সাজেকে কয়েকটি স্থানে পানির সংকট চরম দুর্ভোগে স্থানীয়রা
রুপম চাকমা দিঘীনালা :
পানির জন্য ধুকছে পাহাড়ের মানুষ সুপেয় পানির জন্য ধুকছে রাঙ্গামাটির দুর্গম পাহাড়ি সাজেক ইউনিয়নের এলাকার মানুষ। পাহাড়ে বসবাসের কারণে সারাবছর এসব গ্রামবাসীকে স্থানীয় ঝিরি-ঝরনার পানির ওপর নির্ভর হয়ে জীবনধারণ করতে হয়। ঘরের সব কাজসহ পানি পানের জন্য এ ঝিরি-ঝরনার পানি ব্যবহার করা হয়।
সাধারণত বর্ষার সময় থেকে শীত মৌসুম পর্যন্ত ঝিরি-ঝরনা থেকে পানি সংগ্রহ করা গেলেও মাঘ-ফাল্গুন থেকে পাহাড়ে সুপেয় পানির সঙ্কট দেখা দেয়। সরকারের উদ্যোগে দুর্গম কিছু কিছু পাহাড়ি গ্রামে রিংওয়েল ও টিউবওয়েল স্থাপন করা হলেও শুকনো মৌসুমে এসব থেকে পানি পাওয়া যায় না। গ্রামবাসীরা আশপাশের নিচু জায়গায় কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করলেও শুকনো মৌসুমেও এসব কুয়া শুকিয়ে যায়।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাঙামাটি ১০ জেলার মধ্যে বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ির প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের পানির সঙ্কট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এসব এলাকার মানুষ বেশিরভাগই পাহাড়ের ওপর বসবাসের কারণে গভীর নলকূপও স্থাপন করা সম্ভব হয় না। কিছুটা নিচু জায়গায় পানির স্তর পাওয়া গেলেও সেখান থেকেও পানি সংগ্রহ করতে কষ্ট হয় এসব মানুষের।
বাঘাইছড়ি উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুর্দশন চাকমা জানিয়েছেন, মূলত সমতলের পদ্ধতি ব্যবহার করে পাহাড়ে সুপেয় পানির সংকট নিরসন করা সম্ভব না। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সঠিক মতো পাওয়া যায় না। যার কারণে পাহাড়ে গভীর ও অগভীর নলকূপ স্থাপনের মধ্য দিয়েও পুরোপুরি পানি সঙ্কট সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করেন সুর্দশন চাকমা।

বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের শুকনোছড়া বাসিন্দা লক্ষীবান চাকমা। তার এলাকায় ২০০ পরিবারের বসবাস। মার্চ, এপ্রিল মাস আসলে দিঘীনালা উপজেলা থেকে ট্রাক ভারা করে পানি সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, শীতের পর থেকে গ্রামে পানির কষ্ট বেড়ে যায়। পাশের ঝিরি থেকে অন্যান্য সময় পানি পাওয়া গেলেও শুকনো মৌসুমে সেটাও থাকে না। ছড়া শুকিয়ে সড়কের মত হয়ে যায়। তাই তো ঘণ্টাখানেক পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে পাশের গ্রাম থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। প্রতিদিনের স্নানও হয় না বলে জানান তিনি। লক্ষীবান চাকমা আরো বলেন খাবার পানি নিরসনে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান বরাবর একটি দরখাস্ত প্রদান করা হয়েছে আশা করছি আমাদের দুখ কষ্ট বিবেচনা করে একটি সমাধান আসবে।
সাজেক ইউনিয়নের (ইউপি) সদস্য পরিচয় চাকমা জানিয়েছেন, সাজেকে সারা বছরই খাবার পানির সংকট থাকে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় এবছর অন্যান্য বছরের চেয়ে পানির জন্য হাহাকার বেশি। এলাকাগুলো দুর্গম ও সীমান্তবর্তী হওয়ার কারণে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করাও খুব কঠিন। অনেককেই বসতবাড়ি থেকে ৭০-৮০ ফুট পাহাড়ি পথ বেয়ে নিচে নেমে কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করে। কিন্তু বর্তমানে সেগুলোও শুকিয়ে গেছে।

ঝিরি-ঝরনার পানির ওপর নির্ভরশীল মানুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে পানি বিশুদ্ধকরণে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকার নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী মানুষ মূলত যারা ঝিরি-ঝরনার পানির ওপর নির্ভরশীল শুকনো মৌসুমে তাদের পানির সঙ্কট সবচে বেশি। এসময় এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ঘুরেও পানি পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, যত সময় যাচ্ছে, তত পানির উৎস শুকিয়ে যাচ্ছে। ঝিরি-ঝরনাগুলো মরে যাচ্ছে। এজন্য পানির উৎসসমূহে পানি ধরে রাখতে পানি ধারণ উপযোগী গাছ যেমন চালতা, জলপাই এসব ধরনের গাছ রোপণ করতে হবে। এছাড়া যেসব ঝিরি-ঝরনা শুকিয়ে যাচ্ছে, সেসবও সার্ভে করে ভবিষ্যতে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।




