শিরোনাম:

বিঝু উৎসবকে সামনে রেখে দিঘীনালায় ১১ সদস্য বিশিষ্ট উদযাপন কমিটি গঠন

বিঝু উৎসবকে সামনে রেখে দিঘীনালায় ১১ সদস্য বিশিষ্ট উদযাপন কমিটি গঠন

 

ভ্রাম্যামাণ প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি :

খাগড়াছড়ির দিঘীনালায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীদের অন্যতম প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব বিঝু উদযাপনকে সামনে রেখে ১১ সদস্য বিশিষ্ট উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে দিঘীনালার লারমা স্কোয়ারে স্থানীয় একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ কমিটি গঠন করা হয়।

সভায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় কার্বারী ও গণ্যমান্য ব্যক্তি ও তরুণ সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উদযাপন কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ২নং বোয়ালখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চয়ন বিকাশ চাকমা এবং উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব বিশিষ্ট সমাজ সেবক বাবু সমির চাকমাসহ ১১ জন বিশিষ্ট সদস্য উদয়াপন কমিটি গঠিত হয়।

সভায় কালাধন চাকমা বলেন, বিঝু উৎসব পাহাড়ি জনগোষ্ঠীদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ উৎসবকে ঘিরে প্রতি বছর দিঘীনালায় নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা ও ঐতিহ্যবাহী খেলা ধুলার আয়োজন করা হয়। এবছরও উৎসবটি আনন্দঘন ও সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, বিঝু উৎসব উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, শোভাযাত্রা এবং বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হবে। উৎসবকে ঘিরে দিঘীনালাবাসীর মধ্যে ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সভা শেষে উৎসবটি সফল করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

বাঘাইছড়িতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ যুবক আটক

বিঝু উৎসবকে সামনে রেখে দিঘীনালায় ১১ সদস্য বিশিষ্ট উদযাপন কমিটি গঠন

 

আনোয়ার হোসেন,
‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৪ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

‎বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ নাছির উদ্দিন মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রবিবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কলেজ পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসআই মো. রাকিবুল হাসান ও এসআই রিয়াজুল ইসলাম রানা’র নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে সাগর হুসাইন মনিরকে আটক করেন।

পুলিশ জানায়, আটক যুবক লংগদু উপজেলার মাইনী এলাকার মৃত তাইজুল ইসলামের ছেলে। তিনি কলেজ পাড়া এলাকায় হাবিব উল্লাহ’র বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

‎বাঘাইছড়ি থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সচেতন মহলের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বোরো ধান রক্ষায় কৃষকদের মরিয়া লড়াই

বিঝু উৎসবকে সামনে রেখে দিঘীনালায় ১১ সদস্য বিশিষ্ট উদযাপন কমিটি গঠন

 

আনোয়ার হোসেন, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ের পানিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার কৃষকরা। মাঠজুড়ে এখন একটাই চিত্র—বোরো ধান বাঁচাতে কৃষকদের অবিরাম লড়াই। প্রকৃতির প্রতিকূল আবহাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রা যেন থেমে গেছে। সারা বছরের কঠোর পরিশ্রম ও স্বপ্ন ভেসে যাচ্ছে পানির স্রোতে।

অতিবৃষ্টি ও পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির প্রভাবে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে শত শত কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক জমিতে পাকা ও আধাপাকা ধান ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও স্রোতের পানিতে ধান ভেসে যাচ্ছে।


স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে তারা হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ের পানির কারণে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় তাদের সব পরিশ্রম এখন হুমকির মুখে।

কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, “আমরা অনেক আশা নিয়ে ধান লাগাইছিলাম। ঋণ করে সার, বীজ, সেচের খরচ দিছি। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল।” আরেক কৃষক জানান, অনেক জমিতে এখনো হাঁটুসমান পানি জমে আছে। দ্রুত পানি না নামলে অবশিষ্ট ধানও পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষকদের চোখে এখন হতাশার ছায়া। তারা বলছেন, এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে একা সম্ভব নয়। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ পেলে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।


স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃষকদের দাবি—ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা প্রদান করা হোক। কারণ কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। প্রকৃতির সঙ্গে এই কঠিন লড়াইয়ে কৃষকরা এখনো হাল ছাড়েননি। তারা আশাবাদী—সময়মতো সহায়তার হাত বাড়ালে আগামীতে আবারও সোনালী বোরো ধানে ভরে উঠবে বাঘাইছড়ির মাঠ।

ডাক্তার না হয়েও ‘ডাক্তার’ পরিচয় ব্যবহার ; রামগড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

বিঝু উৎসবকে সামনে রেখে দিঘীনালায় ১১ সদস্য বিশিষ্ট উদযাপন কমিটি গঠন

 

সাইফুল ইসলাম,

রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি :

খাগড়াছড়ির রামগড় পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কালাডেবা বাজারে ডাক্তার না হয়েও নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবী ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার দায়ে শহিদুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রবিবার (৩ মে) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোহাম্মদ শামীম। এ সময় তাকে হাতেনাতে প্রমাণসহ আটক করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ‘ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। বিষয়টি আইনগতভাবে গুরুতর অপরাধ হওয়ায় প্রযোজ্য আইনের আওতায় এনে তাৎক্ষণিকভাবে এই অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শামীম সাংবাদিকদের জানান, “ডাক্তার না হয়েও ‘ডাক্তার’ পদবী ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ২৮\৩ দ্বারা লঙ্ঘনের অপরাধে তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।”

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ এবিএম মোজাম্মেল হক, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিমসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সাধারণ মানুষ প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবে।।

×