| ৪ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

থানচিতে সেতুহীন পদ্মমুখ, দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ!

থানচিতে সেতুহীন পদ্মমুখ, দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ!

 

চিংথোয়াই অং মার্মা,
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার সুবিধা থেকে বঞ্চিত বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদের অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ। একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে তিন্দু ইউনিয়নের পদ্মমুখ এলাকায় পদ্ম ঝিরির প্রায় ৪০০ ফুট দীর্ঘ খুমের বেঁয়ে চলাচলের প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাঁরা জানান, প্রতিবছর নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলছে তাঁদের যাতায়াত। সেতুর অভাবে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য পরিবহনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন এসব জনপদের বাসিন্দারা। তাই দীর্ঘদিন দুর্ভোগ নিরসনে সেখানেই একটি টেকসই সাঁকো কিংবা স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি তাঁদের।

সূত্রে জানা গেছে, তিন্দু ইউনিয়নের পদ্মমুখ এলাকায় পদ্ম ঝিরির খুমের বেঁয়ে চলাচলের নেই কোনো স্থায়ী সেতু। ফলে দুটি মৌজার অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষকে বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোয় ভর করেই চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষায় পানির প্রবাহ বাড়লেই কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এসব জনপদগুলো।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্ম ঝিরিতে খুমের বেঁয়ে চলাচলের পথটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে নেই কোনো স্থায়ী সাঁকো কিংবা সেতু। যুগের পর যুগ ধরে এটিই তাঁদের চলাচলে প্রধানপথ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বর্ষায় পানির প্রবাহ বাড়লে পারাপার হয়ে ওঠে আরও বিপজ্জনক। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা উজিরাম ত্রিপুরা, উহ্লামং মারমা ও খুবাইতি ত্রিপুরাসহ অনেকেই জানান, প্রতিবছর নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেই পদ্মঝিরি খুমপথে চলাচলে করতে হয়। একদিকে একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও কৃষিপণ্য পরিবহন।

তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, অর্থসংকটের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে টেকসই সাঁকো নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোয় পারাপার করতে হচ্ছে অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষকে। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে পদ্ম ঝিরির খুম পারাপারের পথে স্থায়ী সেতু নির্মাণে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু হানিফ বলেন, পদ্ম ঝিরিতে খুমের একপাশে বেঁয়ে চলাচলের পথটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে স্থানীয়দের আবেদন করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামীতে প্রকল্প বাজেটে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

দিঘীনালায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দুই শিক্ষক দিয়ে চলছে ৫০০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

থানচিতে সেতুহীন পদ্মমুখ, দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ!

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ি দিঘীনালা উপজেলার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক ও একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঁচটি শ্রেণির প্রায় ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠগ্রহণ, পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ছাত্র ছাত্রী ও অবিভাবকদের।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ের গেলে ষষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষার্থী অপুর্ব বড়ুয়া বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারনে আমাদের নিয়মিত লেখাপড়া হচ্ছেনা সরকারের কাছে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।

শিক্ষার্থীর অবিভাবক লিপি দেওয়ান বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ে সন্তানদের ভর্তি করিয়েও তারা প্রত্যাশিত শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারছেন না। বিদ্যালয়ে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবী পুরন না হলে অবিভাবকদের পক্ষ থেকে ক্লাস বর্জনের আন্দোলনের যাওয়ার কথা জানান।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার দাশ বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদের সংখ্যা ২১টি হলেও বর্তমানে মাত্র দুজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাঠদান কার্যক্রমও চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এত কম শিক্ষক দিয়ে প্রায় ৪৮০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন বলে জানান।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র শিকদার বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পড়াশোনায় উৎসাহ বাড়াতে কাপ্তাইয়ে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী প্রদান

থানচিতে সেতুহীন পদ্মমুখ, দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ!

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে স্থানীয় পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

​বুধবার (৪ নভেম্বর) স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই মানবিক ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।​ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের হাতে খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার ও জ্যামিতি বক্সসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা প্রদান এবং শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ ও উৎসাহ বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা সামগ্রী বিতরণকালে ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অধিক মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং শিক্ষার সার্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করেন।

কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পড়াশোনার পরিবেশ সুগম করতে এই ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

​ছবির ক্যাপশন: কাপ্তাই ১১ আর ই ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে স্থানীয় পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

মহিমাগঞ্জ আলিয়া কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

থানচিতে সেতুহীন পদ্মমুখ, দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ!

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহি মহিমাগঞ্জ আলিয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অপপ্রচার ও তাকে মাদ্রাসার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়ার দাবীতে বিক্ষোভ ও মানবন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলার মহিমাগঞ্জ আলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মাদরাসা মাঠে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা।

এসময় তাঁরা মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারের নিন্দা জানান। তারা অবিলম্বে তাঁকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্বে পূণ:বহালের দাবী জানান। তারা আরও বলেন, ড. মুহাম্মদ মোখলেছুর রহমানকে হাইকোট থেকে তাকে পুণঃরায় দায়িত্ব বুঝে দেয়ার নির্দেশ দিলেও মাদ্রাসার অধ্যক্ষের দায়িত্ব না দিয়ে নানা ধরণের গড়িমসি করে আসছে। তারা অবিলম্বে উপাধ্যক্ষ মুহম্মদ মোখলেছুর রহমানকে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবী জানান।

×