| ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

​কাপ্তাই হ্রদের কান্না: বাঁধের নিচে চাপা পড়া জীবন ও বর্তমানের হাহাকার

​কাপ্তাই হ্রদের কান্না: বাঁধের নিচে চাপা পড়া জীবন ও বর্তমানের হাহাকার

​

ছন্দ সেন চাকমা, রাঙ্গামাটি :

​ষাটের দশকের শুরুতে পাহাড়ি জনপদের বুক চিরে যখন কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, তখন রাষ্ট্র একে দেখেছিল ‘উন্নয়ন’ হিসেবে। কিন্তু রাঙ্গামাটির পাহাড় আর উপত্যকার মানুষের কাছে তা আজও এক দীর্ঘশ্বাসের নাম। এই একটি মাত্র বাঁধের কারণে সে সময় প্রায় ৫৪ হাজার হেক্টর স্থায়ী ও ASGI ধানের জমি চিরতরে পানির নিচে তলিয়ে যায়। ঘরবাড়ি ও ভিটেমাটি হারিয়ে উচ্ছেদ হতে হয়েছিল লাখেরও বেশি মানুষকে। সেই ‘বড় পরং’ বা মহা-উদ্বাস্তু হওয়ার ক্ষত পাহাড় আজও বয়ে বেড়াচ্ছে।

​বছরের পর বছর পার হলেও কাপ্তাই হ্রদের পানির ওঠানামার সাথে এই অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাগ্য যেন এক অদ্ভুত ও নিষ্ঠুর জুয়াখেলায় মেতে থাকে। বিশেষ করে বর্তমানের এই তীব্র শুকনো মৌসুমে হ্রদের পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে পাহাড়ি মানুষের জীবনযাত্রার সংকট যেমন চরম রূপ ধারণ করেছে, তেমনি পানির নিচ থেকে ভেসে উঠছে হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসের নানা খণ্ডচিত্র।

​হাজরী বাগের অলৌকিক গাছ:

অতিত ও বর্তমানের এক জীবন্ত সাক্ষী ​জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবারের শুকনো মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গেছে। আর পানি শুকিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই রাঙ্গামাটির হাজরী বাগ এলাকায় হ্রদের বুক চিরে জেগে উঠেছে বহু বছরের পুরনো এক নিঃসঙ্গ গাছ। কাপ্তাই বাঁধের আগে যে বিস্তীর্ণ জনপদ ছিল, এই গাছটি মূলত সেই সময়কার। দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে পানির নিচে ডুবে থাকার পরও গাছটি যেভাবে এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, তা এক পরম বিস্ময়।

​এই গাছটিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত আছে এক অলৌকিক ইতিহাস। জানা যায়, হ্রদের পানি শুকিয়ে গেলে বিভিন্ন সময়ে অনেকেই এই মূল্যবান গাছটি কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু লোকবিশ্বাস রয়েছে, যখনই কেউ লোভের বশে বা খারাপ উদ্দেশ্যে এই গাছটি কাটতে গেছে, তখনই অলৌকিকভাবে গভীর রাতে স্বপ্নের মাধ্যমে তাকে সতর্ক বা নিষেধ করা হয়েছে।

​স্বপ্নে পাওয়া সেই দৈব বার্তার ভয়ে এবং গাছটির প্রতি এক ধরণের সমীহ থেকে পরবর্তীতে আর কেউ একে কাটার সাহস করেনি। কোনো লোভ বা কুদৃষ্টি একে স্পর্শ করতে পারেনি বলেই আজ এত বছর পরও কাপ্তাই বাঁধের সেই প্রাচীন স্মৃতি হ্রদের তলদেশে অক্ষত রয়ে গেছে। স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে এই গাছটি কেবল একটি কাঠের টুকরো নয়, বরং তাদের পূর্বপুরুষদের ভিটেমাটির শেষ চিহ্ন এবং এক পরম শ্রদ্ধার প্রতীক।

​ডুবো জমি ও বর্তমানের জীবিকা সংকট :

​কাপ্তাই হ্রদের চারপাশের পাহাড়ি মানুষের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে হ্রদের তীরবর্তী ‘ডুবো জমি’। বর্ষায় হ্রদের পানি যখন উপচে পড়ে, তখন জমিগুলো তলিয়ে থাকে। আর শীতের শেষে যখন পানি নেমে যায়, তখন জেগে ওঠা পলিমাটিতে চাষাবাদ করে স্থানীয় কৃষকেরা তাদের সারা বছরের খাদ্য সংস্থান করেন। ​কিন্তু এখন পানির স্তর মারাত্মকভাবে ওঠানামা করছে। এবারের শুকনো মৌসুমে পানি এতটাই নিচে নেমে গেছে যে, অনেক এলাকায় সেচের জলের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। যে জমিতে সোনালী ধানের হাসি থাকার কথা ছিল, পানির অভাবে তা আজ ফেটে চৌচির। প্রখর রোদে পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন।

​থমকে গেছে যাতায়াত, ব্যাহত জীবনযাত্রা :

​কাপ্তাই হ্রদ কেবল একটি কৃত্রিম জলাশয় নয়, এটি রাঙ্গামাটির দুর্গম উপজেলাগুলোর যোগাযোগের প্রধান মহাসড়ক। শুকনো মৌসুমে হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ​বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বহু দূরবর্তী পাহাড়ি গ্রাম। স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত জুমের ফসল বা শাকসবজি এখন আর সহজে সদরের বাজারে নিয়ে আসা যাচ্ছে না। যেখানে নৌকায় কয়েক ঘণ্টায় যাতায়াত করা যেত, সেখানে এখন মাইলের পর মাইল হেঁটে, অতিরিক্ত খরচ ও শারীরিক কষ্ট স্বীকার করে মানুষকে পথ চলতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন অন্তঃসত্ত্বা নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা, যাদের জরুরি চিকিৎসায় হাসপাতালে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পানির নিচে ইতিহাস, উপরে খাবার জলের হাহাকার :

​যে হ্রদের পানি উৎপাদনে দেশের একটা অংশ আলোকিত হয়, সেই হ্রদের চারপাশের মানুষ আজ তীব্র সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে। শুকনো মৌসুমে হ্রদের পানি দূষিত ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পাহাড়ি ছড়াগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় ঝর্ণার বিশুদ্ধ পানিও মিলছে না। ফলে হ্রদের তীরবর্তী গ্রামগুলোতে দেখা দিচ্ছে পানিবাহিত নানা রোগ।
​যে ৫৪ হাজার হেক্টর ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল, তা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। হাজরী বাগের অলৌকিক গাছটির মতো অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন পানির নিচে চাপা পড়ে আছে, কিন্তু সেই উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর বর্তমান প্রজন্ম আজও এক অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি।

​শেষ কথা  :

কাপ্তাই বাঁধ সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত পাহাড়ের মানুষের ত্যাগকে রাষ্ট্র কতটা মূল্যায়ন করেছে, সেই প্রশ্ন রয়েই যায়। কাপ্তাই হ্রদকে কেন্দ্র করে পর্যটনের জৌলুস বাড়লেও, হ্রদের ওপর নির্ভরশীল আদিবাসী মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি কোনো টেকসই পরিকল্পনা দেখা যায়নি।

​শুকনো মৌসুমের এই মানবিক সংকট দূর করতে হলে হ্রদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা (ড্রেজিং), দুর্গম এলাকায় বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংকটকালীন সময়ে প্রান্তিক চাষীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া জরুরি। পাহাড়ের মানুষের বুকের ওপর বয়ে চলা এই কৃত্রিম হ্রদ যেন তাদের চিরস্থায়ী কান্নার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে এখনই নজর দেওয়া প্রয়োজন।

পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের শিক্ষার্থী কোশিক চাকমার জিপিএ-৫ অর্জন, উজ্জ্বল করল মা-বাবার মুখ

​কাপ্তাই হ্রদের কান্না: বাঁধের নিচে চাপা পড়া জীবন ও বর্তমানের হাহাকার

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় রাঙামাটির কর্ণফুলী সরকারি কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ (এ+) অর্জন করেছে কোশিক চাকমা। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

কোশিক চাকমার পিতা প্রয়াত মিশন চাকমা এবং মাতা ননাবি চাকমা। তার গ্রামের বাড়ি রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার জামেকছড়ি গ্রামে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সে বিলাইছড়ি উপজেলায়  পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন ( অনাথ আশ্রম) থেকে লেখাপড়া ও বেড়ে উঠেছে।

নিজের এ সাফল্যে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কোশিক জানায়, তার জীবনের এ অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক পরম শ্রদ্ধেয় ভদন্ত দেবতিষ্য ভিক্ষুর। তাঁর ভালোবাসা, আশীর্বাদ, অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

এ ছাড়া তার বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে।

কোশিক জানায়, পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন শুধু তার বেড়ে ওঠার স্থান নয়, এটি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই সে শিক্ষা, ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও সুন্দরভাবে জীবন গড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছে।

তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠান তাকে আজকের অবস্থানে আসতে সহযোগিতা করেছে, সেই পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের উন্নয়নে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখা। একই সঙ্গে তার মতো অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চায় সে।

কোশিকের ভাষায়, জিপিএ-৫ শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফল নয়; এটি তার জীবনের নতুন স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে সবার আশীর্বাদ ও দোয়া কামনা করেছে কোশিক চাকমা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫১ পিএম

কাপ্তাইয়ে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার

​কাপ্তাই হ্রদের কান্না: বাঁধের নিচে চাপা পড়া জীবন ও বর্তমানের হাহাকার

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি : 

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মোহাম্মদ কাজল (৫৫) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে কাপ্তাই থানা পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাপ্তাই উপজেলাধীন কর্ণফুলী কলেজ এলাকা হতে তাকে আটক করা হয়।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মোহাম্মদ কাজলের গ্রামের বাড়ি বরিশাল হলেও তিনি দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী সরকারি কলেজ এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। কিছুদিন পূর্বে তিনি তাঁর প্রতিবেশী ৮ বছরের এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। শুক্রবার ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

ভুক্তভোগী শিশুর পিতা মো. রিপন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাঁর অবুঝ শিশুর সঙ্গে এই জঘন্য অপরাধের ঘটনায় তিনি আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে কেউ আর সাহস না পায়।এ বিষয়ে কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল জানান, শুক্রবার ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত মোহাম্মদ কাজলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও জবানবন্দিতে অভিযুক্ত কাজল শিশুটিকে ধর্ষণ চেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন।ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় কাপ্তাই থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণে যাজক হচ্ছেন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা

​কাপ্তাই হ্রদের কান্না: বাঁধের নিচে চাপা পড়া জীবন ও বর্তমানের হাহাকার

 

বলীপাড়ায় তিন দিনব্যাপী আয়োজন, অভিষেক ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা

মথি ত্রিপুরা, রুমা, (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। আগামী ৬ নভেম্বর শুক্রবার বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলীপাড়া ধর্মপল্লীতে যাজক পদে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা। চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি তাঁর অভিষেক সম্পন্ন করবেন।

এই অভিষেককে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ, উৎসাহ ও ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। নিজ জাতিগোষ্ঠীর একজন সদস্যকে যাজক হিসেবে পাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাওয়ায় ঘটনাটিকে সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিষেক উপলক্ষে আগামী ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বলীপাড়া ধর্মপল্লীতে তিন দিনব্যাপী ধর্মীয় ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বরণ অনুষ্ঠান, পবিত্র আরাধনা, মঙ্গলানুষ্ঠান, যাজকীয় অভিষেক, ধন্যবাদের খ্রিষ্টযাগ, সংবর্ধনা ও প্রীতিভোজ।

আয়োজকদের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। বিকেল ৫টায় পবিত্র আরাধনা এবং সন্ধ্যা ৬টায় মঙ্গলানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

৬ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৯টায় মূল যাজকীয় অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অভিষেক শেষে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সংবর্ধনা এবং দুপুর ১টায় প্রীতিভোজের আয়োজন রয়েছে। পরদিন ৭ নভেম্বর শনিবার সকাল ৯টায় ধন্যবাদের খ্রিষ্টযাগ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সংবর্ধনা ও দুপুর ১টায় প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।

আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা প্রয়াত ধর্মচরণ ত্রিপুরা ও সাইজমা ত্রিপুরার নবম সন্তান। তিনি চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত নিবেদিতা কুমারী মারীয়ার ধর্মপল্লী, বলীপাড়ার রীসংসং পাড়ার বাসিন্দা।

এদিকে, বহুল প্রতীক্ষিত এই অভিষেক অনুষ্ঠান সফল করতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আয়োজক, ধর্মপল্লীর সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনুষ্ঠানে আগত ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, অতিথি, আত্মীয়স্বজন ও খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের বরণ এবং সার্বিক আয়োজন সম্পন্ন করতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় সাজানো হচ্ছে পুরো আয়োজনস্থল।

সম্প্রদায়ের সদস্যরা মনে করছেন, এই যাজকীয় অভিষেক শুধু ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরার ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নয়, বরং পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অগ্রযাত্রা ও আধ্যাত্মিক বিকাশের ক্ষেত্রেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তাঁর মাধ্যমে ভবিষ্যতে খ্রিষ্টীয় বিশ্বাস, মানবসেবা, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা তাঁদের।

অভিষেক উপলক্ষে বাংলাদেশ ত্রিপুরা খ্রিষ্টান স্টুডেন্টসসহ বিভিন্ন সংগঠন ও পর্যায় থেকে তাঁকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সুস্বাস্থ্য, আধ্যাত্মিক শক্তি এবং সফল যাজকীয় জীবনের জন্য প্রার্থনা করছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে এখন বলীপাড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশ। সবার অপেক্ষা ৬ নভেম্বরের সেই বিশেষ দিনের, যেদিন নতুন যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হবেন ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা।

×