| ২৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

প্রয়াণের ১৮ বছরেও জন্মস্থানে নির্মিত হয়নি রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরোর ভাস্কর্য, বৌদ্ধ সমাজে ক্ষোভ

প্রয়াণের ১৮ বছরেও জন্মস্থানে নির্মিত হয়নি রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরোর ভাস্কর্য, বৌদ্ধ সমাজে ক্ষোভ

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

প্রয়াণের প্রায় ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশিষ্ট বৌদ্ধ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও ষষ্ঠ বৌদ্ধ সংগীতিকারক হিসেবে পরিচিত রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরোর জন্মস্থান রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার কুতুবদিয়া গ্রামে তাঁর কোনো ভাস্কর্য নির্মিত হয়নি। এতে স্থানীয় রাইংখ্যং বৌদ্ধ সমাজ ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বৌদ্ধ ধর্ম, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজ সংস্কারে অসামান্য অবদান রাখা এই মহান সংঘনায়কের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। উদ্যোগ গ্রহণ করার প্রয়োজন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘেরও। তাঁর জন্মস্থানে একটি দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য নির্মাণ করা হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর জীবন, আদর্শ ও অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

জানা যায়, ২০০৮ সালের ৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে ৯৫ বছর বয়সে মহাপ্রয়াণ ঘটে রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরোর। ৪ থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশি-বিদেশি বৌদ্ধ পণ্ডিত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তিন দিনব্যাপী বিভিন্ন মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

তাঁর প্রয়াণের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও জন্মস্থান কুতুবদিয়ায় স্মৃতিরক্ষার্থে কোনো ভাস্কর্য নির্মিত হয়নি। অথচ তাঁর নাম ও আদর্শকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে শিশু সদন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর তাঁর জন্ম ও প্রয়াণ দিবস পালন করা হয়। পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

৪০ থেকে ৫০ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য নির্মাণের দাবি :

স্থানীয়দের দাবি, কুতুবদিয়া গ্রামে রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরোর জন্মস্থান কিংবা কুতুবদিয়া বৌদ্ধবিহারের পাশে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ ফুট উচ্চতার একটি দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য নির্মাণ করা হোক। এতে রাইংখ্যং নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষ দূর থেকেও ভাস্কর্যটি দেখতে পারবেন। তাঁদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হলেও স্থানীয় জনগণের একার পক্ষে তা বহন করা সম্ভব নয়।

তাঁরা আরও বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতাও দিয়ে থাকেন। কিন্তু রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরোর জন্মস্থান কুতুবদিয়া বৌদ্ধবিহারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও স্মৃতি সংরক্ষণের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিহারে এখনো স্থায়ী দেশনালয় নেই। প্রতিবছর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময় বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে হয়। এমন একজন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের জন্মস্থানের অবকাঠামোগত অবস্থা ও স্মৃতি সংরক্ষণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

যে অবদানে স্মরণীয় রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরো :

রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরো শুধু একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন; তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সমাজের ধর্মীয় জাগরণ, শিক্ষা বিস্তার, সাহিত্যচর্চা ও সামাজিক সংস্কারের ইতিহাসে এক স্মরণীয় নাম। তাঁর জন্মনাম ফুলনাথ তঞ্চঙ্গ্যা। ১৯১৩ সালের ২৩ নভেম্বর বিলাইছড়ি উপজেলার কুতুবদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রুদ্রচিং তঞ্চঙ্গ্যা এবং মাতা পুণ্যগীলা ইচ্ছাবতী তঞ্চঙ্গ্যা।

শৈশব থেকেই তিনি শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। পরবর্তী জীবনে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার-প্রসার, বৌদ্ধ শিক্ষা ও সাহিত্যচর্চা, অনুবাদ কর্ম, সমাজ সংস্কার এবং পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষার আলো বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গঠন এবং নিজ জাতির অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।

তাঁর কর্মময় জীবন, ত্যাগ, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা তাঁকে দেশ-বিদেশের বৌদ্ধ সমাজে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।

প্রশাসনের জরুরি উদ্যোগ কামনা :

বৌদ্ধ সমাজ ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরোর স্মৃতি সংরক্ষণ শুধু একটি ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয় নয়; এটি পার্বত্য চট্টগ্রামের ধর্মীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণেরও অংশ।

তাই তাঁর জন্মস্থানে ভাস্কর্য নির্মাণ এবং কুতুবদিয়া বৌদ্ধ বিহারের অবকাঠামোগত উন্নয়নে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের জরুরি উদ্যোগ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিত উদ্যোগ নিলে রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরোর জন্মস্থান কুতুবদিয়া একদিন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান ও ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠবে।

বান্দরবানে দুই কমিটির দুই দিনের পৃথক রথ বিসর্জন।

প্রয়াণের ১৮ বছরেও জন্মস্থানে নির্মিত হয়নি রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরোর ভাস্কর্য, বৌদ্ধ সমাজে ক্ষোভ

বান্দরবান প্রতিনিধি:

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বান্দরবানে পৃথক দুটি উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে দুই দিনে দুটি রথ বিসর্জনের আয়োজন করা হয়েছে।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুরনো কমিটির উদ্যোগে শেষ হয়েছে সাঙ্গু নদীতে রথ বিসর্জন। এ সময় যুবক, যুবতী, মধ্যবয়সী লোক ও জনপ্রতিনিধিসহ সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।

আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) একই নদীতে নতুন কমিটির উদ্যোগে দ্বিতীয় রথটি বিসর্জন দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পুরনো উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি চনুমং বলেন, “আমাদের উৎসব উদযাপন কমিটির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। তাই আমাদের দায়িত্ব অনুযায়ী আমরা এই উৎসবের রথ বিসর্জন অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করতে বাধ্য হয়েছি।”

আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারে ঐতিহ্যবাহী প্রধান উৎসব মধ্যে এটি একটি। এরই ধারাবাহিকতায় রথ তৈরি, রশি টেনে সারিবদ্ধ শোভাযাত্রা, বিসর্জন, ফানুস উড়ানো, নানা রঙের পিঠা তৈরি, হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন, আকাশে ফানুস উত্তোলন, বৌদ্ধ ভিক্ষু উপাসক উপাসিকাদের ছোয়াইন (ভোজন) দান, বুদ্ধ স্নান, ঐতিহাসিক গৌতম বুদ্ধের ত্রিপিটকের বাণী সহ নানা আয়োজনে মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের প্রবারণা পূর্ণিমা স্থানীয় মারমা ভাষায় ‘মাহা ওয়াগোওয়াই পোওয়ে’ উৎসবটি শেষ হয়। উৎসবটি গত ২১ অক্টোবর শুরু হয়েছিল।

এই উৎসবকে ঘিরে গভীর শ্রদ্ধায় হাজার বাতি প্রজ্বলন, হ্যান্ডবল টুর্নামেন্ট, স্বর্গের উদ্দেশ্যে ফানুস বাতি উত্তোলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পিঠা তৈরি সহ  অনুষ্ঠান গুলো অনুষ্ঠিত হয়।

প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এ উপলক্ষে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি রথযাত্রা ও রথ বিসর্জনের আয়োজন করা হয়।

বান্দরবানে এবার পুরনো উৎসব উদযাপন কমিটির আয়োজিত রথ যাত্রাটি শহরের দুটি বৌদ্ধ বিহারসহ  শহরের প্রধান রাস্তাগুলো প্রদক্ষিণ শেষে উজানী পাড়ার ঘাটে এসে সাঙ্গু নদীতে রথ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

হাজারো ফানুসের আলোয় রঙিন কাপ্তাইয়ের আকাশ, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন

প্রয়াণের ১৮ বছরেও জন্মস্থানে নির্মিত হয়নি রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরোর ভাস্কর্য, বৌদ্ধ সমাজে ক্ষোভ

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

কাপ্তাইয়ের রাতের আকাশ যেন হুট করেই নেমে আসা কোনো তারার মেলা একে একে আকাশে ডানা মেলে উড়ে চলা রঙবেরঙের ফানুস আর শতশত মানুষের আনন্দ-উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে কাপ্তাইয়ের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ বিহার মাঠে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসবের আমেজে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমার রাতে ফানুস ওড়ানোর এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মুগ্ধ করেছে পাহাড়ি-বাঙালি সব বয়সের মানুষকে।

দিনভর বৌদ্ধ বিহারগুলোতে চলে বুদ্ধপূজা, শীলগ্রহণ, ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডদান এবং বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা,বুদ্ধ স্নান।

তবে সূর্যের আলো ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামতেই কাপ্তাইয়ের মূল আকর্ষণ কেন্দ্রীভূত হয় ঐতিহ্যবাহী চিৎমরম  বৌদ্ধ বিহার মাঠে। গৌতম বুদ্ধের পবিত্র কেশধাতু পূজার স্মরণে এবং মনের সকল গ্লানি ও অন্ধকার দূর করে আলোর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতীক হিসেবে আকাশে ফানুস ওড়ানোর এই আনন্দযজ্ঞে অংশ নেন শত শত পুণ্যার্থী।

তরুণ থেকে শুরু করে প্রবীণ—সবার হাতেই ছিল নানা আকৃতির রঙিন ফানুস। একে একে যখন ফানুসগুলোতে আগুন জ্বালিয়ে আকাশে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন পুরো বিহার মাঠজুড়ে তৈরি হয় এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ। বাতাসে ভেসে চলা হাজারো ফানুসের হলুদ, লাল, নীল আলোয় কাপ্তাইয়ের রাতের আকাশ ধারণ করে এক অলৌকিক ও মনোরম রূপ। মাঠের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা উৎসুক জনতা করতালি দিয়ে এই দৃশ্য উপভোগ করেন।

প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব উদযাপন করতে আসা কয়েকজন পূর্ণাথীরা জানান, প্রবারণা পূর্ণিমা আত্মশুদ্ধি এবং মৈত্রী ভাব প্রচারের দিন। আকাশে ফানুস ওড়ানোর মাধ্যমে মানুষ তার ভেতরের সমস্ত হতাশা, হিংসা ও অন্ধকার উড়িয়ে দিয়ে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করে। কাপ্তাইয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, বর্ণিল ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে এবারের প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসব।

দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্বের শিকার রায়হান, চিকিৎসার অভাবে শঙ্কিত পরিবার

প্রয়াণের ১৮ বছরেও জন্মস্থানে নির্মিত হয়নি রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথেরোর ভাস্কর্য, বৌদ্ধ সমাজে ক্ষোভ

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার, সুস্থ হতে চান মানুষের সহযোগিতায়

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার চক গোবিন্দপুর গ্রামের রায়হান মিয়া একসময় নিজের উপার্জনে সংসার চালাতেন। পেশায় তিনি একজন দর্জি শ্রমিক। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ছিল তাঁর ছোট্ট সংসার। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে দিনরাত পরিশ্রম করতেন তিনি। কিন্তু একটি মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা তাঁর জীবনের চিত্র বদলে দিয়েছে। এখন অন্যের সহযোগিতায় কোনো রকমে দিন কাটছে তাঁর পরিবারের।

রায়হান মিয়া সাদুল্লাপুর উপজেলার চক গোবিন্দপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। জানা যায়, একদিন বাড়ি থেকে সাদুল্লাপুর যাওয়ার পথে একটি বেপরোয়া পাওয়ার টিলারের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হলেও পায়ের আঘাতের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার সক্ষমতা ফিরে পাননি রায়হান। বর্তমানে ক্রাচে ভর করে তাঁকে চলাফেরা করতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া তাঁর শেষ সম্বল ১৫ শতক জমিও বিক্রি করে দিয়েছেন। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সহযোগিতায় চিকিৎসা চালালেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি তিনি।

অন্যদিকে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তাঁর। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের খাবার জোগাড় করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রায়হান মিয়া আবারও সুস্থ হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান। ফিরে পেতে চান কর্মক্ষমতা, চালাতে চান নিজের সংসার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা ও আর্থিক সহযোগিতা।

এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন রায়হান। আপনাদের সামান্য সহযোগিতাও তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে এবং অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম :
বিকাশ ও নগদ : ০১৭২৫১৮৩৮২৭

আসুন, মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিই। রায়হান মিয়ার চিকিৎসায় সহযোগিতা করে তাঁকে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ করে দিই।

×