| ১৫ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

কন্যাশিশুর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে রুমায় র‍্যালি – আলোচনা সভা

কন্যাশিশুর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে রুমায় র‍্যালি – আলোচনা সভা

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে ঝরে পড়া রোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রুমা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দিবসটি উপলক্ষে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত স্থানে এসে শেষ হয়।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় ও ইউএনডিপির কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কমিটির (সিডিসি) বাস্তবায়নে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রুমা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম ফরিদুল হক। আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ সাকিবুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাসেল দে, রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেলাল উদ্দিন এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপসহকারী কর্মকর্তা খালিদ রাউজান।

এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ জন কর্মসূচিতে অংশ নেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুর সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে পরিবার থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তাদের অধিকার রক্ষা, মতামতের মূল্যায়ন এবং শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সমাজের সবার দায়িত্ব। কোনো কন্যাশিশু যেন আর্থিক অসচ্ছলতা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা বাল্যবিবাহের কারণে শিক্ষাজীবন থেকে ছিটকে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, বাল্যবিবাহ কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাভাবিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে। এ সমস্যা প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত তদারকি এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের চিহ্নিত করে তাদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুরা যথাযথ শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সমান অধিকার পেলে ভবিষ্যতে দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।

তাই কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করা এবং তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

দীঘিনালায় লারমা স্কয়ার থেকে উপজেলা সড়কের বেহাল দশা চরম দুর্ভোগে গর্ভবতী নারীরা

কন্যাশিশুর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে রুমায় র‍্যালি – আলোচনা সভা

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় লারমা স্কয়ার থেকে উপজেলা সদরের দের কিলো মিটার প্রধান সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও চলাচলের অনুপযোগী অবস্থার কারণে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা বিরাজ করলেও সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে সড়কে পানি জমে এবং কাদার সৃষ্টি হলে চলাচল আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ রোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে যাতায়াতের সময় সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে তাঁদের অতিরিক্ত কষ্টের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

৩নং কবাখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন দুরবস্থা জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা শমিতা চাকমা।

এই বিষয়ে খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন লারমা স্কোয়ার থেকে দীঘিনালা পর্যন্ত তুমি কার সড়কের দেড় কিলোমিটার সড়কের কাজের জন্য ইতিমধ্যে আবেদন করা হয়েছে আশা করছি এই মাসের মধ্যে সড়কের কাজ শুরু হবে।

বাঘাইছড়ির সাজেকে আবারও অবরোধের ডাক, বিপাকে পর্যটন ব্যবসায়ীরা

কন্যাশিশুর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে রুমায় র‍্যালি – আলোচনা সভা

 

আনোয়ার হোসেন,
‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :
‎
‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে ফের অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই সাজেকের পর্যটন ব্যবসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
‎
‎বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিজয় কান্তি চাকমার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
‎
‎বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাজেকবাসীর তিন দফা দাবি পূরণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণে প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠন দুটি।
‎
‎এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসব ও পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন করে অবরোধের ঘোষণায় উদ্বেগ বাড়ছে সাজেকের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। দীর্ঘ সময় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকলে পর্যটক সমাগম কমে যাওয়া, কটেজ-রিসোর্টের বুকিং বাতিল এবং পরিবহন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‎
‎সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা এবং সাজেক পর্যটনকেন্দ্র উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন করেছেন সাজেক কটেজ-রিসোর্ট মালিক সমিতি, চান্দের গাড়ি (জিপ) চালক সমিতি ও স্থানীয় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানান তাঁরা।
‎
‎এর আগে, পিসিজেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গত ১১ অক্টোবর সকাল থেকে সড়ক অবরোধের ডাক দেয় সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাজেকের প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ-অধ্যুষিত এলাকায় সংগঠন দুটি ইউপিডিএফ-সমর্থিত সংগঠন হিসেবে পরিচিত।
‎
‎নতুন করে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার ফলে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াত, পণ্য পরিবহন ও স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটনকেন্দ্রটির সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে এবং চলমান সংকট নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিলাইছড়ির ধুপপানি এলাকায় অসহায় পরিবারের পাশে মানবিক ইউএনও অভি দাশ

কন্যাশিশুর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে রুমায় র‍্যালি – আলোচনা সভা

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নের ধুপপানি ঝর্ণার পাশে বসবাসকারী ছয়টি অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভি দাশ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ২৯৯ নম্বর রাঙ্গামাটির আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজেশ প্রসাদ রায়।

ইউএনও অভি দাশ জানান, ধুপপানি ঝর্ণার পাশে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে। ধুপপানি শিশু কানন বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব পরিবারের অসহায়ত্ব ও দুরবস্থার কথা জানতে পারেন। পরে তাঁদের বসতবাড়ির অবস্থা সরেজমিনে দেখে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি। সহায়তার আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে দুই বান্ডিল করে ঢেউটিন এবং ঘর নির্মাণের মজুরি বাবদ চেকের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। সহায়তাপ্রাপ্ত পরিবারগুলো হলো—প্রণয় কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, যত্নবাবু তঞ্চঙ্গ্যা, গোলক কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, শান্তিপ্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা, রাজয় কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা ও দেবী তঞ্চঙ্গ্যা।

বিলাইছড়ির দুর্গম এলাকার অসহায় পরিবারগুলোর দুর্দশা উপলব্ধি করে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা প্রদানের এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসনীয়। এমন মানবিক উদ্যোগ অসহায় পরিবারগুলোর ঘর নির্মাণ ও জীবনযাপনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×