দুর্গম সাজেকে শহীদ মিনার না থাকায় বাঁশের তৈরি শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
রুপম চাকমা, দিঘীনালা :
পাহাড়ঘেরা দুর্গম জনপদ সাজেক ভ্যালি সাজেক ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চাইল্যাতলী ত্রিপুরা পাড়া বেসরকারি প্রার্থমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও তরুণরা বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনে সাজেকের এই উদ্যোগ স্থানীয়দের দেশপ্রেম ও ভাষার প্রতি ভালোবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
ভোরের আলো ফুটতেই বিভিন্ন বয়সী মানুষ খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নেন। পরে বাঁশ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা। “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি” গানে মুখর হয়ে ওঠে পাহাড়ি জনপদ। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সংশ্লিষ্ট গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমল ত্রিপুরা জানান, সাজেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী শহীদ মিনারের দাবি থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ সংগ্রহ করে রাতারাতি এই প্রতীকী শহীদ মিনার তৈরি করা হয়, যাতে ভাষা শহীদদের স্মরণে কোনো ঘাটতি না থাকে।

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে সারাদেশে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হলেও সাজেকবাসীর এই আয়োজন প্রমাণ করেছে—ভাষা ওম সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতায় থেমে থাকে না।
স্থানীয়রা দ্রুত সাজেকে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আরও সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা যায়।





