| ২৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

বান্দরবানে দুই কমিটির দুই দিনের পৃথক রথ বিসর্জন।

বান্দরবানে দুই কমিটির দুই দিনের পৃথক রথ বিসর্জন।

বান্দরবান প্রতিনিধি:

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বান্দরবানে পৃথক দুটি উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে দুই দিনে দুটি রথ বিসর্জনের আয়োজন করা হয়েছে।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরনো কমিটির উদ্যোগে শেষ হয়েছে সাঙ্গু নদীতে রথ বিসর্জন। এ সময় যুবক, যুবতী, মধ্যবয়সী লোক ও জনপ্রতিনিধিসহ সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) একই নদীতে নতুন কমিটির উদ্যোগে দ্বিতীয় রথটি বিসর্জন দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পুরনো উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি চনুমং বলেন, “আমাদের উৎসব উদযাপন কমিটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। তাই আমাদের দায়িত্ব অনুযায়ী আমরা এই উৎসবের রথ বিসর্জন অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করতে বাধ্য হয়েছি।”

আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারে ঐতিহ্যবাহী প্রধান উৎসব মধ্যে এটি একটি। এরই ধারাবাহিকতায় রথ তৈরি, রশি টেনে সারিবদ্ধ শোভাযাত্রা, বিসর্জন, ফানুস উড়ানো, নানা রঙের পিঠা তৈরি, হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন, আকাশে ফানুস উত্তোলন, বৌদ্ধ ভিক্ষু উপাসক উপাসিকাদের ছোয়াইন (ভোজন) দান, বুদ্ধ স্নান, ঐতিহাসিক গৌতম বুদ্ধের ত্রিপিটকের বাণী সহ নানা আয়োজনে মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের প্রবারণা পূর্ণিমা স্থানীয় মারমা ভাষায় ‘মাহা ওয়াগোওয়াই পোওয়ে’ উৎসবটি শেষ হয়। উৎসবটি গত ২১ অক্টোবর শুরু হয়েছিল।

এই উৎসবকে ঘিরে গভীর শ্রদ্ধায় হাজার বাতি প্রজ্বলন, হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট, স্বর্গের উদ্দেশ্যে ফানুস বাতি উত্তোলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পিঠা তৈরি সহ  অনুষ্ঠান গুলো অনুষ্ঠিত হয়।

প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এ উপলক্ষে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি রথযাত্রা ও রথ বিসর্জনের আয়োজন করা হয়।

বান্দরবানে এবার পুরনো উৎসব উদযাপন কমিটির আয়োজিত রথ যাত্রাটি শহরের দুটি বৌদ্ধ বিহারসহ  শহরের প্রধান রাস্তাগুলো প্রদক্ষিণ শেষে উজানী পাড়ার ঘাটে এসে সাঙ্গু নদীতে রথ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

মাতামুহুরী নদীর ঢেউয়ে ভাসে কল্পজাহাজ, সম্প্রীতির বন্ধনে আলীকদম

বান্দরবানে দুই কমিটির দুই দিনের পৃথক রথ বিসর্জন।

‎
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় কল্প জাহাজভাসা উৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা (মাহাঃ ওয়াগ্যাই পোয়েঃ) উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে বান্দরবানের আলীকদমে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে।
‎
‎মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে আলীকদম কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ মন্দিরস্থ ক্যাং ঘাটে ২টি দৃষ্টিনন্দন কল্পজাহাজ নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রায় রঙ-বেরঙের পোশাক পরিধান করে হাজার হাজার মার্মাসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেয়। এসময় কল্প জাহাজ নিয়ে ঢাক-ডোল ও বাজনা বাজিয়ে নেঁচে গেয়ে আনন্দ উন্মাদনায় মেতে উঠে সবাই।
‎
‎কল্প জাহাজ ভাসানো অনুষ্ঠানে মাতামূহুরী নদীর তীরে উৎসুক জনতা ভীড় করে। প্রায় ২ ঘন্টা পর কল্প জাহাজ নিয়ে নদীতে ভাসানোর মধ্যে দিয়ে ইতি ঘটে ক্যাং ঘাটে। এ সয়ম মাতামূহুরী নদীর ঘাটে হাজারো নর-নারীর উপস্থিত দেখা যায়। জাহাজ ভাসা উৎসবের আনন্দে সামিল হয়েছে ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজনও। এ যেন এক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।
‎
‎পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভাসানো হয় কাঙ্খিত কল্প জাহাজ। ঢেউয়ের তালে ভাসছে বাঁশ,বেত,কাঠ, রঙ্গিন কাগজ দিয়ে অপূর্ব কারুকাজে তৈরী নান্দনিক কল্প জাহাজ। যা নজর কাড়ে সবার।
‎
‎কল্প জাহাস ভাসানোর সময় সংবাদ কর্মী সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ বলেন,’আজ থেকে দুইশ বছর আগে মিয়ানমারে মুরহন ঘা নামক স্থানে একটি নদীতে মংরাজ ম্রাজংব্রান প্রথম এ উৎসবের আয়োজন করেন। প্রবারণা পূর্ণিমার একসাথে মিলিত হবার জন্য এ আয়োজন চলতো। সেখান থেকে  বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এ উৎসবের প্রচলন হয়। যা আজ অবদি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবার প্রবারণায় পৃথিবীর জন্য সুখ-শান্তি কামনা করে বিশেষ ভাবে প্রার্থনা করেছে।

‎আলীকদম আর্দশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আপ্রুমং মার্মা জানান, ‘আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্নিমা পর্যন্ত তিনমাস বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বর্ষাব্রত পালন করেন। এ সময় বৌদ্ধ দায়ক-দায়িকারা প্রতি অমাবস্যা, পূর্ণিমা ও অষ্টমী তিথিতে অষ্টশীল পালন করেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা তিনমাস ব্যাপী বর্ষাব্রত পালন কালে সদ্ধর্ম্ম বিষয়ক লেখাপড়া, গবেষনা ও জ্ঞান আহরন করেন। বর্ষাব্রত পালনের শেষ দিন আশ্বিনী পূর্ণিমাকেই বলা হয় প্রবারণা পূর্ণিমা – ওয়াগ্যাই পোয়েঃ
‎
‎প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে এক মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান পালন করা হবে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে।

রামগড়ে নজরুল বর্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

বান্দরবানে দুই কমিটির দুই দিনের পৃথক রথ বিসর্জন।

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির রামগড়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে ৩ টায় পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজনে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শামীম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত। এসময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আল জান্নাত, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এবিএম মোজাম্মেল হক, রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজির আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন এবং রামগড় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন লাভলু প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চেতনা দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। অন্যথায় নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর অবদান বিস্মৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের নজরুলের কবিতা, ছড়া, গান, নাটক ও গল্প পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।

রামগড়ে অসহাদের মাঝে ৪৩ বিজিবির মানবিক সহায়তা বিতরণ

বান্দরবানে দুই কমিটির দুই দিনের পৃথক রথ বিসর্জন।

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ঢেউটিন, আর্থিক অনুদান, শিক্ষা উপকরণ ও চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করেছে রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রামগড় জোন সদরে জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম, বিজিওএম, পিএসসি-উপস্থিত থেকে এ সহায়তা বিতরণ করেন, এসময় উপস্থিত ছিলেন ৪৩ বিজিবি,র সহকারী পরিচালক)(এডি) শামছুল আলম সহ, বিজিবি,র পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, এ কার্যক্রমের আওতায় রামগড় উপজেলার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত দরিদ্র ও অসহায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি পরিবারের মধ্যে বসতঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও বৌদ্ধবিহারে আর্থিক অনুদান এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

রামগড় ৪৩ বিজিবি, র জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ আহসান উল ইসলাম বলেন সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৪৩ বিজিবি। এবং এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

×