শিরোনাম:

বাঘাইছড়িতে এতিম ও হাফেজদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

বাঘাইছড়িতে এতিম ও হাফেজদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

 

‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:

‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় এতিম ও হাফেজ শিশু সদনের শিক্ষার্থীদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ‎সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান উপস্থিত থেকে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

‎বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল এবং সৌদি আরব সরকারের উপহার হিসেবে পাঠানো খেজুর। প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগে শিশুদের মাঝে আনন্দ ও সন্তোষের প্রকাশ দেখা যায়। ‎

‎ত্রাণ সামগ্রী বিতরণকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমেনা মারজান বলেন, “অসহায় ও এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এ ধরনের মানবিক কাজে এগিয়ে আসা উচিত। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।” ‎ এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহা, বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুল মাবুদ এবং সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন।

কাপ্তাইয়ের রাইখালীতে মিনি ট্রাক উল্টে চালক নিহত

বাঘাইছড়িতে এতিম ও হাফেজদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

 

উচ্চপ্রু মারমা, রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা থানাধীন রাইখালী এলাকায় একটি মিনি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে রাইখালী ইউনিয়নের কারিগরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে টাইলস ও ওষুধ বোঝাই করে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা একটি ৩ টনের মিনি ট্রাক পাহাড়ি উঁচু সড়কে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাকটি রাস্তার পশ্চিম পাশে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রাকের চালক গুরুতর আহত হন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। নিহত চালকের নাম মো. আজিজুল ইসলাম (৪৪)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার উত্তর আকনপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ন ১৭-৭১৫৫ বলে জানা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকের আহমেদ বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। নিহত চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ি সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও উঁচু-নিচু পথের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তারা সড়কটিতে যানবাহন চলাচলে আরও সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

আলীকদমে পিআইও বিরুদ্ধে কমিশন বানিজ্যের অভিযোগ।

বাঘাইছড়িতে এতিম ও হাফেজদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বান্দরবানের আলীকদমে প্রকল্পের কাজের কমিশন নেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আলীকদম প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কেএম নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তাছাড়া দুটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ওই নিজেই ঠিকাদারী করার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ আছে, আলীকদম নয়াপাড়া ইউনিয়নের দুটি প্রকল্পের ইউপি মহিলা সদস্যকে সভাপতি দেখিয়ে নিজেই প্রকল্পের কাজ করে সেসব কাজের বিলও উত্তোলন করে ফেলেছেন এই দূর্নীতিবাজ পিআইও। কমিশনের বানিজ্য, প্রকল্পের বিল আটকে রাখাসহ ছিল পাহাড় সমান অভিযোগ। এখানে শেষ নয় এর আগেও সুনামগঞ্জে দিরায় উপজেলাতে একই পদে থাকাকালীন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি অভিযোগে ত্রাণ অধিদপ্তরের বদলী করা হয়। সেখানেও তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগের পর শাস্তিমূলক হিসেবে  বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় বদলী করে দেন ত্রাণ অধিদপ্তর। এখানে এসেও সেই দুর্নীতির কার্যক্রম চলমান রেখেছেন  তিনি।

জানা গেছে, প্রতিটি প্রকল্পের জনপ্রতিনিধিদের থেকে অফিসের নানা খরচ দেখিয়ে ১৫ শতাংশ কমিশন নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। কমিশন না দিলে কাজের বিল আটকিয়ে নানা হয়রানি করা হয়। কমিশন ছাড়াও চলতি অর্থ বছরে গ্রামীন কাঠামো টিআর প্রকল্পে নিজের ইচ্ছে মতো কাউকে সভাপতি বানিয়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করে ফেলেছেন নিজেই। আর সেই প্রকল্পের ভুক্তভোগী ৭.৮.৯ ওয়ার্ডের ইউপি নারী সদস্য। পড়ালেখা ও শিক্ষিত না হওয়াতেই নারী সদস্যটিকে প্রকল্পের সভাপতি বানিয়ে এমন লুটপাটের কাজ চালাচ্ছে পি আইও।

জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, কাবিখা, কাবিটা, টিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতিটি কাজের কমিশন হিসেবে ১৫ শতাংশ গ্রহন করে থাকেন। এর আগেও প্রায় ২৫ শতাংশ হিসেবে কমিশন নিতেন পিআইও। শুধু তাই বিভিন্ন প্রকল্পে জনপ্রতিনিধিরা নিয়ম মেনে আবেদন জমা দিলেও প্রকল্পের কাজে নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘কমিশন’ দিলে ফাইলের গতি বদলে যায় আশ্চর্যজনকভাবে। এভাবে প্রতিটি কাজের প্রকল্পের ১৫ শতাংশ কমিশন নেয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের অন্যকে সভাপতি দেখিয়ে নিজেই কাজের বাস্তবায়ন করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আলীকদমে নয়াপাড়া ইউনিয়নে ৯নং ওয়ার্ডের ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে গ্রামীন কাঠামো টিআর ১ম পর্যায়ে প্রকল্পের মেরিনচর পাড়া সোনে স্কুলের রাস্তা মেরামত। সেখানে প্রকল্পের ওই ইউপি নারী সদস্যকে সারথী রানী ত্রিপুরাকে সভাপতি দেয়া থাকলেও মুল প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে পিআইও নিজেই বাস্তবায়ন করছেন। আর সেখানে মুঠোফোন নাম্বার দেয়া থাকলেও মহিলা সদস্য নাম্বার না দিয়ে ভুল নাম্বার সংযুক্ত দেয়া হয়েছে। একই চিত্র বুজিরমুখ পাড়া যাওয়ার রাস্তায় যাত্রী ছাউনি নির্মাণেও। দুটি প্রকল্পের একই মহিলা ইউপি সদস্যকে ব্যবহার করে এই দুটি প্রকল্পের নিজেই ঠিকাদার হয়ে বাস্তবায়ন করেছেন পিআইও। এই দুটি বরাদ্ধ ছিল পাঁচ লাখ টাকা। সেই দুটি প্রকল্পের কাজের বরাদ্ধ ইউপি নারী সদস্য মাধ্যমে বিল তুলে ফেলেছেন পি আইও।

কুরুকপাতা ও নয়াপাড়া দুই ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাংপু ম্রো ও কফিল উদ্দিন বলেন, প্রতিটি কাজে প্রায় ১৫ পার্সেন্ট কমিশন নিয়ে থাকে। কমিশন না দিলে কোন কাজ কিংবা বিল দিচ্ছে না। এর আগেও ২৫ পার্সেন্ট কমিশন নিতেন। এখন কমিয়ে দিয়ে ১৫ শতাংশ কমিশন নেন। তবে সেসব কমিশন বিষয়ে ইউএনও জানেন না  বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছে।

বান্দরবানে ঠিকাদার শামীম হোসেন জানান, উপজেলায় পিআইও থেকে একটি প্যাকেজে দুটি ব্রীজ বরাদ্দ পেয়েছিলাম। দুটি কাজে বরাদ্দই ছিল প্রায় ১কোটি ৭০লাখ। একটি ব্রিজের নানা খরচ দেখিয়ে দশ লাখ করে দুটি ব্রিজে বিশ লাখ টাকা পিআইও আদায় করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা একজন পিআইও বলেন, এসব নিউজের তিনি তোয়াক্কা করে না। এর আগে বহুবার তার নামে অনিয়ম,দুর্নীতি অভিযোগ ছিল। শাস্তিস্বরূপ হিসেবে এখানে বদলী হয়ে এসেছে। যতই লিখুক তার কিছু করতে পারবে না বলে ঘাড় টেরা করে থাকেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এবিষয়ে প্রকল্পের সভাপতি ইউপি মহিলা সদস্য সারথী রানী ত্রিপুরা সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, মেরিনচর পাড়া সনের স্কুলের সামনে যে রাস্তা সেঈ প্রকল্পের সভাপতি আমাকে বানিয়ে পিআইও নিজেই কাজ করেছে। কাজ শেষে করে সব টাকা ওনাকে দিয়ে ফেলেছি। আমার প্রকল্পের কাজেও ১৩ শতাংশ নাম করে ৪৯ হাজার টাকা কেটে ফেলেছে পি আইও। আমি অশিক্ষিত,বুঝিনা ও জানিও না।

অভিযোগের বিষয়ে আলীকদম প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও কেএম নজরুল ইসলাম  বলেন, আপনারা যাই পারেন লিখেন তাতেই আমার যা কিছু আসে না। আমার নামে কত লিখেছে’ সে লেখার কারণে আজ বান্দরবানে আসছি।

এবিষয়ে আলীকদম নির্বাহী অফিসার মঞ্জুর আলম জানান, পিআইও কমিশন বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই আর জানিও না। জনপ্রতিনিধিরা এবিষয়ে আমাকে কোন অভিযোগ করেনি। ঠিকাদার ও কমিশন বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজে ‘ইংলিশ বুস্টার’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

বাঘাইছড়িতে এতিম ও হাফেজদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙ্গামাটি কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক নুরুল আবছার রচিত ব্যতিক্রমধর্মী ইংরেজি শেখার বই ‘ইংলিশ বুস্টার’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বইটির আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়।

​অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন কাপ্তাই নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কমান্ডার মো. আলিফ উল্লাহ (শিক্ষা), বিএন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বইটি লিসেনিং, স্পিকিং, প্রনান্সিয়েশন, প্রেজেন্টেশন ও গ্রামারসহ ইংরেজি ভাষার নানাবিধ দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হবে। বিশেষ করে চ্যাপ্টার অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থী যদি এটি নিয়মিত অনুশীলন করে, তবে ভবিষ্যতে ইংরেজিতে সাবলীলতা অর্জনে বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

​বইটির লেখক প্রভাষক নুরুল আবছার জানান, ‘ইংলিশ বুস্টার’ কেবল একটি প্রথাগত পাঠ্যবই নয়, বরং এটি একটি আধুনিক লার্নিং সিস্টেম। বইটির বিশেষত্ব হলো এতে সংযুক্ত কিউআর (QR) কোড। শিক্ষার্থীরা এই কোড স্ক্যান করে সরাসরি নেটিভ স্পিকারদের ভয়েস শুনে সঠিক উচ্চারণ ও স্বাভাবিক টোন রপ্ত করতে পারবে। যা তাদের লিসেনিং ও স্পোকেন দক্ষতাকে আরও উন্নত করবে।

​বইটিতে সাধারণ গ্রামার ও ভোকাবুলারির পাশাপাশি ডিবেটিং, অ্যাংকরিং, আইইএলটিএস স্পিকিং, ফ্রিল্যান্সিং, এমনকি ক্রিকেট ও ফুটবল কমেন্টারির মতো বৈচিত্র্যময় বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিসিএস ও উচ্চতর শিক্ষার ভাইভা প্রস্তুতির জন্যও এতে বিশেষ মডেল যুক্ত করা হয়েছে। বেসিক থেকে অ্যাডভান্স লেভেল পর্যন্ত ইংরেজি শিখতে ইচ্ছুক সব বয়সী মানুষের জন্য বইটি উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।

​মোড়ক উন্মোচনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ এম জাহাঙ্গীর আলম, কলেজ শাখার সমন্বয়ক মো. কামরুল আলম, মাধ্যমিক শাখার সমন্বয়ক মো. মাহফুজুল হকসহ কলেজের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষকবৃন্দ।

​আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই বইটি ইংরেজি ভীতি দূর করে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

×