| ২৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

হাজারো ফানুসের আলোয় রঙিন কাপ্তাইয়ের আকাশ, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন

হাজারো ফানুসের আলোয় রঙিন কাপ্তাইয়ের আকাশ, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

কাপ্তাইয়ের রাতের আকাশ যেন হুট করেই নেমে আসা কোনো তারার মেলা একে একে আকাশে ডানা মেলে উড়ে চলা রঙবেরঙের ফানুস আর শতশত মানুষের আনন্দ-উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে কাপ্তাইয়ের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ বিহার মাঠে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর উৎসবের আমেজে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমার রাতে ফানুস ওড়ানোর এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মুগ্ধ করেছে পাহাড়ি-বাঙালি সব বয়সের মানুষকে।

দিনভর বৌদ্ধ বিহারগুলোতে চলে বুদ্ধপূজা, শীলগ্রহণ, ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডদান এবং বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা,বুদ্ধ স্নান।

তবে সূর্যের আলো ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামতেই কাপ্তাইয়ের মূল আকর্ষণ কেন্দ্রীভূত হয় ঐতিহ্যবাহী চিৎমরম  বৌদ্ধ বিহার মাঠে। গৌতম বুদ্ধের পবিত্র কেশধাতু পূজার স্মরণে এবং মনের সকল গ্লানি ও অন্ধকার দূর করে আলোর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতীক হিসেবে আকাশে ফানুস ওড়ানোর এই আনন্দযজ্ঞে অংশ নেন শত শত পুণ্যার্থী।

তরুণ থেকে শুরু করে প্রবীণ—সবার হাতেই ছিল নানা আকৃতির রঙিন ফানুস। একে একে যখন ফানুসগুলোতে আগুন জ্বালিয়ে আকাশে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছিল, তখন পুরো বিহার মাঠজুড়ে তৈরি হয় এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ। বাতাসে ভেসে চলা হাজারো ফানুসের হলুদ, লাল, নীল আলোয় কাপ্তাইয়ের রাতের আকাশ ধারণ করে এক অলৌকিক ও মনোরম রূপ। মাঠের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা উৎসুক জনতা করতালি দিয়ে এই দৃশ্য উপভোগ করেন।

প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসব উদযাপন করতে আসা কয়েকজন পূর্ণাথীরা জানান, প্রবারণা পূর্ণিমা আত্মশুদ্ধি এবং মৈত্রী ভাব প্রচারের দিন। আকাশে ফানুস ওড়ানোর মাধ্যমে মানুষ তার ভেতরের সমস্ত হতাশা, হিংসা ও অন্ধকার উড়িয়ে দিয়ে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার প্রার্থনা করে। কাপ্তাইয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, বর্ণিল ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে এবারের প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসব।

দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্বের শিকার রায়হান, চিকিৎসার অভাবে শঙ্কিত পরিবার

হাজারো ফানুসের আলোয় রঙিন কাপ্তাইয়ের আকাশ, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার, সুস্থ হতে চান মানুষের সহযোগিতায়

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার চক গোবিন্দপুর গ্রামের রায়হান মিয়া একসময় নিজের উপার্জনে সংসার চালাতেন। পেশায় তিনি একজন দর্জি শ্রমিক। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ছিল তাঁর ছোট্ট সংসার। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে দিনরাত পরিশ্রম করতেন তিনি। কিন্তু একটি মর্মান্তিক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা তাঁর জীবনের চিত্র বদলে দিয়েছে। এখন অন্যের সহযোগিতায় কোনো রকমে দিন কাটছে তাঁর পরিবারের।

রায়হান মিয়া সাদুল্লাপুর উপজেলার চক গোবিন্দপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। জানা যায়, একদিন বাড়ি থেকে সাদুল্লাপুর যাওয়ার পথে একটি বেপরোয়া পাওয়ার টিলারের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হলেও পায়ের আঘাতের কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার সক্ষমতা ফিরে পাননি রায়হান। বর্তমানে ক্রাচে ভর করে তাঁকে চলাফেরা করতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া তাঁর শেষ সম্বল ১৫ শতক জমিও বিক্রি করে দিয়েছেন। আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সহযোগিতায় চিকিৎসা চালালেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি তিনি।

অন্যদিকে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তাঁর। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের খাবার জোগাড় করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রায়হান মিয়া আবারও সুস্থ হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান। ফিরে পেতে চান কর্মক্ষমতা, চালাতে চান নিজের সংসার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসা ও আর্থিক সহযোগিতা।

এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন রায়হান। আপনাদের সামান্য সহযোগিতাও তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে এবং অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম :
বিকাশ ও নগদ : ০১৭২৫১৮৩৮২৭

আসুন, মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিই। রায়হান মিয়ার চিকিৎসায় সহযোগিতা করে তাঁকে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ করে দিই।

আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাপ্তাইয়ে উদযাপিত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্ণিমা

হাজারো ফানুসের আলোয় রঙিন কাপ্তাইয়ের আকাশ, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই, রাঙামাটির  :

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে কাপ্তাইয়ের প্রতিটি বৌদ্ধ বিহার ও বৌদ্ধপল্লীগুলোতে এখন বইছে আনন্দের জোয়ার।

গতকাল রবিবার দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল বুদ্ধপূজা, শিবলী পূজা, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ, ধর্মদেশনা, ধ্যান অনুশীলন, বিশেষ প্রার্থনা, হাজারো প্রদীপ প্রজ্বালন, বুদ্ধ স্নান ও ফানুস ওড়ানো। আজ সোমবার প্রবারণা পূর্ণিমার দ্বিতীয় দিনে আকাশে ওড়ানো হচ্ছে শত শত রংবেরঙের ফানুস।

সোমবার ( ২৬ অক্টোবর) ঐতিহ্যবাহী চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন বিহারে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে মারমা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ নতুন পোশাকে বিহারে সমবেত হন। তারা নিজেদের তৈরি উন্নতমানের খাবার নিয়ে বিহারে আসেন এবং দেশ ও জাতির সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন। উৎসবকে কেন্দ্র করে বিহারগুলো এবং এর আশপাশের প্যান্ডেলগুলো বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা হলাসুইয়ে মং মারমা ও সাবেক ইউপি মহিলা মেম্বার মিচিংপ্রু মারমা জানান, প্রবারণা উপলক্ষে সব ধর্মের মানুষ বিহারগুলোতে সমবেত হন। এতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে এক সুদৃঢ় সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি হয়।উল্লেখ্য, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসের বর্ষাব্রত সমাপ্তির পরই এই প্রবারণা উৎসব উদযাপিত হয়। প্রবারণা পূর্ণিমার পর থেকেই মাসব্যাপী শুরু হবে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘কঠিন চীবর দানোৎসব’।​বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ যখন বোধিসত্ত্ব রূপে শ্রাবস্তী নগর থেকে গৃহত্যাগ করেন, তখন অনুমাদ্ধর্শী নদীর তীরে নিজের চুল কেটে ঊর্ধ্বদিকে নিক্ষেপ করেছিলেন। সেই চুলগুচ্ছ মহাতাবতিংস স্বর্গের ‘চুলামনি প্যাগোডা’য় সংরক্ষিত রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। সেই পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে এবং তথাগত ভগবান বুদ্ধের আড়াই হাজার বছর আগে তাবতিংস স্বর্গ থেকে মানবজগতে অবতরণকে স্মরণ করে আকাশে ফানুস ওড়ানো ও প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়।

​উৎসবের শেষ দিন আগামীকাল মঙ্গলবার রাইখালী নারানগিরি বৌদ্ধ বিহারে ময়ূরের আদলে তৈরি বিশেষ রথে গৌতম বুদ্ধের প্রতিমূর্তি বসানো হবে। এরপর রশি টেনে হাপছড়ি প্রদক্ষিণ শেষে মাঝি পাড়া হয়ে কর্ণফুলী নদীতে তা ভাসানোর মধ্য দিয়ে এবারের প্রবারণা উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

দিঘীনালা দশবন বৌদ্ধ রাজ বিহারে কঠিন চীবর দান উদযাপন

হাজারো ফানুসের আলোয় রঙিন কাপ্তাইয়ের আকাশ, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে প্রবারণা পূর্ণিমা উদ্‌যাপন

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলার দশবন বৌদ্ধ রাজ বিহারে নানা ধর্মীয় আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার ২৬ অক্টোবর এ উপলক্ষে বিহার প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সকালে বুদ্ধপূজা, বুদ্ধমুর্তি দান, সংঘদান,অষ্টপরিস্কার দান, পিণ্ডদান ও ধর্মীয় দেশনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্টানে প্রধান ধর্মালোচক হিসেবে উপস্তিত ছিলেন ভদন্ত বিমল জ্যোতি মহাথের, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন তনহংকর মহাথের সাধারন সম্পাদক বাংলাদেশ বৌদ্ধ ভিক্ষু মহাসভা ধর্মীয় শিক্ষা পরিষদ, ভদন্ত লোক প্রিয় ভিক্ষু পার্বত্য সংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, ভদন্ত শ্রদ্ধা লংকার মহাথের পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শান্তি লুচন চাকমা।

অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘ, দায়ক-দায়িকা, পুণ্যার্থী ও বিভিন্ন এলাকার ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

দিনব্যাপী আয়োজনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বুদ্ধের আদর্শ অনুসরণ, মানবকল্যাণ, মৈত্রী, করুণা ও অহিংসার চর্চার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ সময় ভিক্ষুসংঘের উদ্দেশ্যে কল্পতরু ও কঠিন চীবরসহ বিভিন্ন দানীয় সামগ্রী প্রদান করেন পুণ্যার্থীরা।
কঠিন চীবর দান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধর্মীয় উৎসব। বর্ষাবাস শেষে ভিক্ষুসংঘকে চীবর দানের মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপন করা হয়। এ আয়োজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় মূল্যবোধ, সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।

উৎসবকে ঘিরে বিহার প্রাঙ্গণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন।

×