শান্তিপুরে দুই দিনব্যাপী ২০তম কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপিত
ছন্দ সেন চাকমা :
দান, শীল ও প্রার্থনার পুণ্য আবহে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান।

শুক্রবার ও শনিবার—দুই দিনব্যাপী উপজেলার শান্তিপুর অরণ্য কুটিরে ২০তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক দায়ক-দায়িকা, উপাসক-উপাসিকা ও পুণ্যার্থী।
শান্তিপুর অরণ্য কুটিরের ২০তম কঠিন চীবর দানোৎসবে সভাপতিত্ব করেন বনভান্তের শিষ্য সংঘের প্রধান ও রাঙামাটি রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান ভদন্ত প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রিপল চাকমা, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য কংজপ্রু মারমা, বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি সুধাঅং মারমা এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য রুমেল মারমাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে ধর্মসভায় স্বধর্মদেশনা প্রদান করেন রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান ও বনভান্তের শিষ্য সংঘের প্রধান শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির মহোদয়, শান্তিপুর অরণ্য কুটিরের অধ্যক্ষ ভদন্ত শাসন রক্ষিত মহাস্থবির, মৈত্রীপুর ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ভদন্ত বিমলানন্দ মহাস্থবির, ধর্মচক্র অরণ্য কুটিরের অধ্যক্ষ ভদন্ত মহামিত্র মহাস্থবির, তপোবন অরণ্য কুটিরের অধ্যক্ষ ভদন্ত জিনপ্রিয় মহাস্থবির এবং ধর্মপুর আর্য বন বিহারের ভদন্ত সত্যপ্রেম মহাস্থবিরসহ অন্যান্য ভিক্ষুসংঘ।

ধর্মসভায় বক্তারা কঠিন চীবর দানের ধর্মীয় তাৎপর্য, বৌদ্ধধর্মে শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব এবং মানবজীবনে দান ও নৈতিকতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, কঠিন চীবর দান কেবল কোনো ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এর মধ্য দিয়ে ত্যাগ, সংযম, সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের শিক্ষা প্রতিফলিত হয়। দান ও শীলের চর্চা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মৈত্রীর বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।

দিনব্যাপী বুদ্ধবন্দনা, ধর্মদেশনা, চীবর দান, পুণ্যাহুতি ও প্রার্থনাসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুই দিনব্যাপী এই দানোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

| ১ নভেম্বর ২০২৬












