বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২
শিরোনাম:

বাঘাইছড়িতে পালিত হলো ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪৭ পিএম
1 বার পড়া হয়েছে
বাঘাইছড়িতে পালিত হলো ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’


‎বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি :

‎রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ২৫শে মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস।

দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে বক্তারা ১৯৭১ সালের সেই ভয়াল কালরাত্রিতে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানান।

‎একাত্তরের ২৫শে মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরিচালিত Operation Searchlight-এর বর্বরতা স্মরণে বুধবার বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স রুমে এই বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ নাছির উদ্দিন মজুমদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর আলম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওমর আলী, সাধারণ সম্পাদক জাবেদুল আলম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ খাজা, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কবির আহম্মেদ, কাচালং সরকারি কলেজের প্রভাষক মীর কামাল হোসেন, বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি আবদুল মাবুদ এবং কাচালং বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভদ্রসেন চাকমা।

এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

‎আলোচনায় বক্তারা বলেন, সেই ভয়াল রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নির্বিচারে শিক্ষক, ছাত্র, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেছে। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের জন্য তারা পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

‎বক্তারা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্প্রীতির বন্ধনে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান পার্বত্যমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫২ পিএম
বাঘাইছড়িতে পালিত হলো ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’

 

নিউজ ডেক্স, সিএইচটি বার্তা :

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। তিনি পাহাড় ও সমতলের সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।

আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি এসব কথা বলেন।

পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে কিছুটা ভিন্ন ও স্পর্শকাতর। আগামী ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ উৎসব নিয়ে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এবারের উৎসবের নামকরণে কেবল ‘বৈসাবি’ শব্দটি ব্যবহার না করে পাহাড়ের সকল সম্প্রদায়ের নিজস্ব আত্মপরিচয় ফুটিয়ে তোলা হবে। এবার থেকে বিজু-সাংগ্রাই-বৈষু-বিষু-চাংক্রান-সাংক্রান-সাংগ্রাইং-সহ সকল সম্প্রদায়ের বৃহত্তর সামাজিক উৎসবগুলো পালনে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সভায় মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামের বেকারত্ব দূরীকরণ, সরকারি নিয়োগ কার্যক্রম গতিশীল করা এবং শূন্যপদগুলো যথাযথভাবে পূরণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আজকের এ দিনে ঐতিহাসিক ঘটনার গুরুত্বারোপ করে বলেন, আজ ২৫ মার্চ, গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। আমি সেই শোকাবহ দিবসটি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

কাপ্তাইয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৩:১১ পিএম
বাঘাইছড়িতে পালিত হলো ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও বিনম্র শ্রদ্ধায় ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষ ‘কিন্নরী’তে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন-এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান।

সভাপতির বক্তব্যে মোঃ রুহুল আমিন বলেন, “২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে।” জাতির অগ্রগতির পথে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন-এর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,
রাঙামাটি জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ডাঃ রহমত উল্লাহ, কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান রুবেল, বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রুইহ্লা অং মারমা, ​উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ এনামুল হক হাজারী, খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ ঘোষ।

​বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, “পাকিস্তানি ঘাতকরা কেবল নিরীহ সাধারণ মানুষকে হত্যা করেনি, তারা সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের মেধাবী বুদ্ধিজীবীদেরও নিধন করেছিল। তাদের শোষণ ও নির্যাতনের সেই ক্ষত আজও জাতি বয়ে বেড়াচ্ছে। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি, তাদের রক্তেই আজ আমরা স্বাধীন।”

অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আহসান হাবিব, উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা বকতিয়ার উদ্দীনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, শিক্ষক, আনসার ও ভিডিপি সদস্য, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

❝কাপ্তাইয়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট পাম্পে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি, নিয়ন্ত্রণে পুলিশ❞

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ, ২০২৬, ১:২৭ পিএম
বাঘাইছড়িতে পালিত হলো ২৫শে মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’

 

​রিপন মারমা, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি :

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বরইছড়ি সদর এলাকায় জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। তেলের তীব্র সংকট ও সরবরাহ বিপর্যয়ে বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকেই স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল চালকদের কিলোমিটারব্যাপী দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, পর্যটক এবং পেশাজীবী চালকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বরইছড়ি সদরে অবস্থিত ‘আশা অয়েল লিমিটেডে’ সকাল থেকেই মোটরসাইকেলের উপচে পড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে এই লাইন দীর্ঘ হয়ে প্রধান সড়কের একাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। কাপ্তাই একটি অন্যতম পর্যটন এলাকা হওয়ায় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা পর্যটকরা তেলের অভাবে মাঝপথে আটকে পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। ​সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা চালকরা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম মোটরসাইকেল হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্থবির হয়ে পড়েছে।

একজন ভুক্তভোগী চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ​”আমরা দিন আনি দিন খাই। তেলের জন্য সকাল থেকে বসে আছি, কাজ নেই। জরুরি কাজে যারা যেতে চাচ্ছেন তাদেরও নিতে পারছি না। তেল পাব কি না তাও জানি না।” স্টেশনে মাত্রাতিরিক্ত ভিড় ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে কাপ্তাই থানা পুলিশের একটি টিমকে শুরু থেকেই তৎপর দেখা যায়। সারিবদ্ধভাবে যানবাহন দাঁড় করানো এবং লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ছাড়াই যাতে তেল বিক্রয় কার্যক্রম চলে, সেজন্য পুলিশের এই তদারকিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই একটি স্টেশনে ভিড় করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকা অথবা সরবরাহ ব্যবস্থায় ধীরগতিকেই এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া না গেলেও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে যে, সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে ঠিক কখন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস মেলেনি। দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে পর্যটন ও জনজীবন সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

×