| ২ নভেম্বর ২০২৬
শিরোনাম:

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার সংগ্রাম, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ৪০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার সংগ্রাম, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ৪০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

 

মথি ত্রিপুরা, রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম ৪নং গালেংগ্যা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড কুরাং পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকট ও শিক্ষক স্বল্পতার মধ্য দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি সরকারি স্বীকৃতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন পেলে এলাকার শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর শিক্ষার সুযোগ আরও সুদৃঢ় হবে। আজ শনিবার (৩০ মে) সরেজমিনে এই স্কুলের সাইনবোর্ড দেখে জানা যায় যে এটি শিশুদের জন্য শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন, সহযোগিতায় রয়েছে কোবরা অ্যান্ড মঙ্গুজ চ্যারিটি।

বিদ্যালয়টি রুমা উপজেলার ৪নং গালেংগ্যা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড কুরাং পাড়ায়, থানচি প্রধান সড়কের আনুমানিক ১ কিলোমিটার দূরত্বের অবস্থিত।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুইতন ম্রো জানান, তিনি প্রায় ১০ থেকে ১১ বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, আমি না থাকলে অনেক আগেই স্কুলটি বন্ধ হয়ে যেত। বর্তমানে মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে স্কুলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। একজন নারী শিক্ষককে স্থানীয় অভিভাবকরা বেতন দেন। অনেক সময় আর্থিক সংকটের কারণে বেতন প্রদান করতেও হিমশিম খেতে হয়।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যথেষ্ট। শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। আশপাশের দূরবর্তী পাড়া থেকেও শিক্ষার্থীরা এখানে এসে পড়াশোনা করে। সরকার যদি এখানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন বা একটি নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করে দেয়, তাহলে এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সন্তানরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ৫নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার জনপ্রতিনিধি রেংওয়ে ম্রো বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর বহু বছর পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু শিক্ষক আছেন মাত্র দুইজন। একজনকে স্কুল পরিচালনা কমিটি এবং অপরজনকে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন সম্মানী ভাতা দিয়ে পরিচালনা করছে।

কুরাং পাড়ার কারবারি মাংয়া ম্রো বলেন, শিক্ষার্থীর তুলনায় বেঞ্চ-টেবিল খুবই অপ্রতুল। অনেক আসবাবপত্র ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের টিনের ছাদে অসংখ্য ছিদ্র হওয়ায় বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষে পড়ে। এতে পাঠদান ব্যাহত হয়। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, একটি নতুন বিদ্যালয় ভবন এবং সরকারি বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করা হোক।

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কাইংওয়াই ম্রো জানায়, আমাদের স্কুলের অবস্থা খুব খারাপ। বেঞ্চ-টেবিল ভাঙা, ঠিকমতো বসতে পারি না। বৃষ্টি হলে খাতা-কলম ভিজে যায়। নতুন স্কুল ভবন হলে আমরা ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারব। বর্তমান ভবনটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে ভয় হয়।

একজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয় এবং প্রতিবছর ভালো ফলাফলও আসে। কিন্তু অবকাঠামোগত দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীরা নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

এ বিষয়ে হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর বিদ্যাপূর্ণ চাকমা বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলোচনা করব। গ্রামের মানুষ সমন্বিতভাবে এগিয়ে এলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন বা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। এ  বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে কুরাং পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হলে দুর্গম অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

বিলাইছড়িতে পালবার লিং সেন্টারের বার্ষিক কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার সংগ্রাম, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ৪০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় পালবার লিং সেন্টার বাংলাদেশের উদ্যোগে বার্ষিক দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে দিনব্যাপী এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি ২৯৯নং আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভদন্ত দেবানন্দ মহাথের এবং সভাপতিত্ব করেন প্রজ্ঞাবারিধি অধ্যাপক ভদন্ত সুমেধানন্দ মহাথের।

এ সময় ভিক্ষুসংঘের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত বিপস্সী মহাথের, ভদন্ত ওয়ারাসামী মহাথের, ভদন্ত ইন্দাচারা মহাথের এবং পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বিলাইছড়ি বাজার সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ দেবতিষ্য ভিক্ষুসহ বিভিন্ন বিহারের ভিক্ষুসংঘ।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী মৈত্রী দেওয়ান, বিলাইছড়ি সেনা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. সাকিব হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভি দাশ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুস সালাম ফকির, সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক উষা কিরণ বড়ুয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো পুণ্যার্থী।

দিনব্যাপী আয়োজনে কঠিন চীবর দানের পাশাপাশি বুদ্ধপূজা, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কল্পতরু দান, পিণ্ডদানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় দানানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রভাত কান্তি বড়ুয়ার লেখা বুদ্ধকীর্তন এবং তাঁর জীবন ও কর্মের ওপর রচিত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন।

দীঘিনালার ছোট মেরুং বিশ্ব শান্তি মৈত্রী ভাবনাকুঠিরে ৫ তম মহান কঠিন চীবর দান উদযাপন

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার সংগ্রাম, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ৪০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

 

রুপম চাকমা, দিঘীনালা :

বিশ্বের সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ছোট মেরুং বিশ্ব শান্তি মৈত্রী ভাবনা কুঠিরে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ৫তম মহান কঠিন চীবর দান উদযাপন করা হয়েছে।

রবিবার ১নভেম্বর দিনব্যাপি অনুষ্টানে সকালে বুদ্ধ মুর্তিদান, সংঘ দান, অষ্টপরিস্কার দান করা হয়।

এতে অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্তিত ছিলেন নন্দবংশ মহাস্হবির ভান্তে, ছোট মেরং বিশ্ব শান্তি ভাবনা কুঠিরের অধ্যক্ষ সুগতবংশ মহাস্হবির ভান্তে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য শান্তি প্রিয় চাকমা, এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জ্ঞান জীত চাকমা উপস্তিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দেশ ও বিশ্বের সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও ধর্মীয় দেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

পাশাপাশি সকল প্রকার হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি ও অশান্তি দূর হয়ে বিশ্বজুড়ে মৈত্রী, করুণা, ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে দেশনা প্রদানকালে নন্দ বংশ মহাস্হবির ভান্তে বলেন, বুদ্ধ ধর্ম হলো শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের ধর্ম। বুদ্ধের আদর্শ অনুসরণ করে প্রত্যেক মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সবাইকে বুদ্ধের উপদেশ মেনে চলতে হবে। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি পঞ্চশীল পালনের আহ্বান জানান।

নন্দ বংশ ভান্তে আরও বলেন, পঞ্চশীল মানুষের নৈতিক ও আদর্শ জীবন গঠনের অন্যতম ভিত্তি। পঞ্চশীল পালন করলে মানুষ হিংসা, লোভ, মিথ্যা ও অন্যায় থেকে দূরে থাকতে পারে। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যেকের পঞ্চশীল পালন করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি সবাইকে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে মৈত্রী, করুণা, ভালোবাসা ও মানবতার আদর্শে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।

অনুষ্টানে দ্বিতীয় পর্ব উপস্তিত ভিক্ষু সংঘ উদ্দেশ্য কল্পতরু ও কঠিন চীবর দানের মাধ্যমে দিন ব্যাপি কঠিন চীবর দান অনুষ্টান সমাপ্ত হয়।

খাগড়াছড়ি জেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে এমপির প্রতিনিধি দায়িত্ব পেলেন অংগ্য মারমা

দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার সংগ্রাম, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ৪০ শিক্ষার্থীর পাঠদান

 

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে ৩৪ নং সংরক্ষিত সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমার পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন যুব নেতা ও সাংবাদিক অংগ্য মারমা।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদের প্যাডে সংসদ সদস্য মাধবী মারমা স্বাক্ষরিত এক পত্রে অংগ্য মারমাকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

মনোনীত অংগ্য মারমা খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার গঞ্জ পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ মারমা যুব ঐক্য পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং মানিকছড়ি উপজেলা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলার আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটিতে এমপির প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে সাংবাদিকতা ও উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।

তিনি জাতীয় দৈনিক মানবকণ্ঠ, সরেজমিন বার্তা, এই বাংলা পত্রিকার এবং স্থানীয় দৈনিক অরণ্য বার্তা ও আলোকিত পাহাড় পত্রিকার জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়াও অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিএইচটি বার্তা, আজকের প্রতিদিন ও বার্তা বাজার-এ কাজ করার সুবাদে স্থানীয় মানুষের সুখ-দুঃখ ও নানা সমস্যার কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘কারিতাস বাংলাদেশ’ এবং সমবায় অধিদপ্তরের অন্তর্ভুক্ত দি মারমা ক্রেডিট ইউনিয়নে বিভিন্ন সামাজিক ও সমবায় সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় অংগ্য মারমা সংসদ সদস্য মাধবী মারমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকান্ডকে আরও গতিশীল করতে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে তার দায়িত্ব পালন করবেন।

এলাকার শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

×