| ৮ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

পাহাড়ি জনপদের মায়াবী লাল শাপলা দিঘীনালা হাজাছড়ায় দর্শনার্থীদের ভিড়

পাহাড়ি জনপদের মায়াবী লাল শাপলা দিঘীনালা হাজাছড়ায় দর্শনার্থীদের ভিড়

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা উপজেলা প্রতিনিধি :

পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতির বুকে লাল শাপলার অপূর্ব সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের হাজাছড়ায় অবস্থিত মনোমুগ্ধকর লাল শাপলার দিঘীনালা এখন প্রকৃতি প্রেমীদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।

খাগড়াছড়ি দিঘীনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নে হাজাছড়ায় এলাকা জুড়ে ফুটে থাকা লাল শাপলা আর চারপাশের পাহাড়ি পপ্রাকৃতিক পরিবেশ যেন তৈরি করেছে এক মায়াবী সৌন্দর্যের আবহ।

প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন বিভিন্ন এলাকার পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ভিড় করছেন প্রকৃতি প্রেমীরা।

কেউ মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করছেন শাপলার সৌন্দর্য, আবার কেউ স্মৃতিময় মুহূর্ত ধরে রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন ছবি ও ভিডিও ধারণে। বিলে ঘুরতে আশা এক পাহাড়ি তরুনী বলেন জায়গাটি অনেক সুন্দর তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি একটু নজর দারি রাখে আরো অনেক দর্শনার্থী আসবে বলে মনে করেন।

উপজেলার হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ কর্মকর্তা মো: আবুল খায়ের বলেন ইতি মধ্যে লাল শাপলা ফুল দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থী ভিড় জমাছে এবং একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন।

স্থানীয়দের মতে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই লাল শাপলার দিঘীনালা হাজাছড়ার সৌন্দর্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় এলাকাতেও তৈরি হচ্ছে প্রাণচাঞ্চল্য। সম্ভাবনাময় এই স্থানটি পরিকল্পিতভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনেক মনে করেন।

স্হানীয়রা বলেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দর্শনার্থীদের সচেতন হওয়া জরুরি। শাপলা না ছেঁড়া, পানিতে ময়লা না ফেলা এবং পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মানিকছড়িতে বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

পাহাড়ি জনপদের মায়াবী লাল শাপলা দিঘীনালা হাজাছড়ায় দর্শনার্থীদের ভিড়

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৮ নভেম্বর) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান হাবিব এবং সদস্য সচিব মো. মীর হোসেন-এর উপস্থিতিতে এ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। কর্মসূচিতে উপজেলা জাতীয়তাবাদী বিএনপি, কৃষকদল, ওলামা দল, যুবদল, ছাত্রদল এবং মহিলা দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি উপজেলার আমতল ও মহামুনি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক পথসভায় মিলিত হয়। পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা-উত্তর আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক বাকশাল গঠন এবং রক্ষীবাহিনী সৃষ্টি করে বুদ্ধিজীবী হত্যার যে নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল, তা নস্যাৎ করেছিলেন। এটি সম্ভব হয়েছিল সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতির মাধ্যমে”।

 

তিনি আরও বলেন, মেজর জিয়াউর রহমান কেবল স্বাধীনতার ঘোষণাই দেননি, বরং রণাঙ্গনে সম্মুখ থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশ ও জাতির অন্তিম মুহূর্তে তিনি যে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, জনতার সংহতির মাধ্যমে সেই কঠিন অবস্থা থেকে দেশ মুক্তি পেয়েছিল। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতন-পরবর্তী দেশ গঠনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াউর রহমানের গড়া এ দেশের গণমানুষের দল বিএনপি আবারও দেশের সংকট দূর করতে বদ্ধপরিকর। শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরী তারেক রহমান এখন দেশকে এগিয়ে নিতে নিরলস কাজ করছেন। তবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরেরা এখনও নানাভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দলের সকল স্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।

পথসভায় উপজেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

হালদা-কর্ণফুলী রক্ষায় কাপ্তাইয়ে জোরালো আওয়াজ: প্রজননক্ষেত্র ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অংশীজনদের অঙ্গীকার

পাহাড়ি জনপদের মায়াবী লাল শাপলা দিঘীনালা হাজাছড়ায় দর্শনার্থীদের ভিড়

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

​দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত কর্ণফুলী নদীর অমূল্য মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাপ্তাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্বুদ্ধকরণ সভা। নদীদূষণ রোধ এবং অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ করে মা-মাছ রক্ষায় স্থানীয় অংশীজনদের মাঝে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।মৎস্য অধিদপ্তর ও চট্টগ্রামের উদ্যোগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) আওতায় এই সভার আয়োজন করা হয়। রোববার (৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য অধিদপ্তর বাংলাদেশের মৎস্য পরিকল্পনা ও জরিপ বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাহেদ আলী বলেন, “হালদা ও কর্ণফুলী নদী আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই নদীর সুরক্ষা কেবল সরকারি উদ্যোগের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না; এর জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।”

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদের মৎস্য বিভাগের আহবায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য বিল্টু চাকমা। তিনি নদী সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কঠোর নজরদারির ওপর জোর দেন।​এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, কাপ্তাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ডা. এনামুল হক হাজারী, মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)-এর প্রকল্প পরিচালক মো. ইউসুফ আলী, কাপ্তাই উপজেলা সহকারী তথ্য অফিসার দেলোয়ার হোসেন এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দিয়ে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন কাপ্তাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মো. এরশাদ বিন শহীদ।হালদা ও কর্ণফুলী নদী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদের আধার—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বক্তারা বলেন, মাছের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নদীদূষণ এবং সব ধরনের অবৈধ মাছ শিকার অবিলম্বে বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।​এই ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী সভাটি কাপ্তাইয়ের স্থানীয় মৎস্যজীবী ও সচেতন মহলে নদীর সুরক্ষায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

রামগড়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

পাহাড়ি জনপদের মায়াবী লাল শাপলা দিঘীনালা হাজাছড়ায় দর্শনার্থীদের ভিড়

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়ির রামগড়ে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সহিংসতা ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে সমাবেশে বক্তব্য দেন দলীয় নেতারা।

রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় রামগড় উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া মিঠু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শেফায়েত উল্লাহ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম বাদশাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

এ ছাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল এবং উপজেলা জিয়া পরিষদের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা র‍্যালি ও সমাবেশে অংশ নেন।

দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

×