মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

এ সময় সকল সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, প্রতিটি জাতিসত্তার স্বতন্ত্র পরিচয় ও মর্যাদার স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জোরদারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমতা, স্বীকৃতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তির অঙ্গীকারকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিসত্তার মধ্যে সম্প্রীতি ও আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

মারমাদের প্রবারণা পূর্ণিমা ফানুস উড়ানোর মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন

দিঘীনালা দশবন বৌদ্ধ রাজ বিহারে কঠিন চীবর দান উদযাপন

 

বিশেষ প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটি জেলা রাজস্থলী উপজেলা ৩নং বাঙালহালিয়া ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা বা মারমাদের ওয়াগ্যাই ফানুস উড়িয়ে ২দিন ব্যাপী সম্পন্ন করা হয়েছে। ২৭ তারিখ সকাল ৯ টায় দায়ক দায়িকারা ছোট বড় নর নারী বৌদ্ধ মারমা সম্প্রসম্প্রদায়ের বিহারে দলবল হাতে টিফিন কেরি নিয়ে ফলফ্রুট মিষ্টি জাতীয় জিনিস সহ নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ৩নং বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আদোমং মারমা সহধর্মিণী ক্রানুবাই চৌধুরাণী বিহার পরিচালনা কমিটি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ক্যচিং মারমা ৩২০ নং কাকড়াছড়ি মৌজা প্রতিনিধি আর্ন্তজার্তিক পিচ এ্যাম্বেসেডর চাইথোয়াইমং মারমা সম্পাদক বিচার পরিচালনা কমিটি মংসাথোয়াই মারমা সাবেক সম্পাদক বিহার কমিটি উচিমং চৌধুরী প্রবীণ মাষ্টার মংহলাঅং সাবেক বিহার পরিচালনা কমিটি ঞোমং মারমা দায়ক উষাবাই মারমা মিনু মারমা প্রমূখ।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ৩ মাস বর্ষাবাস শ্রামণ ভিক্ষুগণ পালন করছে, পাশাপাশি সন্ন্যাসী উপাসক উপাসিকাসহ নিরামিষ খাবার খেতে দেখা যায়। মাছ মাংস খাবার হতে বিরত থাকে গৌতম বুদ্ধের অনুসারী হিসাবে ৩ মাস ওয়া বা বর্ষবাস পালনীয়। প্রতিটি পাড়া হতে যুবক যুবতী প্রতি বছর ন্যায় এবছরও প্রবারণা উৎসব সারারাত বিভিন্ন মারমা পিঠা তৈরি করছে। এরপর সকাল বেলায় পাড়াতে গিয়ে এসব তৈরি পিঠা মানুষের কাছে বিতরণ করা হয়েছে।

দুপুরে পিন্ড দান, পানীয় জলের দান, টাকা পয়সা দান, ফলমূল দান, মিষ্টি জাতীয় দান, ছোয়াইং দান সহ দুপুরে আহার ভোজন করা হয়। বিকাল ৪টায় বিহার মহাথেরো উ: ঞানাওয়াইসা ভিক্ষু ধর্মের দেশনায় বৌদ্ধ জাতক পঞ্চশীল অস্টশীল গ্রহণ করেন। মোমবাতি প্রজ্জলীন পানীয় দান সন্ধ্যায় ফানুস উড়ানোর হয়।

×