উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :
রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলায় হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন দোকান ও বিক্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল পাওয়া না যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, সিএনজি ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা। একই সঙ্গে কৃষি মৌসুমে সেচ কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো রাজস্থলী উপজেলাতেও পড়তে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগে কিছু কিছু দোকানে সীমিত পরিমাণে জ্বালানি তেল পাওয়া গেলেও গতকাল রাত থেকে হঠাৎ করেই অধিকাংশ দোকান ও বিক্রয়কেন্দ্রে তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
সরজমিনের ঘুরে দেখা যায়,উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক চালক জ্বালানি তেলের জন্য এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কোথাও তেল নেই, আবার কোথাও সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে জরুরি কাজেও অনেকেই যানবাহন ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও ব্যাপক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাত থেকে কয়েকটি দোকানে ঘুরেও তেল পাইনি। অনেক জায়গায় বলা হচ্ছে তেল শেষ হয়ে গেছে। আবার কোথাও কোথাও স্বাভাবিক দামের চেয়ে বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে ,১৪০-১৫০ করে নিচ্ছে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী । এতে আমরা খুবই সমস্যায় পড়েছি।”
প্রাইভেটকার চালক মো. জসিম উদ্দিন জানান, হঠাৎ করে তেলের সংকট তৈরি হওয়ায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে গেছে। অনেক সময় যাত্রী নিয়ে বের হতে পারছি না। এতে আমাদের আয়-রোজগারও কমে গেছে।”
অন্যদিকে তেলের সংকটের কারণে কৃষি কার্যক্রম নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে অনেক কৃষক বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ডিজেলচালিত সেচ পাম্প ব্যবহার করেন। কিন্তু জ্বালানি তেলের অভাবে সেই সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষক উ থুইচিং মারমা বলেন, এখন জমিতে পানি দেওয়ার সময়। যদি ডিজেল না পাওয়া যায় তাহলে ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা খুবই চিন্তায় আছি। দ্রুত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া দরকার।”
আরেক কৃষক মংচিং মারমা বলেন, পাহাড়ি এলাকায় কৃষিকাজ এমনিতেই অনেক কষ্টের। তার উপর যদি জ্বালানি তেলের সংকট থাকে তাহলে চাষাবাদ করা আরও কঠিন হয়ে যায়।”
এদিকে স্থানীয় জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এক তেল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা আগের মতো তেল পাচ্ছি না। সরবরাহ কমে যাওয়ায় দোকানে তেল রাখতে পারছি না। অনেক সময় অল্প কিছু তেল এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জ্বালানি তেলের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে রাজস্থলী উপজেলার পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তাই দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির চেষ্টা করছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হোক। তবেই রাজস্থলীর মানুষের ভোগান্তি কিছুটা লাঘব হবে বলে মনে করছেন তারা।