| ১২ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

সড়ক অবরোধের মধ্যেও থেমে নেই সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোক

সড়ক অবরোধের মধ্যেও থেমে নেই সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোক

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার সাজেক সড়কে অবরোধের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় চরম প্রতিকূলতা তৈরি হলেও থেমে নেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মানবিক কার্যক্রম।

রবিবার ১১ অক্টোবর দীঘিনালা জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল মো: আল আমিন পিএসসি নির্দেশনায় আরএমও তত্ত্বাবধানে উপজেলার জোড়া ব্রিজ এলাকায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রায় চার শতাধিক অসহায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মাঝে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হয়।

ঔষধ নিতে আশা এক ব্যক্তি বলেন, অবরোধের কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় পাহাড়ের দুর্গম এলাকার মানুষ যখন চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন, ঠিক তখনই সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ আমাদের মাঝে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানায়।

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দীঘিনালা জোনের আরএমও বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর এ ধরণের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

গোবিন্দগঞ্জে রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার লুইস মুরমু মারা গেছে

সড়ক অবরোধের মধ্যেও থেমে নেই সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোক

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া লুইস মুরমু (৬৩) মারা গেছেন।
রবিবার (১২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার কামদিয়া সড়কের শালপাড়া এলাকা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় লুইস মুরমুকে প্রথমে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারা যায়। লুইস মুরমু রাজাহার ইউপির রাজাবিরাট এলাকার মৃত সুরুজ মুরমুর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, রাত ৯টার দিকে পথচারীরা লুইসকে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিএনজিযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়ায় পাঠানো হয়। বগুড়া নেয়ার পথে মোকামতলা এলাকায় রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, লুইস মুরমুর মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। তার জ্ঞান না ফেরায় তাকে বগুড়ায় পাঠানো হয়।

কাপ্তাইয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ নিয়ে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত 

সড়ক অবরোধের মধ্যেও থেমে নেই সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোক

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক এক অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কাপ্তাইয়ের কিন্নরী হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক কেন্দ্রীয়ভাবে অনুষ্ঠিত টেলিকনফারেন্স শেষে এই প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা তথ্য সহকারী কর্মকর্তা মো: দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: রায়হানুল ইসলাম। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: নাজমুল হাসান এবং কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রুইহলা অং মারমা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১০ মার্চ পাইলটিং উদ্বোধনের পর সফলভাবে পাইলটিং সম্পন্ন করে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২,৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে প্রদান করা হবে। ১২ অক্টোবর থেকে ৬৬,৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬,৬৮১ জন সুপারভাইজার বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইসের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে ইনপুট করবেন।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর পিএমটি পদ্ধতিতে দেশের সকল পরিবারকে ৫টি কোয়ান্টাইলে ভাগ করা হয়েছে। পিএমটি স্কোর ৮৬০ বা তার কম প্রাপ্ত নারী পরিবার প্রধান ভাতা পাবেন। সকল নারী পরিবার প্রধান কার্ড পেলেও ১ম, ২য় ও ৩য় কোয়ান্টাইলভুক্তরা ভাতা পাবেন।

আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ৪.৪৫ কোটি পরিবারের তথ্য সংরক্ষণের লক্ষ্য রয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন ৪০ লক্ষ নারী পরিবার প্রধানকে ভাতা দেওয়া হবে এবং আগামী ৩ বছরে সকল যোগ্যদের আওতায় আনা হবে।

Dual Chip, QR Code ও NFC সুবিধা সম্বলিত এই কার্ড ‘TakaPay’ স্কিমের সাথে যুক্ত থাকবে, যার মাধ্যমে এটিএম, পিওএস ও এমএফএস থেকে সহজে ভাতার টাকা উত্তোলন করা যাবে।

​সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

রামগড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা ৪০ লাখ নারী

সড়ক অবরোধের মধ্যেও থেমে নেই সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোক

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড়ে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেস কনফারেন্সে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এমপি, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এমপি, সচিব ড. আবু ইউছুফ এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।

এ সময় স্থানীয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দিল আল জান্নাত, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান, শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা কামরুন নাহার, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত উল্লাহসহ স্থানীয় সাংবাদিকেরা।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, নারীর ক্ষমতায়ন, মর্যাদা, অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী একযোগে পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, গত ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। পাইলটিং পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটির ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রক্সিমিটি টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন উপকারভোগীকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা প্রদানের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী তিন অর্থবছরে সব নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষায়িত ট্যাবের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্যসংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সম্মেলনে জানানো হয়।

কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

×