| ২ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

জুম্ম জাতীয়তাবাদ ভিত্তিতে নীতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা দেখানো পথে জুম্মজাতির মুক্তি সম্ভব

জুম্ম জাতীয়তাবাদ ভিত্তিতে নীতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা দেখানো পথে জুম্মজাতির মুক্তি সম্ভব

 

সিএইচটি বার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :

জুম্ম জাতীয়তাবাদ ভিত্তিতে নীতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা দেখানো পথে পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মজাতির মুক্তি সম্ভব বলে কাপ্তাই ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্ব) ‘২৬ সকাল ১০ টায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কাপ্তাই উপজেলা কমিটির উদ্যোগে ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে হলরুমে এমএন লারমা ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়েছে। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন কাপ্তাই উপজেলা কমিটি বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম সভাপতি ও রাইখালী মৌজা হেডম্যান শ্রী উসুয়ে সুয়ে চৌধুরী মিশুক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবর্ত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সম্মানিত সদস্য শ্রী মনুচিং মারমা। সভায় প্রধান আলোক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পাবর্ত্য চটগ্রাম অঞ্চল শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রী ইন্টু মনি তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম রাঙ্গামাটির পাবর্ত্য জেলা শাখা সাধারণ সম্পাদক শ্রী সাগর ত্রিপুরা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি সাবেক ছাত্র নেতা শ্রী অনিল মারমা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম রাঙ্গামাটি জেলা শাখা সদস্য শ্রী অনুপম খিয়াং, পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কাপ্তাই উপজেলা শাখা সভাপতি শ্রী কেতন তঞ্চঙ্গ্যা।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কাপ্তাই উপজেলা শাখা বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম দপ্তর সম্পাদক মেম্বার শ্রী অংসাচিং মারমা। এমএন লারমা সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন শ্রীমতি প্রিয়াঙ্কা তঞ্চঙ্গ্যা। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম কাপ্তাই উপজেলা কমিটি সাধারণ সম্পাদক শ্রী ধনঞ্জয় তঞ্চঙ্গ্যা।

আলোচনা সভায় উপস্থিত আলোকবৃন্দ এমএন লারমা ৮৭ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এমএন লারমার চিন্তা চেতনা দর্শন নীতি আর্দেশ মাধ্যমে সকল জাতিকে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর দেখানো পথে অনুসরন করে আমাদের তরুণ প্রজন্মের ছাত্র সমাজ ও যুব সমাজের আরো অধিকতর সংগতি হওয়া প্রয়োজন। এমএন লারমা জীবন দর্শন বর্তমান সময়ে প্রাসঙ্গিক বিষয়। আগামী দিনের কঠিন বাস্তবতা জুম্ম জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমএন লারমা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে। কাপ্তাই উপজেলা প্রায় ছয় সাতটি আদিবাসী জাতির বসবাস। তাই এই ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ঐতিহ্য সমৃদ্ধ জাতির গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস পুনরুদ্ধারের জন্য সবাই সচেতন হয়ে অস্তিত্ব রক্ষা এগিয়ে আসতে হবে।

এমএন লারমা ৮৭ তম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপলব্ধি বিষয় মাত্র ৪৪ বছর বয়সে যে কাজ করে গেছেন তা ইতিহাসে অনন্য রেখে গেছেন। পাবর্ত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা নিয়ে অবগত হয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের ও আদিবাসী অধিকার আদায়ের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।

বিলাইছড়িতে পালবার লিং সেন্টারের বার্ষিক কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত

জুম্ম জাতীয়তাবাদ ভিত্তিতে নীতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা দেখানো পথে জুম্মজাতির মুক্তি সম্ভব

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় পালবার লিং সেন্টার বাংলাদেশের উদ্যোগে বার্ষিক দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি ২৯৯নং আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভদন্ত দেবানন্দ মহাথের এবং সভাপতিত্ব করেন প্রজ্ঞাবারিধি অধ্যাপক ভদন্ত সুমেধানন্দ মহাথের।

এ সময় ভিক্ষুসংঘের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত বিপস্সী মহাথের, ভদন্ত ওয়ারাসামী মহাথের, ভদন্ত ইন্দাচারা মহাথের এবং পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ দেবতিষ্য ভিক্ষুসহ বিভিন্ন বিহারের ভিক্ষুসংঘ।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী মৈত্রী দেওয়ান, বিলাইছড়ি সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. সাকিব হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভি দাশ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুস সালাম ফকির, সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক উষা কিরণ বড়ুয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো পুণ্যার্থী।

দিনব্যাপী আয়োজনে কঠিন চীবর দানের পাশাপাশি বুদ্ধপূজা, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কল্পতরু দান, পিণ্ডদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় দানানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রভাত কান্তি বড়ুয়ার লেখা বুদ্ধকীর্তন এবং তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর রচিত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন।

দীঘিনালার ছোট মেরুং বিশ্ব শান্তি মৈত্রী ভাবনাকুঠিরে ৫ তম মহান কঠিন চীবর দান উদযাপন

জুম্ম জাতীয়তাবাদ ভিত্তিতে নীতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা দেখানো পথে জুম্মজাতির মুক্তি সম্ভব

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

বিশ্বের সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ছোট মেরুং বিশ্ব শান্তি মৈত্রী ভাবনা কুঠিরে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ৫তম মহান কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার ১নভেম্বর দিনব্যাপি অনুষ্টানে সকালে বুদ্ধ মুর্তিদান, সংঘ দান, অষ্টপরিস্কার দান করা হয়।

এতে অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন নন্দবংশ মহাস্হবির ভান্তে, ছোট মেরং বিশ্ব শান্তি ভাবনা কুঠিরের অধ্যক্ষ সুগতবংশ মহাস্হবির ভান্তে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য শান্তি প্রিয় চাকমা, এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জ্ঞান জীত চাকমা উপস্তিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দেশ ও বিশ্বের সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও ধর্মীয় দেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

পাশাপাশি সকল প্রকার হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি ও অশান্তি দূর হয়ে বিশ্বজুড়ে মৈত্রী, করুণা, ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে দেশনা প্রদানকালে নন্দ বংশ মহাস্হবির ভান্তে বলেন, বুদ্ধ ধর্ম হলো শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের ধর্ম। বুদ্ধের আদর্শ অনুসরণ করে প্রত্যেক মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সবাইকে বুদ্ধের উপদেশ মেনে চলতে হবে। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি পঞ্চশীল পালনের আহ্বান জানান।

নন্দ বংশ ভান্তে আরও বলেন, পঞ্চশীল মানুষের নৈতিক ও আদর্শ জীবন গঠনের অন্যতম ভিত্তি। পঞ্চশীল পালন করলে মানুষ হিংসা, লোভ, মিথ্যা ও অন্যায় থেকে দূরে থাকতে পারে। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যেকের পঞ্চশীল পালন করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি সবাইকে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে মৈত্রী, করুণা, ভালোবাসা ও মানবতার আদর্শে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।

অনুষ্টানে দ্বিতীয় পর্ব উপস্তিত ভিক্ষু সংঘ উদ্দেশ্য কল্পতরু ও কঠিন চীবর দানের মাধ্যমে দিন ব্যাপি কঠিন চীবর দান অনুষ্টান সমাপ্ত হয়।

খাগড়াছড়ি জেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে এমপির প্রতিনিধি দায়িত্ব পেলেন অংগ্য মারমা

জুম্ম জাতীয়তাবাদ ভিত্তিতে নীতি আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা দেখানো পথে জুম্মজাতির মুক্তি সম্ভব

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে ৩৪ নং সংরক্ষিত সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমার পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন যুব নেতা ও সাংবাদিক অংগ্য মারমা।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদের প্যাডে সংসদ সদস্য মাধবী মারমা স্বাক্ষরিত এক পত্রে অংগ্য মারমাকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

মনোনীত অংগ্য মারমা খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার গঞ্জ পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ মারমা যুব ঐক্য পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং মানিকছড়ি উপজেলা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলার আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে এমপির প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতা ও উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।

তিনি জাতীয় দৈনিক মানবকণ্ঠ, সরেজমিন বার্তা, এই বাংলা পত্রিকার এবং স্থানীয় দৈনিক অরণ্য বার্তা ও আলোকিত পাহাড় পত্রিকার জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়াও অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিএইচটি বার্তা, আজকের প্রতিদিন ও বার্তা বাজার-এ কাজ করার সুবাদে স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখ ও নানা সমস্যার কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘কারিতাস বাংলাদেশ’ এবং সমবায় অধিদপ্তরের অন্তর্ভুক্ত দি মারমা ক্রেডিট ইউনিয়নে বিভিন্ন সামাজিক ও সমবায় সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় অংগ্য মারমা সংসদ সদস্য মাধবী মারমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডকে আরও গতিশীল করতে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে তার দায়িত্ব পালন করবেন।

এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

×