| ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

আলীকদমে পাহাড়ি ঢলে কৃষিতে কোটি টাকার ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক ‎

আলীকদমে পাহাড়ি ঢলে কৃষিতে কোটি টাকার ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক ‎

‎
‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা,
‎আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :
‎
‎টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় কৃষিখাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অন্তত ৪৫৮ হেক্টর কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে আমন ও আউশ ধান, বিভিন্ন মৌসুমি সবজি এবং পেঁপে বাগান। এতে ধারদেনা করে চাষাবাদ করা শত শত কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
‎
‎উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আলীকদম সদর, চৈক্ষ্যং, নয়াপাড়া ও কুরুকপাতা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়। এতে এ পর্যন্ত চার ইউনিয়নে মোট ৪৫৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে।
‎
‎সরেজমিনে দেখা যায়, নিচু এলাকার অধিকাংশ কৃষিজমি এখনও পানির নিচে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় বীজতলা, পেঁপে বাগান এবং বেগুন, করলা, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, শসা ও মরিচসহ বিভিন্ন সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকদের বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমে করা বিনিয়োগও পানিতে ভেসে গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
‎
‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কাউসার উদ্দিন বাপ্পি, মো. বেলাল ও মো. আবছার বলেন, ঋণ ও ধারদেনা করে সবজি ও পেঁপে চাষ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণ পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তারা দ্রুত কৃষি প্রণোদনা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার দাবি জানান।


‎
‎চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের পাট্টাখাইয়া পাড়া কৃষক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. মিজবাহ উদ্দিন বলেন, তাঁদের সমিতির ১০০ থেকে ১৫০ জন সদস্যের বেশির ভাগই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। ঋণ করে চাষাবাদ করলেও এবারের বন্যায় প্রায় সব ফসল নষ্ট হয়েছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া তাঁদের পক্ষে আবার চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হবে।
‎
‎আলীকদম উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সোহেল রানা বলেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গ্রীষ্মকালীন সবজি, পেঁপে, বীজতলা, আউশ ও আমন ধান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মাধ্যমে কৃষি প্রণোদনা, সবজির বীজ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করা সম্ভব হবে।

বিলাইছড়িতে রাজগুরু অগ্রবংশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপন তঞ্চঙ্গ্যা আর নেই

আলীকদমে পাহাড়ি ঢলে কৃষিতে কোটি টাকার ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক ‎

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার রাজগুরু অগ্রবংশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপন তঞ্চঙ্গ্যা (৩৪) আর নেই। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিদ্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, বেশ কয়েকমাস আগে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর শরীরে হেপাটাইটিস-বি সহ লিভার ক্যান্সার রোগ শনাক্ত হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক কন্যা সন্তান, মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রাজগুরু অগ্রবংশ উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনি প্রায় তিন বছর ধরে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আগামী ১ নভেম্বর (রোববার) ফারুয়া ইউনিয়নের উলুছড়ি নিজ গ্রামে তাঁর দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।

কাউখালীতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়, তিন কলেজে পাসের হার ১০ শতাংশের নিচে

আলীকদমে পাহাড়ি ঢলে কৃষিতে কোটি টাকার ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক ‎

নিজস্ব প্রতিবেদক | কাউখালী, রাঙামাটি

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৪০ জন। সে হিসাবে উপজেলার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলাফলের এমন হতাশাজনক চিত্রে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, কাউখালী সরকারি কলেজ থেকে ৩৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩৪ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ঘাগড়া কলেজ থেকে ৬৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৬ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এছাড়া শ্রীজোনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

শিক্ষার মান, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফলাফলের এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, ফলাফলের এমন বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যথায় আগামী দিনগুলোতে কাউখালী উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হতে পারে।

বিলাইছড়ি কলেজে পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ, জিপিএ- ৪ পেয়েছেন ২ জন

আলীকদমে পাহাড়ি ঢলে কৃষিতে কোটি টাকার ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক ‎

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি কলেজে এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ। ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৭ জন। তবে কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। অন্যদিকে, দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৪-এর বেশি নম্বর পেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা যায়। কলেজের প্রভাষক অমৃত চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে সত্য বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.৫৮ এবং মেনাংপুরী তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.২৫ অর্জন করেছেন। কলেজের সার্বিক ফলাফলে জিপিএ-৫ না থাকলেও দুই শিক্ষার্থীর এ অর্জন আশাব্যঞ্জক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

×