শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম:

থানচিতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের পাশে বিএনকেএস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
4 বার পড়া হয়েছে
থানচিতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের পাশে বিএনকেএস

 

চিংথোয়াই অং মার্মা,
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

চলতি বর্ষামৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের থানচি উপজেলার চারশত অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতি (বিএনকেএস)। মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে নগদ অর্থ ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনকেএসের সভানেত্রী নেমকিম বমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এমপি চারশত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে প্রতি পরিবারকে আট হাজার টাকা করে নগদ অর্থ এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেন।

বিএনকেএস এর উপ-পরিচালক উবানু মারমা সঞ্চালনায় বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, বিএনকেএসের নির্বাহী পরিচালক হ্লাসিংনু এবং ৩৮ বিজিবি জোনের প্রতিনিধি মো. ইমামুল আজিম প্রমূখ। এছাড়াও জেলা পরিষদের সদস্য খামলাই ম্রো, সদস্য ও অ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মারমা, থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কানন সরকার, স্থানীয় সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, বিএনকেএসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

এসময় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে থানচির অনেক পরিবার বসতঘর, কৃষিজমি ও জীবিকার নানা উপকরণ হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর এ ধরনের সহায়তা দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি জরুরি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-জীবিকা পুনর্গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠান শেষে চারশত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে পর্যায়ক্রমে আট হাজার টাকা করে নগদ অর্থ ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা বিএনকেএসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

গোবিন্দগঞ্জে পর্ণোভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে পুলিশ নারী সহ ৪ জন গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম
থানচিতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের পাশে বিএনকেএস

 

মানিক সাহা, গাইবান্ধা:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোবাইলে ফোনে পর্ণো ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে পুলিশ নারী সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। এসময় এ কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও পর্ণো ভিডিও তোলার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করেছে। গ্রেফতাকৃতরা হলেন, পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের আশিদুল ইসলাম ওরফে রাশিদুলের কন্যা মামুনী আক্তার (২৪), গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অভিরামপুর হাজিপাড়ার খোরশেদ আলমের ছেলে রাকিবুল হাসান রাকিব (৩০), সাদুল্লাপুর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রেজেনা খাতুন সাথী (২৮) এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের পুত্র মামুন অর রশিদ (৩০)। এ ব্যাপারে থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে।

মামলা সুত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা সহ পলাতকরা দীর্ঘদিন যাবত গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার হীরকপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এই ধরণের অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার বিকেলে পর্ণোগ্রাফি তৈরীর বিভিন্ন সরঞ্জামদি উদ্ধার এবং ৪জনকে গ্রেফতার করে।

এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতের প্রেরণ ও এর সাথে জড়িত পলাতক থাকা অন্যান্যদের গ্রেফতারে তৎপরতা অব্যহত রয়েছে।

আলীকদমে বন্যার্ত ৪ শত পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে চাল বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৭ পিএম
থানচিতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের পাশে বিএনকেএস

 

 ‎সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা, ‎

আলীকদম (বান্দরবান) প্রতিনিধি :

‎বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের মাঝে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ত্রাণ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। ‎

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা সদর ইউনিয়নের জেলা পরিষদ রেস্টহাউস প্রাঙ্গণে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। ‎

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আলীকদম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. সোহেল রানা। ‎ ‎বিশেষ অতিথি ছিলেন বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম রিমন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কপিল উদ্দিন, আলীকদম উপজেলা শ্রমিকদলের আহ্বায়ক সুরত আলম, সদস্য সচিব আফসার উদ্দিন ছোটন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং উপকারভোগী পরিবারসহ কয়েকশ মানুষ। ‎ ‎

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় রয়েছে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

কাপ্তাইয়ে সংরক্ষিত বনে বহুতল ভবন নির্মাণে বন বিভাগের বাধা : ভিন্নখাতে প্রবাহের অপচেষ্টার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১ আগস্ট, ২০২৬, ২:২১ পিএম
থানচিতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের পাশে বিএনকেএস

 

কাপ্তাই প্রতিনিধি :

কাপ্তাই সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীতা পাহাড়ে অবৈধভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজে বন বিভাগ বাধা দেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল এবং অবৈধ কার্যক্রমকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে ফায়দা লুটার উদ্দেশ্যে এই মহলটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে বন বিভাগ অভিযোগ করেছে।

কাপ্তাই বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন কাপ্তাই বন রেঞ্জের রামপাহাড় বন বিটের সীতা পাহাড় ব্লকের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে একটি বহুতল (৩ তলা) ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। খবর পেয়ে কাপ্তাই বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫-১৬ বছর আগে রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের তৎকালীন ডিএফও অসিত রঞ্জন পালের দায়িত্বে থাকাকালে ধ্যানের জন্য সীতা পাহাড়ে একটি ছোট ঘর তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমান স্থানটি এশিয়ান হাতির প্রধান আবাসস্থল। লোকালয় থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সীতা পাহাড় এলাকাটি বন্যহাতির পাল নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, এমন একটি সংবেদনশীল ও সংরক্ষিত এলাকায় নতুন করে কোনো বহুতল স্থাপনা নির্মাণ করা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

কাপ্তাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. জামাল হোসেন তালুকদার বলেন, “অবৈধভাবে হাতির আবাসস্থলে নতুন স্থাপনা নির্মাণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বন আইন অনুযায়ী অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করায় একটি সুবিধাভোগী চক্র বিষয়টি নিয়ে অপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।”

কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান জানান, মন্দিরটি জাঁকজমকপূর্ণ করতে এবং পূজারীসহ লোকসমাগম বাড়াতে সরকারি আইনের তোয়াক্কা না করে রাঙামাটি জেলা পরিষদ থেকে সীতা পাহাড় মন্দির প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২২ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগ ১৯২৭ সালের বন আইনের ২৬ নম্বর ধারার ১(ক), (ঘ) এবং ১ক(ঙ)-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া জাতীয় বননীতি ২০২৫-এর ১(৫) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, “বন বিরুদ্ধ বা বনবহির্ভূত কাজে প্রাকৃতিক বনভূমির ব্যবহার বন্ধ করা হবে।” বন কর্মকর্তা প্রশ্ন তোলেন, আইন প্রণয়নকারী দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও সরকারি বিভাগসমূহ কীভাবে সংরক্ষিত বনের ভেতর এ ধরনের প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ ও উদ্বোধন করেন, যা প্রকারান্তরে রাষ্ট্রের স্বার্থহানি ঘটাচ্ছে।

বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঘটনা দেরিতে নজরে আসে। তবে তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বন বিভাগ কঠোর অবস্থান নেয় এবং কাজ বন্ধ করে দেয়। এর আগে ২০২৫ সালে কাপ্তাই রেঞ্জের শুকনোছড়ি বিটে একটি মাদ্রাসা ও মসজিদ নির্মাণ বন্ধসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে সূত্র জানিয়েছে। ​

বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় উপাসনালয় অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় বন বিভাগকে অনেক সময় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। বনভূমি সুরক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়াতে রাষ্ট্র ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যত্রতত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে সচেতনমহল মনে করছে।

×