| ২৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

মাতামুহুরী নদীর ঢেউয়ে ভাসে কল্পজাহাজ, সম্প্রীতির বন্ধনে আলীকদম

মাতামুহুরী নদীর ঢেউয়ে ভাসে কল্পজাহাজ, সম্প্রীতির বন্ধনে আলীকদম

‎
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় কল্প জাহাজভাসা উৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা (মাহাঃ ওয়াগ্যাই পোয়েঃ) উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে বান্দরবানের আলীকদমে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে।
‎
‎মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে আলীকদম কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ মন্দিরস্থ ক্যাং ঘাটে ২টি দৃষ্টিনন্দন কল্পজাহাজ নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রায় রঙ-বেরঙের পোশাক পরিধান করে হাজার হাজার মার্মাসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেয়। এসময় কল্প জাহাজ নিয়ে ঢাক-ডোল ও বাজনা বাজিয়ে নেঁচে গেয়ে আনন্দ উন্মাদনায় মেতে উঠে সবাই।
‎
‎কল্প জাহাজ ভাসানো অনুষ্ঠানে মাতামূহুরী নদীর তীরে উৎসুক জনতা ভীড় করে। প্রায় ২ ঘন্টা পর কল্প জাহাজ নিয়ে নদীতে ভাসানোর মধ্যে দিয়ে ইতি ঘটে ক্যাং ঘাটে। এ সয়ম মাতামূহুরী নদীর ঘাটে হাজারো নর-নারীর উপস্থিত দেখা যায়। জাহাজ ভাসা উৎসবের আনন্দে সামিল হয়েছে ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজনও। এ যেন এক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।
‎
‎পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভাসানো হয় কাঙ্খিত কল্প জাহাজ। ঢেউয়ের তালে ভাসছে বাঁশ,বেত,কাঠ, রঙ্গিন কাগজ দিয়ে অপূর্ব কারুকাজে তৈরী নান্দনিক কল্প জাহাজ। যা নজর কাড়ে সবার।
‎
‎কল্প জাহাস ভাসানোর সময় সংবাদ কর্মী সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ বলেন,’আজ থেকে দুইশ বছর আগে মিয়ানমারে মুরহন ঘা নামক স্থানে একটি নদীতে মংরাজ ম্রাজংব্রান প্রথম এ উৎসবের আয়োজন করেন। প্রবারণা পূর্ণিমার একসাথে মিলিত হবার জন্য এ আয়োজন চলতো। সেখান থেকে  বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এ উৎসবের প্রচলন হয়। যা আজ অবদি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবার প্রবারণায় পৃথিবীর জন্য সুখ-শান্তি কামনা করে বিশেষ ভাবে প্রার্থনা করেছে।

‎আলীকদম আর্দশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আপ্রুমং মার্মা জানান, ‘আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্নিমা পর্যন্ত তিনমাস বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বর্ষাব্রত পালন করেন। এ সময় বৌদ্ধ দায়ক-দায়িকারা প্রতি অমাবস্যা, পূর্ণিমা ও অষ্টমী তিথিতে অষ্টশীল পালন করেন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা তিনমাস ব্যাপী বর্ষাব্রত পালন কালে সদ্ধর্ম্ম বিষয়ক লেখাপড়া, গবেষনা ও জ্ঞান আহরন করেন। বর্ষাব্রত পালনের শেষ দিন আশ্বিনী পূর্ণিমাকেই বলা হয় প্রবারণা পূর্ণিমা – ওয়াগ্যাই পোয়েঃ
‎
‎প্রবারণা পূর্ণিমার পরদিন থেকে এক মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান পালন করা হবে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে।

রামগড়ে নজরুল বর্ষে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

মাতামুহুরী নদীর ঢেউয়ে ভাসে কল্পজাহাজ, সম্প্রীতির বন্ধনে আলীকদম

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির রামগড়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে ৩ টায় পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজনে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শামীম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত। এসময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আল জান্নাত, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এবিএম মোজাম্মেল হক, রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজির আলম, পৌর বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন এবং রামগড় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন লাভলু প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চেতনা দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। অন্যথায় নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর অবদান বিস্মৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের নজরুলের কবিতা, ছড়া, গান, নাটক ও গল্প পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।

রামগড়ে অসহাদের মাঝে ৪৩ বিজিবির মানবিক সহায়তা বিতরণ

মাতামুহুরী নদীর ঢেউয়ে ভাসে কল্পজাহাজ, সম্প্রীতির বন্ধনে আলীকদম

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির রামগড়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ঢেউটিন, আর্থিক অনুদান, শিক্ষা উপকরণ ও চিকিৎসা সহায়তা বিতরণ করেছে রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রামগড় জোন সদরে জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আহসান উল ইসলাম, বিজিওএম, পিএসসি-উপস্থিত থেকে এ সহায়তা বিতরণ করেন, এসময় উপস্থিত ছিলেন ৪৩ বিজিবি,র সহকারী পরিচালক)(এডি) শামছুল আলম সহ, বিজিবি,র পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, এ কার্যক্রমের আওতায় রামগড় উপজেলার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত দরিদ্র ও অসহায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি পরিবারের মধ্যে বসতঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও বৌদ্ধবিহারে আর্থিক অনুদান এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

রামগড় ৪৩ বিজিবি, র জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ আহসান উল ইসলাম বলেন সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৪৩ বিজিবি। এবং এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রামগড়ে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

মাতামুহুরী নদীর ঢেউয়ে ভাসে কল্পজাহাজ, সম্প্রীতির বন্ধনে আলীকদম

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি ও অবাঙালি সকল জাতিসত্তার সমান মর্যাদা, স্বীকৃতি, পারস্পরিক আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যয়ে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) উদযাপন করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির উদ্যোগে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেটে দিনটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. শাহ আলম, সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের স্থায়ী কমিটির সহসভাপতি ও খাগড়াছড়ি জেলা প্রধান সমন্বয়ক মো. নিজাম উদ্দিন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. শাহীন আলম এবং রামগড় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মোশারফ হোসেনসহ অন্যান্য অতিথিরা।

প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সকল সদস্য, শুভানুধ্যায়ী এবং শান্তি ও সম্প্রীতিকামী মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

এ সময় সকল সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, প্রতিটি জাতিসত্তার স্বতন্ত্র পরিচয় ও মর্যাদার স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জোরদারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমতা, স্বীকৃতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তির অঙ্গীকারকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিসত্তার মধ্যে সম্প্রীতি ও আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

×