| ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম:

রাজস্থলী উপজেলার কুক্যাছড়ি পাড়ায় স্বাস্থ্য সম্মত তীব্র সুপেয়পানি ‌‌‌‌বহুদিন ধরে সংকটে এলাকাবাসী

রাজস্থলী উপজেলার কুক্যাছড়ি পাড়ায় স্বাস্থ্য সম্মত তীব্র সুপেয়পানি ‌‌‌‌বহুদিন ধরে সংকটে এলাকাবাসী

পানির জন্য হাহাকার খিয়াং সম্প্রদায়

 

চাইথোয়াইমং মারমা, বিশেষ প্রতিবেদক:

স্বাস্থ্যসম্মত সুপেয়পানির দীর্ঘ দিন ধরে সংকট দেখা দিয়েছে পুরো পাহাড় জুড়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ । পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার দুর্গম খিয়াং সম্প্রদায়ের খিয়াং অধ্যুষিত এলাকায় বসবাসকারীদের পানির প্রধান উৎস নদী ও ঝিরি-ঝর্ণা। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি-ঝর্ণার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় ও ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নামার ফলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ে সুপেয় পানি থেকে শুরু করে নিত্য ব্যবহার্য পানিও মিলছে না। তাছাড়া সেসব দূষিত পানি আছে তা পান করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন ওই সমস্ত এলাকার বাসিন্দারা। দূর-দূরান্ত থেকে অনেক কষ্টে পানি সংগ্রহ করে এনে খাওয়াসহ রান্নার কাজে ব্যবহার করতে হচ্ছে সেখানকার স্থানীয়দের। ফলে পাহাড়ে বসবাসরত মানুষের কষ্ট বহু গুণ বেড়েছে।

বিশেষ করে রাঙ্গামাটি জেলায় অন্তর্গত রাজস্থলী উপজেলার ১নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের বড় কুইক্যাছড়ি পাড়া, ছোট কুইক্যা, ধনুছড়ি, শীল ছড়ি পাড়ার দুর্গম এলাকাগুলোতে এখন পানির সংকট। পাহাড়ে পানি প্রধান উৎস ঝিরি-ঝর্ণা কিংবা কুয়া। তবে ছড়াগুলো শুকিয়ে পানির স্তর কমে যাওয়ায় পানি উঠছে না। তাছাড়া প্রকৃতির সবুজ ঘেরা বনাঞ্চল উজাড় করে দেয়ায় ঝিরিগুলোতে পানির দেখা মিলছেনা। যার ফলে সুপেয় পানি থেকে নিত্য ব্যবহার্য পানিও এখন চরম সংকটে। ইতিপূর্বে কয়েকবার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়াতে সংবাদ প্রকাশিত হলেও মেলেনি কোন সুফল। বরং দিনের পর দিন আরো তীব্র আকার ধারণ করেই চলেছে পানির সংকট।

উপজেলার সদর থেকে ৭/৮ কিলোমিটার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় বসবাস করে আসছেন খিয়াং সম্প্রদায়। তাদের মূলত সমস্যা কারণ খাবার পানি। সকাল থেকে কলসিসহ খালি বোতল নিয়ে এসে পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয় কয়েক ঘণ্টা। এমনকি ঝিরি ও ছড়ায় পাথরের ফাঁকে অল্প অল্প করে পানি আসে তা নারীরা মধ্যরাত থেকে পালা করে ভোর পর্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে কোনোমতে পরিবারের খাবার পানি সংগ্রহ করে আসছে।

কুইক্যাছড়ি পাড়ার নারীরা একসঙ্গে পাঁচ-ছয় জন দলবেঁধে ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করতে এসেছেন ভোর বেলায়। ঝিরিটি একটু স্যাঁতস্যাঁতে ও ভেজা। পাথরের মাঝখান দিয়ে খুব অল্প করে পানি বের হয়। পানি জমতে একটু সময় লাগে। দুই-তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর কপালে জুটে ময়লা যুক্ত পানি। পর্যায়ক্রমে পানি নিতে আসেন অন্য নারীরাও। সকালে অন্য কাউকে পানি নেওয়ার সুযোগ দিয়ে ঘরে অন্যান্য কাজ সেরে একটু দেরি করে পানি সংগ্রহ করতে যান তারা। সেখান থেকে প্রথমে মাটির কলসি দিয়ে পানি তোলা হয়, তারপর ছেঁকে কলসিতে সংগ্রহ করা হয়। পরপর পানি নেওয়ার পর অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তবুও এসব ঝিরি-ঝর্ণা ওপর ভরসা করে চলছে পাহাড়ীদের জীবনের সংগ্রাম।

উপজেলার সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পাহাড়েও বৃষ্টির পরিমাণ প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। অবাধে ধ্বংস করা হচ্ছে বন। এসব কারণে পাহাড়ের পানির প্রাকৃতিক জলাধার ও উৎস মুখ দিনে দিনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে পাহাড়ি নৃ-গোষ্ঠীর জনস্বাস্থ্যের উপর।

কুইক্যাছড়ি পাড়ার গীর্জার পুরোহিত চিংচাউ বলছেন, তীব্র পানি সংকট যেন দিনের পর দিন বাড়ছে। প্রকৃতির ধ্বংসের কারণের পাহাড়ের বৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে। বন উজাড়, পাহাড় কর্তন, পাথর উত্তোলনের কারণে পাহাড় এখন মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। তাছাড়া এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে প্রভাবশালীরা। আসলে দেখার কেউ নেই। আমরা ধর্মীয় অনুষ্টানে পানি কিনে অনুষ্টান করতে হচ্ছে।

ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চিংলাউ খিয়াং বলেন, বন উজাড় করার ফলে পানি এখন নাই বললেই চলে। গোসল দূরের কথা খাওয়ার পানি পর্যন্ত সংকট। সন্ধায় হলে পানির জন্য লাইন পড়ে যায়। তাছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল থেকে নলকূপ দিলেও সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে বলে এলাকাবাসীরা জানান ।

গতকয়েক দিন আগে রাজস্থলী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক ও বর্তমান জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম রনি খিয়াং পাড়ায় ক্রীড়ামোদীদের খেলার উপকরণ দিতে গিয়ে পানি সংকটের দৃশ্যটি গোচরে আসে। তিনি আরও বলেন, রাজস্থলী উপজেলার দুর্গম পাহাড়ের সুপেয় পানির সংকট নিরসনের জন্য তিনি পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল সাহেবের সাথে আলাপ করে প্রকল্প নেওয়ার উদ্যােগ হাতে নেয়া হবে বলে জানান। যদি প্রকল্পের অনুমোদন হয় তাহলে পানি সংকট নিরসনের জন্য বাস্তবায়িত জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে আশাব্যক্ত করেন।

ছবি – রাজস্থলী উপজেলার বড় কুইক্যাছড়ি পাড়ার নারীরা ছড়ার কুয়া হতে পানি সংগ্রহ করছেন।

পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের শিক্ষার্থী কোশিক চাকমার জিপিএ-৫ অর্জন, উজ্জ্বল করল মা-বাবার মুখ

রাজস্থলী উপজেলার কুক্যাছড়ি পাড়ায় স্বাস্থ্য সম্মত তীব্র সুপেয়পানি ‌‌‌‌বহুদিন ধরে সংকটে এলাকাবাসী

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা,

বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:

২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় রাঙামাটির কর্ণফুলী সরকারি কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ (এ+) অর্জন করেছে কোশিক চাকমা। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

কোশিক চাকমার পিতা প্রয়াত মিশন চাকমা এবং মাতা ননাবি চাকমা। তার গ্রামের বাড়ি রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার জামেকছড়ি গ্রামে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে সে বিলাইছড়ি উপজেলায়  পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন ( অনাথ আশ্রম) থেকে লেখাপড়া ও বেড়ে উঠেছে।

নিজের এ সাফল্যে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কোশিক জানায়, তার জীবনের এ অর্জনের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান রয়েছে পালবার লিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক পরম শ্রদ্ধেয় ভদন্ত দেবতিষ্য ভিক্ষুর। তাঁর ভালোবাসা, আশীর্বাদ, অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

এ ছাড়া তার বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সে।

কোশিক জানায়, পালবার লিং সেন্টার শিশুসদন শুধু তার বেড়ে ওঠার স্থান নয়, এটি তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেই সে শিক্ষা, ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও সুন্দরভাবে জীবন গড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছে।

তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি যে প্রতিষ্ঠান তাকে আজকের অবস্থানে আসতে সহযোগিতা করেছে, সেই পালবার লিং সেন্টার শিশুসদনের উন্নয়নে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখা। একই সঙ্গে তার মতো অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চায় সে।

কোশিকের ভাষায়, জিপিএ-৫ শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফল নয়; এটি তার জীবনের নতুন স্বপ্ন, আশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

ভবিষ্যতে আরও উচ্চশিক্ষা অর্জন করে একজন ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে সবার আশীর্বাদ ও দোয়া কামনা করেছে কোশিক চাকমা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫১ পিএম

কাপ্তাইয়ে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার

রাজস্থলী উপজেলার কুক্যাছড়ি পাড়ায় স্বাস্থ্য সম্মত তীব্র সুপেয়পানি ‌‌‌‌বহুদিন ধরে সংকটে এলাকাবাসী

 

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি : 

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মোহাম্মদ কাজল (৫৫) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে কাপ্তাই থানা পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) কাপ্তাই উপজেলাধীন কর্ণফুলী কলেজ এলাকা হতে তাকে আটক করা হয়।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মোহাম্মদ কাজলের গ্রামের বাড়ি বরিশাল হলেও তিনি দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী সরকারি কলেজ এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। কিছুদিন পূর্বে তিনি তাঁর প্রতিবেশী ৮ বছরের এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। শুক্রবার ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

ভুক্তভোগী শিশুর পিতা মো. রিপন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাঁর অবুঝ শিশুর সঙ্গে এই জঘন্য অপরাধের ঘটনায় তিনি আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে কেউ আর সাহস না পায়।এ বিষয়ে কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল জানান, শুক্রবার ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত মোহাম্মদ কাজলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও জবানবন্দিতে অভিযুক্ত কাজল শিশুটিকে ধর্ষণ চেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন।ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় কাপ্তাই থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণে যাজক হচ্ছেন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা

রাজস্থলী উপজেলার কুক্যাছড়ি পাড়ায় স্বাস্থ্য সম্মত তীব্র সুপেয়পানি ‌‌‌‌বহুদিন ধরে সংকটে এলাকাবাসী

 

বলীপাড়ায় তিন দিনব্যাপী আয়োজন, অভিষেক ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজকরা

মথি ত্রিপুরা, রুমা, (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। আগামী ৬ নভেম্বর শুক্রবার বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলীপাড়া ধর্মপল্লীতে যাজক পদে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা। চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি তাঁর অভিষেক সম্পন্ন করবেন।

এই অভিষেককে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ, উৎসাহ ও ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। নিজ জাতিগোষ্ঠীর একজন সদস্যকে যাজক হিসেবে পাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাওয়ায় ঘটনাটিকে সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিষেক উপলক্ষে আগামী ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বলীপাড়া ধর্মপল্লীতে তিন দিনব্যাপী ধর্মীয় ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বরণ অনুষ্ঠান, পবিত্র আরাধনা, মঙ্গলানুষ্ঠান, যাজকীয় অভিষেক, ধন্যবাদের খ্রিষ্টযাগ, সংবর্ধনা ও প্রীতিভোজ।

আয়োজকদের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। বিকেল ৫টায় পবিত্র আরাধনা এবং সন্ধ্যা ৬টায় মঙ্গলানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

৬ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৯টায় মূল যাজকীয় অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অভিষেক শেষে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সংবর্ধনা এবং দুপুর ১টায় প্রীতিভোজের আয়োজন রয়েছে। পরদিন ৭ নভেম্বর শনিবার সকাল ৯টায় ধন্যবাদের খ্রিষ্টযাগ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সংবর্ধনা ও দুপুর ১টায় প্রীতিভোজের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।

আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা প্রয়াত ধর্মচরণ ত্রিপুরা ও সাইজমা ত্রিপুরার নবম সন্তান। তিনি চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত নিবেদিতা কুমারী মারীয়ার ধর্মপল্লী, বলীপাড়ার রীসংসং পাড়ার বাসিন্দা।

এদিকে, বহুল প্রতীক্ষিত এই অভিষেক অনুষ্ঠান সফল করতে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আয়োজক, ধর্মপল্লীর সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনুষ্ঠানে আগত ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, অতিথি, আত্মীয়স্বজন ও খ্রিষ্টবিশ্বাসীদের বরণ এবং সার্বিক আয়োজন সম্পন্ন করতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় সাজানো হচ্ছে পুরো আয়োজনস্থল।

সম্প্রদায়ের সদস্যরা মনে করছেন, এই যাজকীয় অভিষেক শুধু ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরার ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নয়, বরং পার্বত্য অঞ্চলের ত্রিপুরা খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অগ্রযাত্রা ও আধ্যাত্মিক বিকাশের ক্ষেত্রেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তাঁর মাধ্যমে ভবিষ্যতে খ্রিষ্টীয় বিশ্বাস, মানবসেবা, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ আরও জোরদার হবে বলে প্রত্যাশা তাঁদের।

অভিষেক উপলক্ষে বাংলাদেশ ত্রিপুরা খ্রিষ্টান স্টুডেন্টসসহ বিভিন্ন সংগঠন ও পর্যায় থেকে তাঁকে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সুস্বাস্থ্য, আধ্যাত্মিক শক্তি এবং সফল যাজকীয় জীবনের জন্য প্রার্থনা করছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে এখন বলীপাড়ায় উৎসবমুখর পরিবেশ। সবার অপেক্ষা ৬ নভেম্বরের সেই বিশেষ দিনের, যেদিন নতুন যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হবেন ডিকন ফ্রান্সিস সাধুমনি ত্রিপুরা।

×