| ১৪ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

রামগড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা ৪০ লাখ নারী

রামগড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা ৪০ লাখ নারী

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় :

খাগড়াছড়ির রামগড়ে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেস কনফারেন্সে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এমপি, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এমপি, সচিব ড. আবু ইউছুফ এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।

এ সময় স্থানীয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দিল আল জান্নাত, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান, শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী কর্মকর্তা কামরুন নাহার, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত উল্লাহসহ স্থানীয় সাংবাদিকেরা।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, নারীর ক্ষমতায়ন, মর্যাদা, অধিকার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী একযোগে পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, গত ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। পাইলটিং পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটির ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রক্সিমিটি টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন উপকারভোগীকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা প্রদানের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী তিন অর্থবছরে সব নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষায়িত ট্যাবের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের জন্য ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্যসংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সম্মেলনে জানানো হয়।

কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

বিলাইছড়ির ধুপপানি এলাকায় অসহায় পরিবারের পাশে মানবিক ইউএনও অভি দাশ

রামগড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা ৪০ লাখ নারী

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নের ধুপপানি ঝর্ণার পাশে বসবাসকারী ছয়টি অসহায় পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভি দাশ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এসব মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন ২৯৯ নম্বর রাঙ্গামাটির আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজেশ প্রসাদ রায়।

ইউএনও অভি দাশ জানান, ধুপপানি ঝর্ণার পাশে বসবাসকারী কয়েকটি পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে। ধুপপানি শিশু কানন বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব পরিবারের অসহায়ত্ব ও দুরবস্থার কথা জানতে পারেন। পরে তাঁদের বসতবাড়ির অবস্থা সরেজমিনে দেখে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি। সহায়তার আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে দুই বান্ডিল করে ঢেউটিন এবং ঘর নির্মাণের মজুরি বাবদ চেকের মাধ্যমে তিন হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়। সহায়তাপ্রাপ্ত পরিবারগুলো হলো—প্রণয় কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, যত্নবাবু তঞ্চঙ্গ্যা, গোলক কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, শান্তিপ্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা, রাজয় কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা ও দেবী তঞ্চঙ্গ্যা।

বিলাইছড়ির দুর্গম এলাকার অসহায় পরিবারগুলোর দুর্দশা উপলব্ধি করে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা প্রদানের এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসনীয়। এমন মানবিক উদ্যোগ অসহায় পরিবারগুলোর ঘর নির্মাণ ও জীবনযাপনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাপ্তাইয়ে প্রাথমিকে ১০ শিক্ষক ও ১ কর্মচারীর আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

রামগড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা ৪০ লাখ নারী

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

​“মোর স্মৃতিটুকু দিয়ে স্বপ্নাবিষ্ট তোমার বচন/ভার তার না রহিবে, না রহিবে দায়/হে বন্ধু, বিদায়। মোর লাগি করিয়ো না শোক, আমার রয়েছে কর্ম, আমার রয়েছে বিশ্বলোক।”—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী এই কবিতার চরণের মতো অশ্রুসিক্ত নয়ন আর শ্রদ্ধাসিক্ত ভালোবাসায় কাপ্তাইয়ে বিদায় জানানো হলো একঝাঁক আলোকিত মানুষ ও সহকর্মীকে। ​

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ২টায় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার, কাপ্তাই’-এর উদ্যোগে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ১০ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং ১ জন পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মচারীকে এই বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

কাপ্তাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো: কফিল উদ্দিন। তানি আক্তারের প্রাণবন্ত ও নিখুঁত সঞ্চালনায় এবং জগদীশ চন্দ্রের আন্তরিক স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মানস মুকুল চাকমা, কাপ্তাই উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার (ইউআরসি) ইন্সট্রাক্টর জিন্নাতুন নাহার এবং কাপ্তাই সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আঁখি তালুকদার।

অনুষ্ঠানে কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণকারী ১০ জন প্রধান ও সহকারী শিক্ষক এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত ১ জন অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিককে শিক্ষা পরিবার ও সহকর্মীদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়।

বিদায়বেলায় সহকর্মীদের স্মৃতিচারণে মিলনায়তনে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। বক্তারা বিদায়ী শিক্ষকদের দীর্ঘ ও নিবেদিত কর্মজীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “শিক্ষকরা হলেন একটি জাতির মেধা ও মনন গড়ার কারিগর। জীবনের সোনালী সময়গুলো তাঁরা কাপ্তাইয়ের শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াতে ব্যয় করেছেন। চাকরি জীবন থেকে তাঁদের এই প্রস্থান কেবল প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র, কিন্তু কাপ্তাইয়ের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে তাঁদের অবদান ও স্মৃতি চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।” একই সাথে অতিথিরা পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মচারীর নতুন কর্মস্থলের উত্তরোত্তর সাফল্য ও শুভকামনা জানান। ​

উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত থেকে বিদায়ীদের প্রতি শুভকামনা জ্ঞাপন করেন। পরিশেষে বিদায়ী অতিথিদের হাতে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে স্মারক উপহার তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত এই সভার সমাপ্তি ঘটে।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে রামগড়ে র‍্যালি ও মহড়া অনুষ্ঠিত

রামগড়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা ৪০ লাখ নারী

 

সাইফুল ইসলাম, রামগড় প্রতিনিধি :

‘‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’’ প্রতিপাদ্যে খাগড়াছড়ির রামগড়ে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) র‍্যালি, অগ্নিনির্বাপণ মহড়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষের সামনে থেকে র‍্যালি বের করা হয়। পরে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত উল্ল্যাহ, রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজির আলম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, রামগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বিশ্বান্তর বিকাশ বড়ুয়া, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আজিজুর রহমান আঞ্জুম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. রহমত উল্ল্যাহ এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রামগড় ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বিশ্বান্তর বিকাশ বড়ুয়ার নির্দেশনায় এবং সিনিয়র ফায়ার ফাইটার মো. ছলিম উল্ল্যাহর নেতৃত্বে একটি দল অগ্নিনির্বাপণ মহড়া পরিচালনা করে। এতে শিক্ষার্থী ও অতিথিরা অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন

×