| ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার সংগ্রাম, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ৪০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার সংগ্রাম, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ৪০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম ৪নং গালেংগ্যা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড কুরাং পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট ও শিক্ষক স্বল্পতার মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি সরকারি স্বীকৃতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন পেলে এলাকার শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর শিক্ষার সুযোগ আরও সুদৃঢ় হবে। আজ শনিবার (৩০ মে) সরেজমিনে এই স্কুলের সাইনবোর্ড দেখে জানা যায় যে এটি শিশুদের জন্য শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন, সহযোগিতায় রয়েছে কোবরা অ্যান্ড মঙ্গুজ চ্যারিটি।

বিদ্যালয়টি রুমা উপজেলার ৪নং গালেংগ্যা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড কুরাং পাড়ায়, থানচি প্রধান সড়কের আনুমানিক ১ কিলোমিটার দূরত্বের অবস্থিত।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুইতন ম্রো জানান, তিনি প্রায় ১০ থেকে ১১ বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, আমি না থাকলে অনেক আগেই স্কুলটি বন্ধ হয়ে যেত। বর্তমানে মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে স্কুলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। একজন নারী শিক্ষককে স্থানীয় অভিভাবকরা বেতন দেন। অনেক সময় আর্থিক সংকটের কারণে বেতন প্রদান করতেও হিমশিম খেতে হয়।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যথেষ্ট। শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। আশপাশের দূরবর্তী পাড়া থেকেও শিক্ষার্থীরা এখানে এসে পড়াশোনা করে। সরকার যদি এখানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন বা একটি নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করে দেয়, তাহলে এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ৫নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার জনপ্রতিনিধি রেংওয়ে ম্রো বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর বহু বছর পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু শিক্ষক আছেন মাত্র দুইজন। একজনকে স্কুল পরিচালনা কমিটি এবং অপরজনকে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন সম্মানী ভাতা দিয়ে পরিচালনা করছে।

কুরাং পাড়ার কারবারি মাংয়া ম্রো বলেন, শিক্ষার্থীর তুলনায় বেঞ্চ-টেবিল খুবই অপ্রতুল। অনেক আসবাবপত্র ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের টিনের ছাদে অসংখ্য ছিদ্র হওয়ায় বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষে পড়ে। এতে পাঠদান ব্যাহত হয়। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, একটি নতুন বিদ্যালয় ভবন এবং সরকারি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করা হোক।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কাইংওয়াই ম্রো জানায়, আমাদের স্কুলের অবস্থা খুব খারাপ। বেঞ্চ-টেবিল ভাঙা, ঠিকমতো বসতে পারি না। বৃষ্টি হলে খাতা-কলম ভিজে যায়। নতুন স্কুল ভবন হলে আমরা ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারব। বর্তমান ভবনটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে ভয় হয়।

একজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয় এবং প্রতিবছর ভালো ফলাফলও আসে। কিন্তু অবকাঠামোগত দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

এ বিষয়ে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর বিদ্যাপূর্ণ চাকমা বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনা করব। গ্রামের মানুষ সমন্বিতভাবে এগিয়ে এলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন বা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। এ  বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে কুরাং পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হলে দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

কাউখালীতে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়, তিন কলেজে পাসের হার ১০ শতাংশের নিচে

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার সংগ্রাম, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ৪০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

নিজস্ব প্রতিবেদক | কাউখালী, রাঙামাটি

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ৪০ জন। সে হিসাবে উপজেলার সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ফলাফলের এমন হতাশাজনক চিত্রে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল অনুযায়ী, কাউখালী সরকারি কলেজ থেকে ৩৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৩৪ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ঘাগড়া কলেজ থেকে ৬৬ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে মাত্র ৬ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এছাড়া শ্রীজোনী ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

শিক্ষার মান, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফলাফলের এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, ফলাফলের এমন বিপর্যয়ের কারণ চিহ্নিত করে শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যথায় আগামী দিনগুলোতে কাউখালী উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হতে পারে।

বিলাইছড়ি কলেজে পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ, জিপিএ- ৪ পেয়েছেন ২ জন

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার সংগ্রাম, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ৪০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি কলেজে এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫.১২ শতাংশ। ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৭ জন। তবে কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। অন্যদিকে, দুই শিক্ষার্থী জিপিএ-৪-এর বেশি নম্বর পেয়ে ভালো ফলাফল করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এ তথ্য জানা যায়। কলেজের প্রভাষক অমৃত চাকমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন পাস করেছেন। তাঁদের মধ্যে সত্য বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.৫৮ এবং মেনাংপুরী তঞ্চঙ্গ্যা জিপিএ-৪.২৫ অর্জন করেছেন। কলেজের সার্বিক ফলাফলে জিপিএ-৫ না থাকলেও দুই শিক্ষার্থীর এ অর্জন আশাব্যঞ্জক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের শিক্ষার্থী কোশিক চাকমার জিপিএ-৫ অর্জন, উজ্জ্বল করল মা-বাবার মুখ

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার সংগ্রাম, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ৪০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় রাঙামাটির কর্ণফুলী সরকারি কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ (এ+) অর্জন করেছে কোশিক চাকমা। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

কোশিক চাকমার পিতা প্রয়াত মিশন চাকমা এবং মাতা ননাবি চাকমা। তার গ্রামের বাড়ি রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার জামেকছড়ি গ্রামে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সে বিলাইছড়ি উপজেলায়  পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন ( অনাথ আশ্রম) থেকে লেখাপড়া ও বেড়ে উঠেছে।

নিজের এ সাফল্যে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কোশিক জানায়, তার জীবনের এ অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক পরম শ্রদ্ধেয় ভদন্ত দেবতিষ্য ভিক্ষুর। তাঁর ভালোবাসা, আশীর্বাদ, অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

এ ছাড়া তার বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে।

কোশিক জানায়, পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন শুধু তার বেড়ে ওঠার স্থান নয়, এটি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই সে শিক্ষা, ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও সুন্দরভাবে জীবন গড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছে।

তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠান তাকে আজকের অবস্থানে আসতে সহযোগিতা করেছে, সেই পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের উন্নয়নে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখা। একই সঙ্গে তার মতো অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চায় সে।

কোশিকের ভাষায়, জিপিএ-৫ শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফল নয়; এটি তার জীবনের নতুন স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে সবার আশীর্বাদ ও দোয়া কামনা করেছে কোশিক চাকমা।

×