| ১৩ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

দীঘিনালায় দুর্গাপূজা বিজিবির নিরাপত্তা সভা, ৯ পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান

দীঘিনালায় দুর্গাপূজা বিজিবির নিরাপত্তা সভা, ৯ পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান

 

রুপম চাকমা, দীঘিনালা :

শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় নিরাপত্তা জোরদার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার নয়টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় প্রতিটি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধির হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন বাবুছড়া ব্যাটালিয়ন (৭ বিজিবি) অধিনায়ক।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বাবুছড়া ব্যাটালিয়ন (৭ বিজিবি) মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব ও বক্তব্য দেন বাবুছড়া ব্যাটালিয়ন (৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইশতিয়াক আহম্মদ ইবনে রিয়াজ। এ সময় দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী, দীঘিনালা আনসার ও ভিডিপির সহকারী পরিচালক পুলক সরকার, মেডিকেল অফিসার এম. আবদুল্লাহ আল মামুন এবং উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সুমনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইশতিয়াক আহম্মদ ইবনে রিয়াজ বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সদস্যদের স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিজিবি অধিনায়ক আরও বলেন, পূজা উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা কিংবা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনে তিনি সহযোগিতা কামনা করেন।

সভা শেষে দীঘিনালা উপজেলার নয়টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের মধ্যে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়।

বিলাইছড়ির ধুপপানি এলাকায় অসহায় পরিবারের পাশে মানবিক ইউএনও অভি দাশ

দীঘিনালায় দুর্গাপূজা বিজিবির নিরাপত্তা সভা, ৯ পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নের ধুপপানি ঝর্ণার পাশে বসবাসকারী ছয়টি অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভি দাশ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ২৯৯ নম্বর রাঙ্গামাটির আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজেশ প্রসাদ রায়।

ইউএনও অভি দাশ জানান, ধুপপানি ঝর্ণার পাশে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে। ধুপপানি শিশু কানন বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব পরিবারের অসহায়ত্ব ও দুরবস্থার কথা জানতে পারেন। পরে তাঁদের বসতবাড়ির অবস্থা সরেজমিনে দেখে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি। সহায়তার আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে দুই বান্ডিল করে ঢেউটিন এবং ঘর নির্মাণের মজুরি বাবদ চেকের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। সহায়তাপ্রাপ্ত পরিবারগুলো হলো—প্রণয় কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, যত্নবাবু তঞ্চঙ্গ্যা, গোলক কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, শান্তিপ্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা, রাজয় কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা ও দেবী তঞ্চঙ্গ্যা।

বিলাইছড়ির দুর্গম এলাকার অসহায় পরিবারগুলোর দুর্দশা উপলব্ধি করে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা প্রদানের এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসনীয়। এমন মানবিক উদ্যোগ অসহায় পরিবারগুলোর ঘর নির্মাণ ও জীবনযাপনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাপ্তাইয়ে প্রাথমিকে ১০ শিক্ষক ও ১ কর্মচারীর আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

দীঘিনালায় দুর্গাপূজা বিজিবির নিরাপত্তা সভা, ৯ পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

​“মোর স্মৃতিটুকু দিয়ে স্বপ্নাবিষ্ট তোমার বচন/ভার তার না রহিবে, না রহিবে দায়/হে বন্ধু, বিদায়। মোর লাগি করিয়ো না শোক, আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক।”—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী এই কবিতার চরণের মতো অশ্রুসিক্ত নয়ন আর শ্রদ্ধাসিক্ত ভালোবাসায় কাপ্তাইয়ে বিদায় জানানো হলো একঝাঁক আলোকিত মানুষ ও সহকর্মীকে। ​

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ২টায় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার, কাপ্তাই’-এর উদ্যোগে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ১০ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং ১ জন পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মচারীকে এই বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

কাপ্তাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো: কফিল উদ্দিন। তানি আক্তারের প্রাণবন্ত ও নিখুঁত সঞ্চালনায় এবং জগদীশ চন্দ্রের আন্তরিক স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মানস মুকুল চাকমা, কাপ্তাই উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার (ইউআরসি) ইন্সট্রাক্টর জিন্নাতুন নাহার এবং কাপ্তাই সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আঁখি তালুকদার।

অনুষ্ঠানে কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণকারী ১০ জন প্রধান ও সহকারী শিক্ষক এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ১ জন অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিককে শিক্ষা পরিবার ও সহকর্মীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়।

বিদায়বেলায় সহকর্মীদের স্মৃতিচারণে মিলনায়তনে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। বক্তারা বিদায়ী শিক্ষকদের দীর্ঘ ও নিবেদিত কর্মজীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “শিক্ষকরা হলেন একটি জাতির মেধা ও মনন গড়ার কারিগর। জীবনের সোনালী সময়গুলো তাঁরা কাপ্তাইয়ের শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে ব্যয় করেছেন। চাকরি জীবন থেকে তাঁদের এই প্রস্থান কেবল প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, কিন্তু কাপ্তাইয়ের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে তাঁদের অবদান ও স্মৃতি চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।” একই সাথে অতিথিরা পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মচারীর নতুন কর্মস্থলের উত্তরোত্তর সাফল্য ও শুভকামনা জানান। ​

উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত থেকে বিদায়ীদের প্রতি শুভকামনা জ্ঞাপন করেন। পরিশেষে বিদায়ী অতিথিদের হাতে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে স্মারক উপহার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত এই সভার সমাপ্তি ঘটে।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে রামগড়ে র‍্যালি ও মহড়া অনুষ্ঠিত

দীঘিনালায় দুর্গাপূজা বিজিবির নিরাপত্তা সভা, ৯ পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি :

‘‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’’ প্রতিপাদ্যে খাগড়াছড়ির রামগড়ে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) র‍্যালি, অগ্নিনির্বাপণ মহড়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষের সামনে থেকে র‍্যালি বের করা হয়। পরে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত উল্ল্যাহ, রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজির আলম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, রামগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বিশ্বান্তর বিকাশ বড়ুয়া, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান আঞ্জুম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. রহমত উল্ল্যাহ এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রামগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বিশ্বান্তর বিকাশ বড়ুয়ার নির্দেশনায় এবং সিনিয়র ফায়ার ফাইটার মো. ছলিম উল্ল্যাহর নেতৃত্বে একটি দল অগ্নিনির্বাপণ মহড়া পরিচালনা করে। এতে শিক্ষার্থী ও অতিথিরা অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন

×